
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটতে শুরু করেছিল লাখো রোহিঙ্গা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ। আগের কয়েক দফায় আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিলিয়ে কক্সবাজারে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি।
সেই রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্ণ হলো, পা রাখল ১০ বছরে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বরং নতুন করে রাখাইনে সংঘাত শুরু হওয়ায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়েছে। ফলে যে সংকটকে শুরুতে সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে।
৯ বছরে ফেরেনি একজনও
২০১৭ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে দুই দেশ প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি করে। পরে প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকা তৈরি, যাচাই-বাছাই এবং সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের তারিখও নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, অধিকার ও রাখাইনের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর কেটে গেছে আরও কয়েক বছর। এর মধ্যে মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাখাইনেও মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত তীব্র হয়েছে। ফলে যে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের সমঝোতা করেছিল, সেই মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাই এখন অনেক বদলে গেছে।
‘তিন লাখ’ নিয়ে নতুন বিতর্ক
রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর পূর্তির আগে ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে। মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশ তাদের যে আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে মিয়ানমার এই মানুষদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং একই বক্তব্যে তারা দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ, একদিকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে কিছু মানুষকে শনাক্ত করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা হচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো— এই যাচাইয়ের পর কবে প্রত্যাবাসন শুরু হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মিয়ানমার দেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, রাখাইনে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে’ প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে। ফলে ঢাকার কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু ‘কতজনকে ফিরিয়ে নেবে’ নয়; বরং কোন পরিচয়ে, কোন অধিকার নিয়ে এবং কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে— সেটিও বড় প্রশ্ন।
রোহিঙ্গা নেতারাও মিয়ানমারের নতুন ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, তিন লাখের কিছু বেশি মানুষকে গ্রহণের কথা বলে মিয়ানমার মূল সংকটকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।
ঢাকার অবস্থান আগের মতোই
বাংলাদেশ শুরু থেকেই বলে আসছে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের।
গত রোববার ঢাকায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংকটকে আরেক দশকে টেনে নেওয়া যাবে না। রোহিঙ্গাদের শুধু খাবার, আশ্রয় বা মানবিক সহায়তা নয়— নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ দেওয়া নয়, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করে তাদের নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি করাও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইমন মোহসিন রাজনীতি ডটকমকে।বলেন, মিয়ানমার অনেক বড় একটি দেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে হলে কেবল এই ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারকে আটকে থাকলে চলবে না, সার্বিকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে সম্পর্ক রাখবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
সাইমন মোহসিন আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে চীম-ভারত থেকে শুরু করে জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করতে হবেম সার্বিক একটি রূপরেখা তৈরি করে সে অনুযায়ী মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে— আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে মানবিক সহায়তার চাহিদা বেড়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক দাতাদের আগ্রহ ও অর্থায়ন আগের তুলনায় কমেছে।
২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের যৌথ পরিকল্পনায় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এটি আগের বছরের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম। মে মাসের শেষ নাগাদ পরিকল্পনাটি প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছিল। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এরই মধ্যে একটি ‘হাইপার-প্রায়োরিটাইজড’ বা ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে।
অর্থাৎ, অর্থের সংকট এখন শুধু নতুন কোনো প্রকল্প বন্ধ হওয়ার বিষয় নয়; খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সেবাও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতির কারণে এসব সেবায় কাটছাঁট হচ্ছে এবং বহু সহায়তাকর্মী ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক কাজ হারিয়েছেন।
খাবারেও অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে খাদ্যসহায়তায়। ২০২৩ সালে অর্থের অভাবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্যসহায়তা কয়েক দফায় কমিয়ে ৮ ডলারে নামিয়ে এনেছিল। পরে অনুদান পেলে তা বাড়ানো হয়। ওই সময় ডব্লিউএফপির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রেশন কমার পর ৯০ শতাংশ শরণার্থী পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারছিল না এবং শিশুদের তীব্র অপুষ্টিও বেড়ে যায়।
২০২৫ সালের মার্চে পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায়। অর্থের সংকটে ডব্লিউএফপি ঘোষণা দেয়, এপ্রিল থেকে জনপ্রতি মাসিক খাদ্যসহায়তা ১২.ল দশমিক ৫০ ডলার থেকে ৬ ডলারে নামিয়ে আনা হবে। সংস্থাটি তখন জানায়, পূর্ণ রেশন চালু রাখতে এপ্রিলের জন্য ১৫ মিলিয়ন এবং ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত আরও ৮১ মিলিয়ন ডলার জরুরি প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ায় সেই বড় ধরনের কাটছাঁট বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কক্সবাজারে জনপ্রতি ১২ ডলার এবং ভাসানচরে ১৩ ডলার রেশন নিশ্চিত করা হয়।
কিন্তু অর্থের সংকট যে কাটেনি, তার প্রমাণ ২০২৬ সালেও পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর এপ্রিল থেকে রেশন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের ১২ ডলার, মাঝারি ঝুঁকির জন্য ১০ ডলার এবং অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির জন্য ৭ ডলার।
বাংলাদেশের ওপর বাড়ছে চাপ
৯ বছর ধরে প্রায় ১২ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের জন্য বিশাল মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে নতুন করে রাখাইন থেকে আসা মানুষ যোগ হয়েছে। ফলে মোট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রায় ১৫ লাখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে নিবন্ধিত সংখ্যা অবশ্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১২ লাখ ২ হাজারের কিছু বেশি।
এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী বসতিতে পরিণত করেছে। সীমিত জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে এত বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করায় বন উজাড়, পাহাড় কাটা, পানি ও পরিবেশের ওপর চাপ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
পাশাপাশি ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ। মাদক পাচার, মানবপাচার, অপহরণ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত এবং তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সঙ্গে আরও প্রকট হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের বৈধ সুযোগ সীমিত থাকায় তরুণদের বড় অংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
নতুন বাস্তবতায় পুরোনো সমাধান কি যথেষ্ট?
