জলাতঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী’ (Stronger Together)। অর্থাৎ একসঙ্গে থাকলে আমরা আরও শক্তিশালী। জলাতঙ্কের মতো একটি প্রাণঘাতী কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে এই বার্তা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
কারণ জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ, যার বিরুদ্ধে আমাদের হাতে প্রতিরোধের কার্যকর সব উপকরণই রয়েছে। প্রয়োজন কেবল সেগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মারা যান। মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সংক্রমণের সর্বোচ্চ অংশের জন্য কুকুর দায়ী। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কুকুরের অন্তত ৭০ শতাংশকে ধারাবাহিকভাবে টিকা দেওয়া গেলে কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্কের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। বরং আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতাই দেখিয়েছে— সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আমরা আগেও সফল হয়েছি
বাংলাদেশে ২০১০ সালের পর জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কুকুরের গণটিকাদানের পাশাপাশি মানুষের কামড়-পরবর্তী চিকিৎসা, জনসচেতনতা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ—সবগুলো বিষয়কে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণকুকুর টিকাদান কর্মসূচি ৬৪টি জেলার প্রায় সর্বত্র সম্প্রসারিত হয়েছিল। একসময় এক হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত কুকুর ধরার কর্মী কুকুর ধরে টিকা দিয়ে আবার তাদের নিজ নিজ এলাকায় ছেড়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছিল। ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে জাতীয় পর্যায়ে বহুমাত্রিক জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ শূন্য থেকে শুরু করা নয়; বরং আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
উদ্বেগের তথ্যও আমাদের সামনে আছে
এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে সেখানে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের ৯৪ হাজার ৩৮০ থেকে ২০২৪ সালে ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩-এ পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৭৫১। একই প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক সময়ে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো আমাদের সতর্ক হওয়ার কারণ তৈরি করে। তবে একই সঙ্গে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের প্রতিটি ঘটনা জলাতঙ্কে পরিণত হয় না। ঝুঁকি নির্ভর করে প্রাণীটির সংক্রমণ, কামড়ের ধরন, ক্ষতস্থানের অবস্থান এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের ওপর। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা।
সংকটের পর নতুন উদ্যোগ আশার জায়গা তৈরি করেছে
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে পথকুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যখন বলছিলেন যে পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন, তখনই বিষয়টি নীতিনির্ধারণের আলোচনায় ছিল। এখন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগ বাস্তব কার্যক্রমে এসেছে। ফলে আমাদের সামনে নতুন একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে— আগের অভিজ্ঞতা, বর্তমান প্রকল্প এবং প্রাণী, মানুষ ও পরিবেশের সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধারণাকে একত্র করে একটি শক্তিশালী জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার।
এই উদ্যোগকে শুধু একটি প্রকল্প হিসেবে দেখলে হবে না। এটিকে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কুকুরকে শত্রু নয়, ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে
কুকুরের কামড়ে মানুষ আহত হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়। কিন্তু কুকুর নিধন করে জলাতঙ্ক নির্মূল করা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্টভাবে বলছে, শুধু কুকুর অপসারণ বা নিধন জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কৌশল নয়। বরং ব্যাপক কুকুর টিকাদান, কুকুরের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, নজরদারি, জনসম্পৃক্ততা এবং আন্তঃখাত সহযোগিতাই কার্যকর পদ্ধতির অংশ।
তাই পথকুকুর ব্যবস্থাপনায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও হতে হবে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক। যেখানে প্রয়োজন সেখানে ধরে বন্ধ্যত্বকরণ, টিকাদান ও নিজ এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাপনা, রোগাক্রান্ত বা আক্রমণাত্মক প্রাণীর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং একই সঙ্গে ব্যাপক টিকাদান— এসবকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
শুধু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাজ নয়
জলাতঙ্ক একটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণযোগ্য রোগ। তাই এর নিয়ন্ত্রণ কোনো একক মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের একার দায়িত্ব হতে পারে না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে নেতৃত্ব দিতে হবে কুকুরের টিকাদান, প্রাণীর রোগ নজরদারি ও কুকুরের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্ব হবে কামড়ের শিকার মানুষের দ্রুত ও সহজলভ্য কামড়-পরবর্তী প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, ক্ষত ব্যবস্থাপনা, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ইমিউনোগ্লোবিউলিনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং মানব জলাতঙ্কের নজরদারি নিশ্চিত করা।
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে যুক্ত হতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে কুকুরের সংখ্যা নিরূপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কুকুরের আবাসস্থল নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায়।
আর বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন, প্রাণিকল্যাণ সংগঠন এবং ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করতে হবে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতায়। এটাই প্রকৃত সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
দরকার জাতীয় তথ্যভান্ডার
বাংলাদেশে কত পথকুকুর আছে, কোথায় কত আছে, কোন এলাকায় কুকুরের ঘনত্ব বেশি, কোথায় কামড়ের ঘটনা বেশি, কোন এলাকায় কত শতাংশ কুকুর টিকা পেয়েছে— এসব তথ্য ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন। তাই নতুন প্রকল্পের আওতায় একটি জাতীয় কুকুরের সংখ্যা ও জলাতঙ্ক নজরদারি তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা যেতে পারে।
