
নাজমুল ইসলাম হৃদয়

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে ও পরে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত অফিস আদেশও জারি করেছে। তাতে নিশ্চিত হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে আর শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না। ফলে ফের ভর্তি পরীক্ষাতেই ফিরছে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পদ্ধতি।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ সিদ্ধান্তকে মেধার জয়গান হিসেবে দেখলেও অভিভাবক ও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, লটারি পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি থাকলেও এটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার জন্য সমতার সুযোগ তৈরি করেছিল। সে পদ্ধতি বাতিলের মাধ্যমে সেই সমতা আর থাকবে না।
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কথাও বলছেন অভিভাবকরা। তাছাড়া প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগেই পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে তাদের শৈশবকে যেমন চাপের মধ্যে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমন ভর্তি বাণিজ্যকেই ফিরিয়ে আনা হবে বলেও যুক্তি তাদের। ভর্তি পদ্ধতি যাই হোক না কেন, কোচিং বাণিজ্য ফিরে আসার বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সবাই-ই।
স্কুলে ভর্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত গত রোববার, জাতীয় সংসদে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে ভর্তির প্রক্রিয়াটি পরিবর্তন করা হবে কি না। ‘অ্যাডমিশন বাই লটারি’ বহাল রেখে মেধাকে সবসময় দমিয়ে রাখা হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লটারি পদ্ধতি কতটা যৌক্তিক— তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তাই আগামী বছর ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।
অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও পরদিন সোমবার বিকেলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, লটারি পদ্ধতি থাকছে না। এর বদলে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, যা কোনো বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা হতে পারে না। আমরা লটারি প্রথা বাতিল করে মেধার জয়গান গাইতে চাই। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেই সরকার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কারণ মেধা যাচাইয়ের কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।
পরে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শাখা থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর বদলে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
লটারিতে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। তারাও শিক্ষামন্ত্রী ও হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো লটারি প্রথাকে ‘মেধা বিনাশী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের দাবি করে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন চালুর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বিবৃতিতে বলেছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের সূচনা। তাই শুধুমাত্র লটারির ওপর নির্ভর না করে একটি মানবিক, পর্যবেক্ষণভিত্তিক ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হলে তা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক কার্যকর হতে পারে।
তবে এর বিপরীত অভিমতও এসেছে অনেক। অভিভাবকদের অনেকেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেওয়াকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমানের মেয়ের বয়স ৫ বছর। আগামী বছর মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে চান তিনি। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘মেয়ে স্কুলে যাবেই তো শিখতে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ভর্তি পরীক্ষা নিলে দেখা যাবে ওদের সিলেবাসের চেয়ে বেশি পড়ালেখা ভর্তির আগেই করতে হবে! এগুলো বাচ্চাদের ওপর মানসিক নির্যাতনের সমতুল্য। শিশুদের শৈশবের যে আনন্দ, এর মাধ্যমে তা নষ্ট করে দেওয়া হবে।’
কানাডা প্রবাসী লেখক-গবেষক ড. মঞ্জুরে খোদা টরিকও বলেছেন একই কথা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘শিশুশিক্ষা বা প্রথম শ্রেণিতে যারা ভর্তি হয় তাদের বয়স ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। এ সময় শিশুরা কেবল তাদের মতো করে কথাবার্তা ও যোগাযোগ করতে শেখে। শিশুরা তখন প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি এমন পর্যায়ে থাকে না যে তাদের মেধা ও জানা-শোনা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই যোগ্য। সেটা করা মানে শিশুদের প্রতি অবিচার ও অভিভাবকদের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করা।’
ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শৈশব কেড়ে নেওয়ার শঙ্কার সঙ্গে একমত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরীও। একই সঙ্গে লটারির বদলে মেধা যাচাইয়ের নামে ভর্তি পরীক্ষা চালুকে তিনি সমতার পরিপন্থি বলেও অভিহিত করছেন।