২০১৭ সালে বাংলাদেশের সামনে মূল লক্ষ্য ছিল— দ্রুত প্রত্যাবাসন। ৯ বছর পর সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বরং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ, রাখাইনে আরাকান আর্মির উত্থান, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতি সংকটকে আগের চেয়ে আরও জটিল করেছে।
এ বাস্তবতায় শুধু ঢাকা-নেপিডো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর নির্ভর করে সমাধান পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ, রাখাইনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রত্যাবাসনের পর তাদের নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা— সবগুলো বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
কারণ, বাংলাদেশ যতদিনই আশ্রয় দিক না কেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সম্ভব নয়। একইভাবে শুধু খাদ্য ও ত্রাণ দিয়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
৯ বছর আগে যে মানুষগুলো প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়েছিল, তাদের বড় অংশ এখনো একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে— কবে ফিরবে তারা নিজেদের বাড়িতে?
৯ বছরেও সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বরং রোহিঙ্গা সংকট এখন এমন এক দশকে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়াই বাংলাদেশের জন্য নতুন এবং আরও কঠিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। ফলে আগামী এক দশক যেন আরেকটি ‘অপেক্ষার দশক’ না হয়— এখন সেটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটতে শুরু করেছিল লাখো রোহিঙ্গা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ। আগের কয়েক দফায় আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিলিয়ে কক্সবাজারে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি।
সেই রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্ণ হলো, পা রাখল ১০ বছরে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বরং নতুন করে রাখাইনে সংঘাত শুরু হওয়ায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়েছে। ফলে যে সংকটকে শুরুতে সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে।
৯ বছরে ফেরেনি একজনও
২০১৭ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে দুই দেশ প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি করে। পরে প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকা তৈরি, যাচাই-বাছাই এবং সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের তারিখও নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, অধিকার ও রাখাইনের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর কেটে গেছে আরও কয়েক বছর। এর মধ্যে মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাখাইনেও মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত তীব্র হয়েছে। ফলে যে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের সমঝোতা করেছিল, সেই মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাই এখন অনেক বদলে গেছে।
‘তিন লাখ’ নিয়ে নতুন বিতর্ক
রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর পূর্তির আগে ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে। মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশ তাদের যে আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে মিয়ানমার এই মানুষদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং একই বক্তব্যে তারা দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ, একদিকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে কিছু মানুষকে শনাক্ত করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা হচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো— এই যাচাইয়ের পর কবে প্রত্যাবাসন শুরু হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মিয়ানমার দেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, রাখাইনে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে’ প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে। ফলে ঢাকার কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু ‘কতজনকে ফিরিয়ে নেবে’ নয়; বরং কোন পরিচয়ে, কোন অধিকার নিয়ে এবং কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে— সেটিও বড় প্রশ্ন।
রোহিঙ্গা নেতারাও মিয়ানমারের নতুন ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, তিন লাখের কিছু বেশি মানুষকে গ্রহণের কথা বলে মিয়ানমার মূল সংকটকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।
ঢাকার অবস্থান আগের মতোই
বাংলাদেশ শুরু থেকেই বলে আসছে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের।
গত রোববার ঢাকায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংকটকে আরেক দশকে টেনে নেওয়া যাবে না। রোহিঙ্গাদের শুধু খাবার, আশ্রয় বা মানবিক সহায়তা নয়— নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ দেওয়া নয়, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করে তাদের নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি করাও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইমন মোহসিন রাজনীতি ডটকমকে।বলেন, মিয়ানমার অনেক বড় একটি দেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে হলে কেবল এই ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারকে আটকে থাকলে চলবে না, সার্বিকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে সম্পর্ক রাখবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
সাইমন মোহসিন আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে চীম-ভারত থেকে শুরু করে জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করতে হবেম সার্বিক একটি রূপরেখা তৈরি করে সে অনুযায়ী মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে— আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে মানবিক সহায়তার চাহিদা বেড়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক দাতাদের আগ্রহ ও অর্থায়ন আগের তুলনায় কমেছে।
