বাংলাদেশ-ভারতের স্বার্থে ফারাক্কা ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন

এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৬: ৪৬

১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ফারাক্কা বাঁধের ফলে নদীর নাব্যতা ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা ও পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে সারা দেশের লাখ লাখ মানুষ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দান থেকে ‘মরণবাঁধ’ ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেন। লংমার্চ শেষে কানসাট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন।

সেদিন থেকেই ১৬ মে ‘ফারাক্কা লংমার্চ দিবস’ হিসেবে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জনদুর্ভোগের জন্য মওলানা ভাসানী ওই দিন লংমার্চ করে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এই লংমার্চের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভারতের পানি আগ্রাসনের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন বাংলার মাটি ও মানুষের মহান নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তাই এ দিনটি আজও শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং দাবি আদায়ের পক্ষে বঞ্চিত মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

যে ফারাক্কা বাংলাদেশকে পানি বঞ্চিত করার জন্য ভারত তৈরি করেছিল, সেই ফারাক্কাই আজ খোদ ভারতের জন্যও অভিশাপে রূপান্তরিত হয়েছে। খোদ ভারতেই এখন ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে আলোচনা চলছে। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও শতভাগ সত্য। বিহারের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফারাক্কা বাঁধ স্থায়ীভাবে ভেঙে দেওয়ার দাবি এবং সব গেট খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বিহারের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ফারাক্কা বাঁধকে দায়ী করেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার তখন ফারাক্কা বাঁধের অধিকাংশ গেট খুলে দিয়েছিল। মোট ১০৪টি গেটের মধ্যে ৯৫টিই খুলে দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। নীতীশ কুমারের এ দাবি মুহূর্তেই গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল এবং বাংলাদেশের জনগণের মুখে মুখে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

বিহার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ফারাক্কা বাঁধের ব্যাপারে সম্প্রতি যে সত্য উচ্চারণ করেছেন, ৫০ বছর আগে সেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এক বাঙালি নদী-প্রকৌশলী। ১৯৬২ সালেই পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য ফারাক্কার তিনটি অভিশাপের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি লিখেছিলেন, ‘ফারাক্কা ব্যারাজের বিরুদ্ধে আমার হুঁশিয়ারি না মানার পরিণতিতে জনগণ দুর্ভোগের শিকার হবে।’ তিনি আরও বলেছিলেন, এই বাঁধ নদীর পলি ভরাট আরও বাড়াবে, ভাটির দেশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পানিপ্রবাহ কমাবে এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ ও বিহারের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার প্রকোপ বাড়াবে। তার সেই হুঁশিয়ারিই যে ফলে গেছে, তা আজ ৫০ বছর পর সর্বজনবিদিত। সে সময় ফারাক্কার বিরোধিতার জন্য ভারতীয় গণমাধ্যম তাঁকে পাকিস্তানের চর বলে অভিহিত করেছিল এবং পরিণামে সরকারি চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এই নদীবিশেষজ্ঞকে। আমৃত্যু তিনি তার বক্তব্যে অটল থেকেছেন এবং নিজের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হতে দেখেছেন।

বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভারত কর্তৃক গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণকে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করলেও অপর অংশ এই অভিযোগকে কখনো গুরুত্ব দেয়নি। বরং ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতাকে ভারতবিরোধিতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ চালুর ৫২ বছর পর আজ স্বয়ং ভারতীয় রাজনীতিবিদরা যখন এটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তখন ফারাক্কা বাঁধ যে কতটা ক্ষতিকর প্রকল্প তা বুঝতে আর কারও বাকি থাকার কথা নয়। ভারতীয় রাজনীতিবিদদের এই দাবির প্রেক্ষিতে ফারাক্কা বাঁধের অপ্রয়োজনীয়তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশকে পানিশূন্য করতে ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কৌশলের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনোহরপুরে নির্মিত হয় ফারাক্কা বাঁধ। ১৯৬১ সালের ৩০ জানুয়ারি ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ শুরু করে এবং ১৯৭০ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তখন পরীক্ষামূলকভাবে কিছু পানি ছাড়া হয়। ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা বাঁধ চালু হয়। ভারত ১৯৭৬ সাল থেকে একতরফাভাবে ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার অব্যাহত রাখে। ফলে ১৯৭৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ চাহিদানুযায়ী পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের আগে শীতকালেও পদ্মা নদী থেকে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পর্যন্ত পানি পেত বাংলাদেশ।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই ভারত কার্যত সেই চুক্তিকে অকার্যকর করে দেয়। ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশ মাত্র ৬ হাজার ৪৫৭ কিউসেক পানি পায়, যা ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিল। অথচ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি। ১৯৭৭ সালের পানি চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ থাকলেও ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা না থাকায় ভারত বাংলাদেশকে ন্যায্য হিস্যা দিতে বাধ্য ছিল না।