রাশেদা কে চৌধূরী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘লটারি পদ্ধতিটি ত্রুটিমুক্ত না হলেও এর একটি ইতিবাচক দিক ছিল যে লটারির ফর্ম পূরণ করে ঢাকার যেকোনো নামি-দামি স্কুলে যেকোনো আর্থসামাজিক অবস্থার মানুষের সন্তান ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করতে পারত। এ পদ্ধতি শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের জন্যও ভিকারুননিসা বা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছিল। লটারি পদ্ধতি বাতিল হয়ে গেলে সমতার এই সুযোগ আমরা হারিয়ে ফেলব।’
‘প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার অর্থ— শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে তাদের শৈশব কমিয়ে দেওয়া। অথচ শিক্ষা যেখানে সবার অধিকার, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে পরীক্ষার মাধ্যমে শুরুতেই বাদ দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সমীচীন নয়,’— বলেন রাশেদা কে চৌধূরী।
শিশুদের ওপর চাপ তৈরির পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে তা ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্যকে উৎসাহ দেবে বলে মনে করছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু। শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও পরে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা নিয়ে উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
জিয়াউল কবির দুলু রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘অংশীজনদের সঙ্গে কোনো কার্যকর বৈঠক ছাড়া এমন তড়িঘড়ি ঘোষণার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো কোচিংবাজ শিক্ষকদের সুবিধা করে দেওয়া। ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে আবার কোচিং বাণিজ্য ও দুর্নীতি ডালপালা মেলবে।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘আমি দেখেছি, স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের বিশাল সিন্ডিকেট থাকে। প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুসের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তির চুক্তি করেন। এসব ক্ষেত্রে বিশেষ কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে উত্তর বলে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়া, খাতা মূল্যায়নে সময় নম্বর পরিবর্তন বা খাতা প্রতিস্থাপনের মতো চূড়ান্ত অনিয়ম-দুর্নীতিও ঘটে থাকে। আসন সংখ্যা প্রকাশ্যে কম দেখিয়ে বাকি আসনে দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনাও অহরহ ঘটেছে।’
‘যেখানে শিক্ষকদের নৈতিকতার এমন অবক্ষয় বিদ্যমান, সেখানে ভর্তি পরীক্ষা মূলত টাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়। আমি মনে করি প্রথম শ্রেণির বাচ্চাদের জন্য কোনো পরীক্ষাই হওয়া উচিত নয়। যে শিশুটি এখনো অ-আ-ক-খ শেখেনি, তাকে ভর্তির আগেই মেধা যাচাইয়ের নামে মানসিক চাপের মুখে ফেলা চরম হঠকারিতা,’— বলেন জিয়াউল কবির দুলু।
জালিয়াতি ও কোচিং বাণিজ্যের ভয়াবহ আশঙ্কার মুখে অবশ্য অভিভাবকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনেই তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। আমরা সেটার লাগাম টেনে ধরব।’
“প্রয়োজনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইনহাউজ কোচিং’ বা বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। আর ক্লাস ওয়ানে তো আমরা ওদের নিউরোসার্জন বানাব না, পরীক্ষা হবে অত্যন্ত সহজ ও শিশুবান্ধব, যেন শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়,”— বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
কোচিং বাণিজ্য নিয়ে মন্ত্রীর আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি মনে করেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ পদ্ধতি তথা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার এলাকার নিকটতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির পদ্ধতি চালু করার কথা বলেন তিনি।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘আদর্শ বিকল্প হলো প্রতিটি বাচ্চার জন্য নিজ এলাকায় ভালো স্কুল নিশ্চিত করা। বর্তমানে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ আছে, এটিকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা যেত। এতে নামি স্কুলে ভর্তি হওয়ার অসম প্রতিযোগিতা ও মাত্রাতিরিক্ত ভিড় সামলানো সহজ হতো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানও একই অভিমত দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের বসবাসের সংলগ্ন এলাকার স্কুলেই ভর্তি করতে হবে। প্রয়োজনে স্কুলগুলোর মান উন্নত করতে হবে। এতে মিরপুরের শিক্ষার্থীদের ভিকারুননিসা-হলিক্রসে ভর্তি করানোর চেষ্টাও বন্ধ হবে।
কানাডা প্রবাসী ড. মঞ্জুরে খোদা টরিকও ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’কেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সমাধান মনে করেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশের এই প্রচলিত অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থেকে বেড়িয়ে আসতে ‘জোনিং বা ম্যাপিং স্কুল সিস্টেম’ চালু করতে হবে। যে শিক্ষার্থী যে এলাকায় বাস করে, তাকে সেই এলাকার স্কুলে যেতে, পড়তে বাধ্য করতে হবে। এক এলাকার ছেলেমেয়ে অন্য এলাকায় যেতে বা পড়তে পারবে না!