প্রতিটি কুকুরকে পৃথকভাবে শনাক্ত করার জন্য ডিজিটাল নথি, টিকাদানের তথ্য, এলাকা, পুনঃটিকাদানের সময় এবং সন্দেহজনক রোগের তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে পরবর্তী কর্মসূচি আরও তথ্যভিত্তিক হবে।
একই সঙ্গে হাসপাতাল ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা দরকার। কোথাও কুকুরের কামড়ের ঘটনা হঠাৎ বেড়ে গেলে সেটি যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
৭০ শতাংশ টিকাদান শুধু সংখ্যা নয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৭০ শতাংশ কুকুর টিকাদানের লক্ষ্যটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি একটি জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সীমা হিসেবে বিবেচিত। একটি এলাকায় ১০০টি কুকুর থাকলে ২০টি কুকুরকে টিকা দিয়ে থেমে গেলে চলবে না। আবার এক বছর টিকা দিয়ে পরবর্তী কয়েক বছর কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও হবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দ্রুত কুকুরের সংখ্যা পরিবর্তিত হলে অনেক এলাকায় নিয়মিত, এমনকি বার্ষিক গণটিকাদানের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই নতুন প্রকল্পে শুধু কতগুলো কুকুরকে টিকা দেওয়া হলো— এটি সাফল্যের সূচক হওয়া উচিত নয়। বরং কত শতাংশ কুকুর টিকাদানের আওতায় এসেছে, কোন এলাকায় কভারেজ কত এবং সেটি কতটা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকছে— সেটিই হতে হবে মূল সূচক।
শিশুদের জন্য বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন
জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে শিশুরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিশু কুকুরকে খেলনা বা বন্ধুর মতো কাছে যায়। কুকুরের আচরণ না বুঝে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কখনো কখনো আক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। স্কুল পর্যায়ে তাই খুব সহজ ভাষায় শেখানো যেতে পারে— কুকুরকে উত্যক্ত না করা, খাবার খাওয়ার সময় বিরক্ত না করা, অপরিচিত কুকুরের কাছে না যাওয়া এবং কামড় বা আঁচড় লাগলে বিষয়টি গোপন না করে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
এই সচেতনতা শুধু বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে নয়— সারা বছর চালু রাখা দরকার।
মানুষের চিকিৎসা এবং কুকুরের টিকা—দুটিই জরুরি
কখনো কখনো জলাতঙ্ক নিয়ে আলোচনায় একটি ভুল দ্বৈততা তৈরি হয়— মানুষকে টিকা দেওয়া হবে, নাকি কুকুরকে টিকা দেওয়া হবে? আসলে উত্তর হলো— দুটিই প্রয়োজন।
কুকুরের টিকা রোগের উৎসে সংক্রমণ কমায়। আর কোনো মানুষ সন্দেহজনক প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কামড়-পরবর্তী প্রতিরোধমূলক টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা তার জীবন রক্ষা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কুকুরের টিকাদান ও মানুষের কামড়-পরবর্তী প্রতিরোধমূলক টিকাদান— দুই কৌশলকে জলাতঙ্ক নির্মূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ একটি ব্যবস্থা অন্যটির বিকল্প নয়।
প্রয়োজন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নতুন প্রকল্প শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু জলাতঙ্কের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম থেমে গেলে অর্জন ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই এখন থেকেই ভাবতে হবে— প্রকল্প শেষে কীভাবে নিয়মিত সরকারি বাজেট, জনবল, প্রশিক্ষণ, ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং স্থানীয় পর্যায়ের কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হবে।
একই সঙ্গে প্রয়োজন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল সমন্বয়ব্যবস্থা, যেখানে প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন নিয়মিত তথ্য ও পরিকল্পনা ভাগাভাগি করবে। কারণ জলাতঙ্কের ভাইরাস কোনো মন্ত্রণালয়ের সীমানা মানে না। তাই আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাও মন্ত্রণালয়ের সীমানায় আটকে থাকতে পারে না।
২০৩০-এর লক্ষ্য সামনে রেখে
বিশ্বব্যাপী ‘২০৩০ সালের মধ্যে শূন্য’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু বন্ধ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব প্রাণীস্বাস্থ্য সংস্থা এবং জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক জোটের যৌথ বৈশ্বিক কৌশলের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
বাংলাদেশের সামনে এখন তাই একটি স্পষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমাদের আগের অর্জন আছে, মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞতা আছে, ভেটেরিনারি ও জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো আছে এবং এখন নতুন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্পও শুরু হয়েছে। প্রয়োজন এগুলোকে একই সুতোয় গাঁথা।
‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী’— শুধু প্রতিপাদ্য নয়, কর্মপদ্ধতি
জলাতঙ্ক নির্মূলের লড়াইয়ে একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক, একজন চিকিৎসক, একজন স্বাস্থ্যকর্মী, একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, একজন শিক্ষক, একজন প্রাণীপ্রেমী, একজন কুকুরের মালিক এবং একজন সাধারণ নাগরিক— প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নতুন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভেটেরিনারি পেশাজীবী, চিকিৎসক, গবেষক, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা যায়, তাহলে বাংলাদেশের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নতুন গতি পেতে পারে।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু কুকুরের কামড় কমানো নয়; বরং কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের চক্রটিই ভেঙে দেওয়া। কারণ একটি শিশুর জীবন বাঁচানো শুধু চিকিৎসকের দায়িত্ব নয়। একটি কুকুরকে টিকা দেওয়া শুধু ভেটেরিনারি চিকিৎসকের দায়িত্ব নয়। একটি নিরাপদ জনগোষ্ঠী তৈরি করাও শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।
এবারের বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের বার্তাটি তাই বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক— ‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী’। জলাতঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের পথও হতে হবে— একসঙ্গে, সমন্বিতভাবে এবং টেকসইভাবে।
লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, ভেটেরিনারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)

















