
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ প্রবেশপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত এক দশক ধরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয়ে আসছে। এবারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে আর শিক্ষক নিয়োগ হবে না। বরং শিক্ষক নিয়োগ হবে আগের মতো ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রী এক ফেসবুক পোস্টে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীর অনুলিপি বলছে ভিন্ন কথা। কার্যবিবরণীতে স্পষ্টতই এনটিআরসির বদলে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের খবর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরে গেলে শিক্ষক নিয়োগে ঘুস, তদবির ও নিয়োগ বাণিজ্য ফিরে আসবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাও তীব্র সমালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলুও জানিয়েছেন প্রায় একই প্রতিক্রিয়া।
২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই যাত্রা শুরু করেছিল এনটিআরসিএ। ওই সময় সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সংস্থাটি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ দিতে শুরু করে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি চালু হওয়ায় নিয়োগে ঘুস বা তদবিরের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চালু হয়।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ আগস্টের ওই সভার কার্যবিবরণী নথি বলছে, সভায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ শুরু করার পর থেকে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এনটিআরসিএতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে এনটিআরসিএ তাদের মূল কাজ তথা শিক্ষকদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নে ফিরে যাবে। আর তাদের প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি।
শিক্ষামন্ত্রী সভায় বলেন, এ প্রক্রিয়ায় ফিরে গেলে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া সম্ভব। সভার উপস্থিতিও শিক্ষামন্ত্রীর এমন ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।
ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিএসসি ( শিক্ষা) গঠন করে তার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছিল। এ দাবির পক্ষে সভা-সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন করা হয়েছিল। পরে সরকার এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করায় মেধাবীরা শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পায়।’
তিনি বলেন, এতে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ক্ষমতা খর্ব হয়। অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীত, ঘুস বাণিজ্য কমে আসে এবং রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা স্বজনপ্রীতি কমে আসে।
শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ফের ম্যানেজিং কমিটির কাছে দিলে শিক্ষা ক্ষেত্রে আবার অরাজকতা তৈরি হবে মন্তব্য করে জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘এতে ঘুস বাণিজ্য চালু হবে, রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষক নিয়োগে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না, শিক্ষালয়ে শিক্ষার মানের অবনতিসহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সরকারকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে বিসিএস (শিক্ষা) গঠন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাই।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিন ফেসবুকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘যদি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে অর্থের বিনিময়ে এরাই (মেধাহীন) আবার নিয়োগ পাবে। পরিশ্রমী ও মেধাবীরা পরাজিত হবে, আবার শুরু হবে স্বজনপ্রীতি ও অর্থের অদৃশ্য লেনদেন। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে আবারও প্রবল অরাজকতা নেমে আসবে।’ দেশবাসীকে এ চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এনটিআরসিএর সুপারিশের বদলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ধারা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পথ রুদ্ধ হবে। ফের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়বে। তারা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুস-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা মনে করি, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়।
ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রটারি জেনারেল বিবৃতিতে আরও বলেন, এনটিআরসিএর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশনের মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে অর্পণের মাধ্যমে সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস ও চরম দলীয়করণের নীল নকশা চূড়ান্ত করছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষিত বেকার তরুণদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও কেড়ে নেওয়া হবে। এখন থেকে ঘুস, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া কেউ স্কুল-কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবে না।
নিজের ভেরিফায়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ লিখেছেন, এতে একদিকে যোগ্য ও মেধাবী তরুণরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুস ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞান ও দক্ষতা গঠনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার এই নীলনকশা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে বলে দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও এ বিষয়ে একই অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, স্কুলগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। বেকার তরুণদের জন্য কোটি কোটি কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলে উলটো কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়ে স্কুলগুলোকে দলীয়করণ করতে চাইছে বিএনপি সরকার।
দলটির দক্ষিণাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস ও দলীকরণের অন্যতম পথ খুলে দেবে। শিক্ষক নিয়োগ হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায়; কোনো স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। তাই শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রাতে এক বিবৃতিতে শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছে বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।
এ ছাড়া ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু। কর্মসূচিতে এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তা দ্রুত বাতিল করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ছাত্রসংগঠন ছাত্রপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে মানেই ঘুষ-বাণিজ্যের পুনরুত্থান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ ‘মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ধ্বংসের পাঁয়তারা’।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদও (জাকসু) বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় জাকসুর জি এস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে কারা থাকা আমরা তারা জানি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দলীয় চাটুকারদের এই পদে রাখা হয়। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই— আপনারা এ ধরনের ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অন্যথায় এর পরিণতি কী হতে পারে তা আপনারা ভালো করেই জানেন।
এ ছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (হাবিপ্রবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ প্রবেশপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত এক দশক ধরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয়ে আসছে। এবারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে আর শিক্ষক নিয়োগ হবে না। বরং শিক্ষক নিয়োগ হবে আগের মতো ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রী এক ফেসবুক পোস্টে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীর অনুলিপি বলছে ভিন্ন কথা। কার্যবিবরণীতে স্পষ্টতই এনটিআরসির বদলে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের খবর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরে গেলে শিক্ষক নিয়োগে ঘুস, তদবির ও নিয়োগ বাণিজ্য ফিরে আসবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাও তীব্র সমালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলুও জানিয়েছেন প্রায় একই প্রতিক্রিয়া।