২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের যৌথ পরিকল্পনায় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এটি আগের বছরের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম। মে মাসের শেষ নাগাদ পরিকল্পনাটি প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছিল। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এরই মধ্যে একটি ‘হাইপার-প্রায়োরিটাইজড’ বা ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে।
অর্থাৎ, অর্থের সংকট এখন শুধু নতুন কোনো প্রকল্প বন্ধ হওয়ার বিষয় নয়; খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সেবাও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতির কারণে এসব সেবায় কাটছাঁট হচ্ছে এবং বহু সহায়তাকর্মী ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক কাজ হারিয়েছেন।
খাবারেও অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে খাদ্যসহায়তায়। ২০২৩ সালে অর্থের অভাবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্যসহায়তা কয়েক দফায় কমিয়ে ৮ ডলারে নামিয়ে এনেছিল। পরে অনুদান পেলে তা বাড়ানো হয়। ওই সময় ডব্লিউএফপির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রেশন কমার পর ৯০ শতাংশ শরণার্থী পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারছিল না এবং শিশুদের তীব্র অপুষ্টিও বেড়ে যায়।
২০২৫ সালের মার্চে পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায়। অর্থের সংকটে ডব্লিউএফপি ঘোষণা দেয়, এপ্রিল থেকে জনপ্রতি মাসিক খাদ্যসহায়তা ১২.ল দশমিক ৫০ ডলার থেকে ৬ ডলারে নামিয়ে আনা হবে। সংস্থাটি তখন জানায়, পূর্ণ রেশন চালু রাখতে এপ্রিলের জন্য ১৫ মিলিয়ন এবং ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত আরও ৮১ মিলিয়ন ডলার জরুরি প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ায় সেই বড় ধরনের কাটছাঁট বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কক্সবাজারে জনপ্রতি ১২ ডলার এবং ভাসানচরে ১৩ ডলার রেশন নিশ্চিত করা হয়।
কিন্তু অর্থের সংকট যে কাটেনি, তার প্রমাণ ২০২৬ সালেও পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর এপ্রিল থেকে রেশন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের ১২ ডলার, মাঝারি ঝুঁকির জন্য ১০ ডলার এবং অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির জন্য ৭ ডলার।
বাংলাদেশের ওপর বাড়ছে চাপ
৯ বছর ধরে প্রায় ১২ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের জন্য বিশাল মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে নতুন করে রাখাইন থেকে আসা মানুষ যোগ হয়েছে। ফলে মোট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রায় ১৫ লাখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে নিবন্ধিত সংখ্যা অবশ্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১২ লাখ ২ হাজারের কিছু বেশি।
এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী বসতিতে পরিণত করেছে। সীমিত জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে এত বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করায় বন উজাড়, পাহাড় কাটা, পানি ও পরিবেশের ওপর চাপ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
পাশাপাশি ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ। মাদক পাচার, মানবপাচার, অপহরণ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত এবং তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সঙ্গে আরও প্রকট হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের বৈধ সুযোগ সীমিত থাকায় তরুণদের বড় অংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
নতুন বাস্তবতায় পুরোনো সমাধান কি যথেষ্ট?
২০১৭ সালে বাংলাদেশের সামনে মূল লক্ষ্য ছিল— দ্রুত প্রত্যাবাসন। ৯ বছর পর সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বরং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ, রাখাইনে আরাকান আর্মির উত্থান, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতি সংকটকে আগের চেয়ে আরও জটিল করেছে।
এ বাস্তবতায় শুধু ঢাকা-নেপিডো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর নির্ভর করে সমাধান পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ, রাখাইনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রত্যাবাসনের পর তাদের নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা— সবগুলো বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
কারণ, বাংলাদেশ যতদিনই আশ্রয় দিক না কেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সম্ভব নয়। একইভাবে শুধু খাদ্য ও ত্রাণ দিয়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
৯ বছর আগে যে মানুষগুলো প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়েছিল, তাদের বড় অংশ এখনো একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে— কবে ফিরবে তারা নিজেদের বাড়িতে?
৯ বছরেও সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বরং রোহিঙ্গা সংকট এখন এমন এক দশকে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়াই বাংলাদেশের জন্য নতুন এবং আরও কঠিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। ফলে আগামী এক দশক যেন আরেকটি ‘অপেক্ষার দশক’ না হয়— এখন সেটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালীতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা চালায়।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত এই তিন মাসেই সারাদেশে ৯৩৪টি খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অর্থাৎ তিন মাসে গড়ে ৩০০র বেশি খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেই হিসেবে দৈনিক খুনের ঘটনা ঘটেছে ১০টিরও বেশি।
৫ ঘণ্টা আগে
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভায় চাহিদামতো ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফরমানুল ইসলামের ওপর চড়াও হন আসামিরা। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পুলিশ বাহিনীর অধীনে পরিচালিত হবে। পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করবেন। আইনে বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন এবং বিচার পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে