
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ দিন বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন পাসের কার্যক্রম শুরু হলে স্পিকার বলেন, ‘আমরা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬ পাসের স্তরে রয়েছি।’ এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট চান তিনি। কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হওয়ার পর এর দফায় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিলটি নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের চাহিদা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিট কিংবা বাহিনীতে পরিবর্তন আনতে হয়। সেজন্যই এটি করা হচ্ছে। একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, ‘নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একই সঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি।’
বিলটির বিভিন্ন ধারায় আপত্তি তুলে তা অনুমোদন না করার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া র্যাবের জনবল, সম্পদ, নথিপত্র, স্থাপনা, তহবিল ও দায়দায়িত্ব নতুন ইউনিটে হস্তান্তরের বিধান থাকায় বিরোধী দলের সদস্যরাও অভিযোগ করেন, কার্যত একই বাহিনীকে নতুন নামে রাখা হচ্ছে।
তাদের কেউ কেউ একে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ বলেও বর্ণনা করেন। বিলটি আরও যাচাই-বাছাই এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান তারা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, র্যাব বিলুপ্ত করেই নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হচ্ছে। র্যাবের সঙ্গে এসআরবির ‘কোনো সংস্পর্শ নেই’।
এর আগে বিলটি জনমত যাচাইয়ে পাঠানো এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর বিরোধী দলের প্রস্তাব নাকচ হয়। এ ছাড়া বিলের প্রস্তাবনা ও ২৪ ধারায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের আনা দুটি সংশোধনীও কণ্ঠভোটে নাকচ করে সংসদ। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল ও কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে ইউনিটটি গঠন করা হবে।
ইউনিটের কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল ও কর্মচারীদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্ত বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে। এসআরবির আলাদা পতাকা, প্রতীক ও নির্দিষ্ট পোশাক থাকবে। পুলিশে কর্মরত অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসআরবির মহাপরিচালক হবেন।
বিলে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। নতুন আইনের বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধিমালার অধীনে র্যাবের বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতের চলমান কার্যধারাও বহাল থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে।
নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতি হবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও খুনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি বাহিনীর জায়গায় নতুন ইউনিট গঠনের আইন চার কার্যদিবসের মধ্যে পাসের জন্য আনার বিরোধিতা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘র্যাবের প্রতি আমাদের আতঙ্ক আছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং গোটা বাংলাদেশের গুম ও খুনের একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধরনের একটা বিল কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে পাস করার জন্য এখানে নিয়ে আসা, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
ভুক্তভোগী, ফৌজদারি আইনজীবী, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার দাবি জানান নুরুল ইসলাম। এসআরবির অভিযোগ প্রতিকার কমিটির স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার প্রস্তাব ছিল, বিচার বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন একটি কমিটি করা।
এসআরবি কোনো ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখবে, সে বিষয়েও আরও স্পষ্ট বিধান চান নুরুল ইসলাম। এসআরবির সব স্থাপনা ও কার্যালয়ের তালিকা গেজেটে প্রকাশ করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
এসআরবি বিলের ২৭ ধারার প্রসঙ্গ তোলেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়দায়িত্ব নতুন বাহিনীতে চলে যাবে।
‘অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই চেঞ্জ হচ্ছে; নতুন বোতলে পুরনো মদ। র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না; সব ঠিক থাকছে,’ বলেন তিনি। এভাবে নথি স্থানান্তর হলে গুমসহ র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধের মামলা ও তদন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি ছিল। কিন্তু একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি। তিনি বলেন, ‘এ বাহিনী বিলুপ্তি ছিল সকলের দাবি। বেগম খালেদা জিয়াও বারবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথা বলেছে। এটা বিলুপ্ত করে আরেকটা বাহিনী গঠনের দাবি কিন্তু কারোই ছিল না। শুধুই বিলুপ্তির দাবি ছিল।’
