১৭ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৯ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক আছেন ১৭ জন। রয়েছেন চারজন কর্মচারীও। এই মাদরাসা থেকে এবারে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৯ জন পরীক্ষার্থী। তাদের একজনও সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদরাসার শিক্ষকদের গাফিলতিতে এমন ফলাফল হয়েছে। শুধু এ বছর নয়, গত ১০ বছর ধরেই এ মাদরাসার দাখিল পরীক্ষায় এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ১৯৭৫ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এমপিওভুক্ত হয় ২০০১ সালে। তবে এমপিওভুক্ত হলেও খুব একটা লাভ হয়নি। মাদরাসায় ভবন সংকট থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নেই পর্যাপ্তসংখ্যক শ্রেণিকক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসাটি প্রত্যন্ত চলনবিল অঞ্চলে ও উপজেলা সদর থেকে ৮/৯ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখানকার অনেক শিক্ষক ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরে বসবাস করেন। ফলে মাদরাসায় শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়মিত নয়। এসব কারণে মাদরাসায় নেই কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থীও। দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ও ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়ালেখা করান না। নিয়মিত আসেন না। শুধু বেতন তোলেন। ফলে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ মাদরাসায় দেন না। নেহায়েত যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার উপায় নেই, তারাই এখানে ভর্তি হয়। তাই ফলাফলও বছরের পর বছর খারাপ হয়ে আসছে।
জানতে চাইলে মাদরাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট জাকির হোসাইন বলেন, ‘গ্রামের ছেলেপেলে ঠিকমতো পড়ে না। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে। মাফ চাই। নিউজ কইরেন না।’
মাদরাসাটির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, আমরাও মাদরাসাটির খারাপ ফলাফলের বিষয়টি জেনেছি। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখব।



















