নারী নেতৃত্ব উঠে আসতে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা জরুরি

শিরীন পারভিন হক
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১: ২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক দশক ছিল নারী নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে আমাদের এক বিশেষ পরিচয় দিয়েছিল। তবে খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার জানাজায় সাধারণ মানুষের অভাবনীয় ঢলই প্রমাণ করে, এই শূন্যতা ঠিক কতটা গভীর এবং তার নেতৃত্বের আবেদন কতটা শক্তিশালী ছিল।

খালেদা জিয়ার মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা অন্য কারও সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়। তবুও এ সত্য মানতেই হবে, তাদের অনুপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করেছে।

তবে আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতিতে কোনো স্থানই চিরকাল শূন্য থাকে না। আজ হয়তো সেই মাপের নারী নেত্রী আমাদের সামনে দৃশ্যমান নেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও অনেক নারী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজনীতি করছেন।

মূল সমস্যাটি আসলে নারীদের যোগ্যতায় নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে। দলগুলোর ভেতরে এখনো যথাযথ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে এবং নারীদের মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসার ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যায়। তারা যদি নারীদের জন্য সুযোগের দুয়ার খুলে না দেয়, নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত না করে, তাহলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়া কঠিন।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের শীর্ষ নারী নেত্রীরা পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা শুধু সেই পরিচয়েই আটকে থাকেননি। নিজেদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তারা যোগ্য এবং নেতৃত্বের আসনে বসার জন্য উপযুক্ত।

বর্তমানের নারী রাজনীতিকরাও যদি জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ ও উৎসাহ পান, তারাও একইভাবে সফল হতে পারবেন। এই পরিবর্তনের জন্য নারী আন্দোলনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। দলগুলোর ভেতরে থাকা নারী নেত্রীরা একাকী লড়াই করে পেরে উঠছেন না, তাই বাইরে থেকে আমাদের মতো সংগঠনগুলোরা সমর্থন তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

আমরা যদি সচেতনভাবে নারী নেত্রীদের পাশে দাঁড়াই এবং দলগুলোকে চাপ দিই, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে এবং বর্তমানের এই শূন্যতা অবশ্যই পূরণ হবে।

লেখক: নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নারী কমিশনের প্রধান

Ad
Ad
ad
ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

বই কেনা নয়, পড়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে

বই আমাদের জীবনের কেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঘরের সাজসজ্জার অংশ হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বইকে এমন এক ধরনের ‘সামাজিক আসবাব’ হিসেবেও ব্যবহার করেন, যা ঘরের রুচি ও সামাজিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। হকিংয়ের বই নিয়ে পুরোনো এক প্রতিবেদনে প্রকাশকরাই এমন বইকে ‘সোশ্যাল ফার্নিচার’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

৫ দিন আগে

ভূমিকম্পের পরে উদ্ধার নয়, বিপর্যয়ের আগেই জীবন বাঁচাতে হবে

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন— বড় ভূমিকম্পে ঢাকার বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো কঠিন হবে, কোথাও কোথাও উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। তার এ বক্তব্যকে একটি সংস্থার সীমাবদ

৫ দিন আগে

জ্বালানি সংকট: সাময়িক সমাধানের চেয়ে প্রয়োজন আরও বেশি কিছু

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির সংকট। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা পরিকল্পনার ঘাটতি মিলেই বারবার এই সংকট তৈরি করছে।

৬ দিন আগে

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির বাণিজ্যের পথ যেন সুগম না হয়

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার বিকল্প নেই। এনটিআরসিএ’র বিদ্যমান কাঠামোর কোনো দুর্বলতা থাকলে তা পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এই প্রক্রিয়াকে পেছনে ঠেলে দিয়ে আবার ব্যক্তি বা কমিটির দুর্নীতির সুযোগ করে

৬ দিন আগে