২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই যাত্রা শুরু করেছিল এনটিআরসিএ। ওই সময় সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সংস্থাটি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ দিতে শুরু করে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি চালু হওয়ায় নিয়োগে ঘুস বা তদবিরের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চালু হয়।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ আগস্টের ওই সভার কার্যবিবরণী নথি বলছে, সভায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ শুরু করার পর থেকে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এনটিআরসিএতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে এনটিআরসিএ তাদের মূল কাজ তথা শিক্ষকদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নে ফিরে যাবে। আর তাদের প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি।
শিক্ষামন্ত্রী সভায় বলেন, এ প্রক্রিয়ায় ফিরে গেলে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া সম্ভব। সভার উপস্থিতিও শিক্ষামন্ত্রীর এমন ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।
ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিএসসি ( শিক্ষা) গঠন করে তার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছিল। এ দাবির পক্ষে সভা-সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন করা হয়েছিল। পরে সরকার এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করায় মেধাবীরা শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পায়।’
তিনি বলেন, এতে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ক্ষমতা খর্ব হয়। অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীত, ঘুস বাণিজ্য কমে আসে এবং রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা স্বজনপ্রীতি কমে আসে।
শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ফের ম্যানেজিং কমিটির কাছে দিলে শিক্ষা ক্ষেত্রে আবার অরাজকতা তৈরি হবে মন্তব্য করে জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘এতে ঘুস বাণিজ্য চালু হবে, রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষক নিয়োগে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না, শিক্ষালয়ে শিক্ষার মানের অবনতিসহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সরকারকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে বিসিএস (শিক্ষা) গঠন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাই।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিন ফেসবুকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘যদি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে অর্থের বিনিময়ে এরাই (মেধাহীন) আবার নিয়োগ পাবে। পরিশ্রমী ও মেধাবীরা পরাজিত হবে, আবার শুরু হবে স্বজনপ্রীতি ও অর্থের অদৃশ্য লেনদেন। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে আবারও প্রবল অরাজকতা নেমে আসবে।’ দেশবাসীকে এ চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এনটিআরসিএর সুপারিশের বদলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ধারা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পথ রুদ্ধ হবে। ফের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়বে। তারা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুস-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা মনে করি, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়।
ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রটারি জেনারেল বিবৃতিতে আরও বলেন, এনটিআরসিএর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশনের মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে অর্পণের মাধ্যমে সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস ও চরম দলীয়করণের নীল নকশা চূড়ান্ত করছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষিত বেকার তরুণদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও কেড়ে নেওয়া হবে। এখন থেকে ঘুস, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া কেউ স্কুল-কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবে না।
নিজের ভেরিফায়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ লিখেছেন, এতে একদিকে যোগ্য ও মেধাবী তরুণরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুস ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞান ও দক্ষতা গঠনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার এই নীলনকশা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে বলে দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও এ বিষয়ে একই অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, স্কুলগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। বেকার তরুণদের জন্য কোটি কোটি কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলে উলটো কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়ে স্কুলগুলোকে দলীয়করণ করতে চাইছে বিএনপি সরকার।
দলটির দক্ষিণাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস ও দলীকরণের অন্যতম পথ খুলে দেবে। শিক্ষক নিয়োগ হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায়; কোনো স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। তাই শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রাতে এক বিবৃতিতে শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছে বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।
এ ছাড়া ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু। কর্মসূচিতে এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তা দ্রুত বাতিল করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ছাত্রসংগঠন ছাত্রপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে মানেই ঘুষ-বাণিজ্যের পুনরুত্থান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ ‘মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ধ্বংসের পাঁয়তারা’।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদও (জাকসু) বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় জাকসুর জি এস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে কারা থাকা আমরা তারা জানি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দলীয় চাটুকারদের এই পদে রাখা হয়। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই— আপনারা এ ধরনের ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অন্যথায় এর পরিণতি কী হতে পারে তা আপনারা ভালো করেই জানেন।
এ ছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (হাবিপ্রবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান তার সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে গত ১১ বছর ধরে, সে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এনটিআরসিএ কেবল ২০০৫ সালের মূল আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ ক
৪ ঘণ্টা আগে
এক মাস পর সে মামলাতেও জামিন পেলেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বললেও পুলিশ আবার নতুন কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
৫ ঘণ্টা আগে
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টির এই ফলাফলের তথ্য জানা যায়।
৬ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্র সংস্কারের বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) কিংবা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) খুব বেশি অমিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশ ও জনগণের উন্নয়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম
৭ ঘণ্টা আগে