নতুন আইনে র্যাবের জনবল, স্থাপনা ও লজিস্টিকস প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা। বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে সরকারের তরফ থেকে ঠিক একই ধরনের আরেকটা বাহিনী বিল্ডআপ করার দাবি নিয়ে আসা শুধু হয়নি, হুবহু বাহিনীটাকে জায়গায় রেখে, সবকিছু জায়গায় রেখে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রীকে র্যাব সদস্যদের তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও সংসদে তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ঘটনা দেখিয়েছে, বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যদের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ‘তারা আগে যেমন ছিলেন, এখনও তেমনই আছেন। সেই একই বাহিনীর লোকেরা একই জায়গায় হস্তান্তর হচ্ছেন। তাদের স্থাপনা যা আছে তাই থাকবে, লজিস্টিক যা আছে তাই থাকবে, ম্যানপাওয়ার যা আছে তাই থাকবে।’
এসআরবির প্রয়োজনীয়তা আগে জনগণের কাছে আরও পরিষ্কার করার দাবি জানান শফিকুর রহমান। বলেন, ‘কেন এমন একটি বাহিনীর প্রয়োজন, তার যথার্থতা আরও বেশি পরিষ্কার হয়ে আসুক। জাতি অনুভব করুক যে, এ ধরনের একটা স্পেশালাইজড ফোর্স আমাদের লাগবে। জাতি কনভিন্সড হোক।’
চলতি অধিবেশনে বিলটি পাস না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এই আইনটা কোনো অবস্থায় পাস করা উচিত না এবং এই আইনটা ফিরিয়ে নেওয়া দরকার।’
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। বিলটি পাসে যত বিলম্ব হবে, র্যাবের অস্তিত্ব ততদিন থাকবে বলেও যুক্তি দেন তিনি। বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি, বিরোধী দলের এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে বিভিন্ন মতামত এসেছে। সংসদে উত্থাপনের পর স্থায়ী কমিটিতেও এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো নিয়েও সংসদে বিস্তারিত জবাব দেন তিনি। বিলের ২৪ ধারায় থাকা অভিযোগ প্রতিকার কমিটি নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কমিটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করবে না।
ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বাইরের কারও অভিযোগ অথবা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাহিনীর কোনো সদস্য ফৌজদারি অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন।
অভিযোগ প্রতিকার কমিটির প্রধান হিসেবে সাবেক হাইকোর্ট বিচারপতি রাখার প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি তিনি। তার বক্তব্য, এটি বিভাগীয় ও প্রশাসনিক বিষয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হবে, বিরোধী দলের সেই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলেই তাকে ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার কথা রয়েছে।
র্যাবের সম্পদ এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তিরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, র্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম, গোয়েন্দা সরঞ্জামসহ বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করে দেওয়া যায় না। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এত অস্ত্রশস্ত্র, এত ইকুইপমেন্ট, এত ইন্টেলিজেন্স ইকুইপমেন্ট, এত সম্পদ, এগুলো কোথায় যাবে? কোথাও না কোথাও তো যাবে। রাষ্ট্রের সম্পদ।’
এসব সম্পদ হয় এপিবিএন, নয়তো নতুন সংস্থায় দিতে হবে বলে জানান তিনি। নতুন ইউনিটের জন্য একই ধরনের সরঞ্জাম আবার কেনা হলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হবে বলেও যুক্তি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘নতুন সংস্থা যখন আমরা রেইজ করব, এখানে তো আবার প্রকিউরমেন্ট করার দরকার নাই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে।’
এসআরবিকে র্যাবের নতুন রূপ বলার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘র্যাব আমরা বিলুপ্ত করেছি, আজকে আইন যদি পাস হয়। তারপরে আমরা একটা নতুন ব্যাটালিয়ন রেইজ করছি। সেই ব্যাটালিয়নের নাম হবে এসআরবি। র্যাবের সঙ্গে এটার কোনো সংস্পর্শ নাই।’
জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর এপিবিএন বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করে সংসদ। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্সের একটি ধারা সংশোধন করেই পরে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। এসআরবি আইন করার পরও পুরনো আইনে র্যাবের সেই আইনি ভিত্তি থেকে গেলে বাহিনীটির অস্তিত্ব আইনে থেকে যাবে। সে কারণেই পুরনো অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন এপিবিএন আইন করা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
নতুন আইনে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠন ও পরিচালনার বিধান রয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্য ব্যাটালিয়ন এই ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্য প্রচলিত আইন মেনে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কোনো তথ্য বা দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না। তথ্য বা দলিল প্রকাশে সহযোগিতা করাও যাবে না।

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ দিন বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন পাসের কার্যক্রম শুরু হলে স্পিকার বলেন, ‘আমরা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬ পাসের স্তরে রয়েছি।’ এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট চান তিনি। কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হওয়ার পর এর দফায় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিলটি নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের চাহিদা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিট কিংবা বাহিনীতে পরিবর্তন আনতে হয়। সেজন্যই এটি করা হচ্ছে। একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, ‘নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একই সঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি।’
বিলটির বিভিন্ন ধারায় আপত্তি তুলে তা অনুমোদন না করার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া র্যাবের জনবল, সম্পদ, নথিপত্র, স্থাপনা, তহবিল ও দায়দায়িত্ব নতুন ইউনিটে হস্তান্তরের বিধান থাকায় বিরোধী দলের সদস্যরাও অভিযোগ করেন, কার্যত একই বাহিনীকে নতুন নামে রাখা হচ্ছে।
তাদের কেউ কেউ একে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ বলেও বর্ণনা করেন। বিলটি আরও যাচাই-বাছাই এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান তারা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, র্যাব বিলুপ্ত করেই নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হচ্ছে। র্যাবের সঙ্গে এসআরবির ‘কোনো সংস্পর্শ নেই’।
এর আগে বিলটি জনমত যাচাইয়ে পাঠানো এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর বিরোধী দলের প্রস্তাব নাকচ হয়। এ ছাড়া বিলের প্রস্তাবনা ও ২৪ ধারায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের আনা দুটি সংশোধনীও কণ্ঠভোটে নাকচ করে সংসদ। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল ও কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে ইউনিটটি গঠন করা হবে।
ইউনিটের কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল ও কর্মচারীদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্ত বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে। এসআরবির আলাদা পতাকা, প্রতীক ও নির্দিষ্ট পোশাক থাকবে। পুলিশে কর্মরত অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসআরবির মহাপরিচালক হবেন।
বিলে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। নতুন আইনের বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধিমালার অধীনে র্যাবের বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতের চলমান কার্যধারাও বহাল থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে।
নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতি হবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও খুনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি বাহিনীর জায়গায় নতুন ইউনিট গঠনের আইন চার কার্যদিবসের মধ্যে পাসের জন্য আনার বিরোধিতা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘র্যাবের প্রতি আমাদের আতঙ্ক আছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং গোটা বাংলাদেশের গুম ও খুনের একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধরনের একটা বিল কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে পাস করার জন্য এখানে নিয়ে আসা, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
ভুক্তভোগী, ফৌজদারি আইনজীবী, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার দাবি জানান নুরুল ইসলাম। এসআরবির অভিযোগ প্রতিকার কমিটির স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার প্রস্তাব ছিল, বিচার বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন একটি কমিটি করা।
এসআরবি কোনো ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখবে, সে বিষয়েও আরও স্পষ্ট বিধান চান নুরুল ইসলাম। এসআরবির সব স্থাপনা ও কার্যালয়ের তালিকা গেজেটে প্রকাশ করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
এসআরবি বিলের ২৭ ধারার প্রসঙ্গ তোলেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়দায়িত্ব নতুন বাহিনীতে চলে যাবে।
‘অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই চেঞ্জ হচ্ছে; নতুন বোতলে পুরনো মদ। র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না; সব ঠিক থাকছে,’ বলেন তিনি। এভাবে নথি স্থানান্তর হলে গুমসহ র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধের মামলা ও তদন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি ছিল। কিন্তু একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি। তিনি বলেন, ‘এ বাহিনী বিলুপ্তি ছিল সকলের দাবি। বেগম খালেদা জিয়াও বারবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথা বলেছে। এটা বিলুপ্ত করে আরেকটা বাহিনী গঠনের দাবি কিন্তু কারোই ছিল না। শুধুই বিলুপ্তির দাবি ছিল।’
নতুন আইনে র্যাবের জনবল, স্থাপনা ও লজিস্টিকস প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা। বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে সরকারের তরফ থেকে ঠিক একই ধরনের আরেকটা বাহিনী বিল্ডআপ করার দাবি নিয়ে আসা শুধু হয়নি, হুবহু বাহিনীটাকে জায়গায় রেখে, সবকিছু জায়গায় রেখে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রীকে র্যাব সদস্যদের তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও সংসদে তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ঘটনা দেখিয়েছে, বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যদের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ‘তারা আগে যেমন ছিলেন, এখনও তেমনই আছেন। সেই একই বাহিনীর লোকেরা একই জায়গায় হস্তান্তর হচ্ছেন। তাদের স্থাপনা যা আছে তাই থাকবে, লজিস্টিক যা আছে তাই থাকবে, ম্যানপাওয়ার যা আছে তাই থাকবে।’
এসআরবির প্রয়োজনীয়তা আগে জনগণের কাছে আরও পরিষ্কার করার দাবি জানান শফিকুর রহমান। বলেন, ‘কেন এমন একটি বাহিনীর প্রয়োজন, তার যথার্থতা আরও বেশি পরিষ্কার হয়ে আসুক। জাতি অনুভব করুক যে, এ ধরনের একটা স্পেশালাইজড ফোর্স আমাদের লাগবে। জাতি কনভিন্সড হোক।’
চলতি অধিবেশনে বিলটি পাস না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এই আইনটা কোনো অবস্থায় পাস করা উচিত না এবং এই আইনটা ফিরিয়ে নেওয়া দরকার।’
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। বিলটি পাসে যত বিলম্ব হবে, র্যাবের অস্তিত্ব ততদিন থাকবে বলেও যুক্তি দেন তিনি। বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি, বিরোধী দলের এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে বিভিন্ন মতামত এসেছে। সংসদে উত্থাপনের পর স্থায়ী কমিটিতেও এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো নিয়েও সংসদে বিস্তারিত জবাব দেন তিনি। বিলের ২৪ ধারায় থাকা অভিযোগ প্রতিকার কমিটি নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কমিটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করবে না।
ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বাইরের কারও অভিযোগ অথবা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাহিনীর কোনো সদস্য ফৌজদারি অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন।
অভিযোগ প্রতিকার কমিটির প্রধান হিসেবে সাবেক হাইকোর্ট বিচারপতি রাখার প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি তিনি। তার বক্তব্য, এটি বিভাগীয় ও প্রশাসনিক বিষয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হবে, বিরোধী দলের সেই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলেই তাকে ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার কথা রয়েছে।
র্যাবের সম্পদ এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তিরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, র্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম, গোয়েন্দা সরঞ্জামসহ বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করে দেওয়া যায় না। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এত অস্ত্রশস্ত্র, এত ইকুইপমেন্ট, এত ইন্টেলিজেন্স ইকুইপমেন্ট, এত সম্পদ, এগুলো কোথায় যাবে? কোথাও না কোথাও তো যাবে। রাষ্ট্রের সম্পদ।’
এসব সম্পদ হয় এপিবিএন, নয়তো নতুন সংস্থায় দিতে হবে বলে জানান তিনি। নতুন ইউনিটের জন্য একই ধরনের সরঞ্জাম আবার কেনা হলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হবে বলেও যুক্তি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘নতুন সংস্থা যখন আমরা রেইজ করব, এখানে তো আবার প্রকিউরমেন্ট করার দরকার নাই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে।’
এসআরবিকে র্যাবের নতুন রূপ বলার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘র্যাব আমরা বিলুপ্ত করেছি, আজকে আইন যদি পাস হয়। তারপরে আমরা একটা নতুন ব্যাটালিয়ন রেইজ করছি। সেই ব্যাটালিয়নের নাম হবে এসআরবি। র্যাবের সঙ্গে এটার কোনো সংস্পর্শ নাই।’
জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর এপিবিএন বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করে সংসদ। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্সের একটি ধারা সংশোধন করেই পরে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। এসআরবি আইন করার পরও পুরনো আইনে র্যাবের সেই আইনি ভিত্তি থেকে গেলে বাহিনীটির অস্তিত্ব আইনে থেকে যাবে। সে কারণেই পুরনো অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন এপিবিএন আইন করা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
নতুন আইনে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠন ও পরিচালনার বিধান রয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্য ব্যাটালিয়ন এই ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্য প্রচলিত আইন মেনে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কোনো তথ্য বা দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না। তথ্য বা দলিল প্রকাশে সহযোগিতা করাও যাবে না।

সংকট উত্তরণে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা কেবল গ্রাহক থাকব না, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব।’
২ ঘণ্টা আগে
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেজেইউ আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, অভ্যুত্থানের আড়াই বছরেও এমন সংগঠন হয়নি। এখন কেন হয়েছে? হয়েছে সময়ের প্রয়োজনে। জুলাইপন্থি সব সাংবাদিকের জন্য এটি উন্মুক্ত। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে জুলাইয়ের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।
২ ঘণ্টা আগে
আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে এলে বিএনপির অবস্থান কী হবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই।
৩ ঘণ্টা আগে
আমাদের প্রধান কাজ এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটো বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
৬ ঘণ্টা আগে