সার্বিকভাবে হুটহাট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে এক পদ্ধতি বাতিল করে অন্য পদ্ধতি চালুর বদলে শিক্ষা খাতের কার্যকর সংস্কারে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন ও একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের পরামর্শ দিলেন রাশেদা কে চৌধূরী।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে ও পরে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত অফিস আদেশও জারি করেছে। তাতে নিশ্চিত হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে আর শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না। ফলে ফের ভর্তি পরীক্ষাতেই ফিরছে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পদ্ধতি।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ সিদ্ধান্তকে মেধার জয়গান হিসেবে দেখলেও অভিভাবক ও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, লটারি পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি থাকলেও এটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার জন্য সমতার সুযোগ তৈরি করেছিল। সে পদ্ধতি বাতিলের মাধ্যমে সেই সমতা আর থাকবে না।
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কথাও বলছেন অভিভাবকরা। তাছাড়া প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগেই পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে তাদের শৈশবকে যেমন চাপের মধ্যে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমন ভর্তি বাণিজ্যকেই ফিরিয়ে আনা হবে বলেও যুক্তি তাদের। ভর্তি পদ্ধতি যাই হোক না কেন, কোচিং বাণিজ্য ফিরে আসার বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সবাই-ই।
স্কুলে ভর্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত গত রোববার, জাতীয় সংসদে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে ভর্তির প্রক্রিয়াটি পরিবর্তন করা হবে কি না। ‘অ্যাডমিশন বাই লটারি’ বহাল রেখে মেধাকে সবসময় দমিয়ে রাখা হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লটারি পদ্ধতি কতটা যৌক্তিক— তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তাই আগামী বছর ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।
অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও পরদিন সোমবার বিকেলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, লটারি পদ্ধতি থাকছে না। এর বদলে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, যা কোনো বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা হতে পারে না। আমরা লটারি প্রথা বাতিল করে মেধার জয়গান গাইতে চাই। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেই সরকার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কারণ মেধা যাচাইয়ের কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।
পরে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শাখা থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর বদলে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
লটারিতে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। তারাও শিক্ষামন্ত্রী ও হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো লটারি প্রথাকে ‘মেধা বিনাশী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের দাবি করে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন চালুর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বিবৃতিতে বলেছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের সূচনা। তাই শুধুমাত্র লটারির ওপর নির্ভর না করে একটি মানবিক, পর্যবেক্ষণভিত্তিক ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হলে তা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক কার্যকর হতে পারে।
তবে এর বিপরীত অভিমতও এসেছে অনেক। অভিভাবকদের অনেকেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেওয়াকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমানের মেয়ের বয়স ৫ বছর। আগামী বছর মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে চান তিনি। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘মেয়ে স্কুলে যাবেই তো শিখতে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ভর্তি পরীক্ষা নিলে দেখা যাবে ওদের সিলেবাসের চেয়ে বেশি পড়ালেখা ভর্তির আগেই করতে হবে! এগুলো বাচ্চাদের ওপর মানসিক নির্যাতনের সমতুল্য। শিশুদের শৈশবের যে আনন্দ, এর মাধ্যমে তা নষ্ট করে দেওয়া হবে।’
কানাডা প্রবাসী লেখক-গবেষক ড. মঞ্জুরে খোদা টরিকও বলেছেন একই কথা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘শিশুশিক্ষা বা প্রথম শ্রেণিতে যারা ভর্তি হয় তাদের বয়স ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। এ সময় শিশুরা কেবল তাদের মতো করে কথাবার্তা ও যোগাযোগ করতে শেখে। শিশুরা তখন প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি এমন পর্যায়ে থাকে না যে তাদের মেধা ও জানা-শোনা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই যোগ্য। সেটা করা মানে শিশুদের প্রতি অবিচার ও অভিভাবকদের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করা।’
ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শৈশব কেড়ে নেওয়ার শঙ্কার সঙ্গে একমত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরীও। একই সঙ্গে লটারির বদলে মেধা যাচাইয়ের নামে ভর্তি পরীক্ষা চালুকে তিনি সমতার পরিপন্থি বলেও অভিহিত করছেন।
রাশেদা কে চৌধূরী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘লটারি পদ্ধতিটি ত্রুটিমুক্ত না হলেও এর একটি ইতিবাচক দিক ছিল যে লটারির ফর্ম পূরণ করে ঢাকার যেকোনো নামি-দামি স্কুলে যেকোনো আর্থসামাজিক অবস্থার মানুষের সন্তান ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করতে পারত। এ পদ্ধতি শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের জন্যও ভিকারুননিসা বা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছিল। লটারি পদ্ধতি বাতিল হয়ে গেলে সমতার এই সুযোগ আমরা হারিয়ে ফেলব।’
‘প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার অর্থ— শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে তাদের শৈশব কমিয়ে দেওয়া। অথচ শিক্ষা যেখানে সবার অধিকার, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে পরীক্ষার মাধ্যমে শুরুতেই বাদ দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সমীচীন নয়,’— বলেন রাশেদা কে চৌধূরী।
শিশুদের ওপর চাপ তৈরির পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে তা ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্যকে উৎসাহ দেবে বলে মনে করছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু। শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও পরে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা নিয়ে উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
জিয়াউল কবির দুলু রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘অংশীজনদের সঙ্গে কোনো কার্যকর বৈঠক ছাড়া এমন তড়িঘড়ি ঘোষণার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো কোচিংবাজ শিক্ষকদের সুবিধা করে দেওয়া। ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে আবার কোচিং বাণিজ্য ও দুর্নীতি ডালপালা মেলবে।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘আমি দেখেছি, স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের বিশাল সিন্ডিকেট থাকে। প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুসের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তির চুক্তি করেন। এসব ক্ষেত্রে বিশেষ কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে উত্তর বলে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়া, খাতা মূল্যায়নে সময় নম্বর পরিবর্তন বা খাতা প্রতিস্থাপনের মতো চূড়ান্ত অনিয়ম-দুর্নীতিও ঘটে থাকে। আসন সংখ্যা প্রকাশ্যে কম দেখিয়ে বাকি আসনে দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনাও অহরহ ঘটেছে।’
‘যেখানে শিক্ষকদের নৈতিকতার এমন অবক্ষয় বিদ্যমান, সেখানে ভর্তি পরীক্ষা মূলত টাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়। আমি মনে করি প্রথম শ্রেণির বাচ্চাদের জন্য কোনো পরীক্ষাই হওয়া উচিত নয়। যে শিশুটি এখনো অ-আ-ক-খ শেখেনি, তাকে ভর্তির আগেই মেধা যাচাইয়ের নামে মানসিক চাপের মুখে ফেলা চরম হঠকারিতা,’— বলেন জিয়াউল কবির দুলু।
জালিয়াতি ও কোচিং বাণিজ্যের ভয়াবহ আশঙ্কার মুখে অবশ্য অভিভাবকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনেই তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। আমরা সেটার লাগাম টেনে ধরব।’
“প্রয়োজনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইনহাউজ কোচিং’ বা বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। আর ক্লাস ওয়ানে তো আমরা ওদের নিউরোসার্জন বানাব না, পরীক্ষা হবে অত্যন্ত সহজ ও শিশুবান্ধব, যেন শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়,”— বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
কোচিং বাণিজ্য নিয়ে মন্ত্রীর আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি মনে করেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ পদ্ধতি তথা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার এলাকার নিকটতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির পদ্ধতি চালু করার কথা বলেন তিনি।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘আদর্শ বিকল্প হলো প্রতিটি বাচ্চার জন্য নিজ এলাকায় ভালো স্কুল নিশ্চিত করা। বর্তমানে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ আছে, এটিকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা যেত। এতে নামি স্কুলে ভর্তি হওয়ার অসম প্রতিযোগিতা ও মাত্রাতিরিক্ত ভিড় সামলানো সহজ হতো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানও একই অভিমত দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের বসবাসের সংলগ্ন এলাকার স্কুলেই ভর্তি করতে হবে। প্রয়োজনে স্কুলগুলোর মান উন্নত করতে হবে। এতে মিরপুরের শিক্ষার্থীদের ভিকারুননিসা-হলিক্রসে ভর্তি করানোর চেষ্টাও বন্ধ হবে।
কানাডা প্রবাসী ড. মঞ্জুরে খোদা টরিকও ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’কেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সমাধান মনে করেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশের এই প্রচলিত অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থেকে বেড়িয়ে আসতে ‘জোনিং বা ম্যাপিং স্কুল সিস্টেম’ চালু করতে হবে। যে শিক্ষার্থী যে এলাকায় বাস করে, তাকে সেই এলাকার স্কুলে যেতে, পড়তে বাধ্য করতে হবে। এক এলাকার ছেলেমেয়ে অন্য এলাকায় যেতে বা পড়তে পারবে না!
সার্বিকভাবে হুটহাট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে এক পদ্ধতি বাতিল করে অন্য পদ্ধতি চালুর বদলে শিক্ষা খাতের কার্যকর সংস্কারে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন ও একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের পরামর্শ দিলেন রাশেদা কে চৌধূরী।

ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ ঠিক করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় এই সভায় সারাদেশের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরে বা স্থান
৬ ঘণ্টা আগে
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা বিশেষভাবে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের নারীদের উপর প্রভাব ফেলে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও
৬ ঘণ্টা আগে
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের ঈদে নৌপথে যাত্রীদের যাত্রা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক ও আনন্দদায়ক হবে। পাশাপাশি, সদরঘাটের যাত্রীচাপ কমাতে বসিলা ও শিমুলিয়া লঞ্চঘাট চালু করা হয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এসব ঘাট স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
শৈশবে আমরা তখন শহরের আবৃত্তি চর্চা ও সংস্কৃতি জগতে গৌরবের প্রতিষ্ঠান “রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদ”-এর সাথে যুক্ত। তখন আমাদের সামনে লক্ষ্য ছিল শামস সুমন ও তাদের সমসাময়িক কজনের কাতারে পৌঁছানো।
১৮ ঘণ্টা আগে