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা, মহানন্দাসহ দেশের বড় বড় নদী নাব্যতা হারিয়ে পানিশূন্য বালুচরে পরিণত হয়েছে। ফারাক্কা ব্যারাজের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মাসহ মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি না থাকায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পানি বিশ্লেষকরা বলেছেন, উজানে একাধিক বাঁধ দিয়ে ভারত পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফারাক্কা পয়েন্টেই পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে, যার লক্ষণ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।

কলকাতা বন্দর ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বড় বন্দর। হুগলি নদীতে পলি জমে বন্দরের নাব্যতা ব্যাহত হওয়ায় গঙ্গা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করে বিকল্প খালের মাধ্যমে গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা শুরু হয়। ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকেই উজান ও ভাটির অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় শুরু হয়। এই বাঁধের উজানে পলি জমে প্রতি বছর বন্যা হয়, আর ভাটিতে পানির অভাবে খরা দেখা দেয়। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপক নদীভাঙন হয় এবং বিপুল জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিহারেও প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির অভাবে পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর বুকে চর জেগে ওঠে। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যা হয়।

আজ প্রমাণিত হয়েছে যে, ফারাক্কা বাঁধ ভারত ও বাংলাদেশ— কারও জন্যই লাভজনক নয়। এই বাঁধের কারণে এতদিন উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন যারা ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করেছেন, আজ তাদের দাবিই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে যারা ফারাক্কা বিরোধিতাকে ভারতবিরোধিতা বলে অভিহিত করেছিলেন, তাদের সেই অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন আর শুধু বাংলাদেশের জনগণের নয়, ভারতের জনগণেরও ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ফারাক্কার পক্ষে শক্ত কোনো যুক্তি আজ আর অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। সুতরাং ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ কল্যাণের স্বার্থে ফারাক্কা বাঁধ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা উচিত। এটাই বাস্তবতা এবং এতেই উভয় দেশের কল্যাণ নিহিত।

ইতোমধ্যে ভারতেও ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পাশাপাশি মেধা পাটকরের মতো অ্যাক্টিভিস্ট এবং অনেক বিশেষজ্ঞও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ফারাক্কা এখন সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি সৃষ্টি করছে, তাই এটি অবিলম্বে ‘ডিকমিশন’ করা দরকার। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, কলকাতা বন্দরকেও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারেনি ফারাক্কা; সে কারণেই পরে হলদিয়া স্যাটেলাইট বন্দর গড়ে তুলতে হয়েছে। বাংলাদেশের অভিযোগ অনুযায়ী, ফারাক্কার কারণে পদ্মার দুই তীরের মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতেও ফারাক্কার সমালোচনা কম নয়। ফারাক্কার কার্যকারিতা নিয়ে ভারতেও দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। তবে কলকাতা বন্দর রক্ষার যুক্তিটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, আপত্তিগুলো গুরুত্ব পায়নি। ফারাক্কার উজানে ঝাড়খণ্ড-বিহার সীমান্ত এলাকাতেও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুম— দুই সময়েই সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমনা বন্দ্যোপাধ্যায় ফারাক্কা অঞ্চলে বাঁধের প্রভাব নিয়ে ফিল্ড স্টাডি ও গবেষণা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘ফারাক্কায় নদীর বুকেও চর পড়েছে, মাঝনদীতে বক দাঁড়িয়ে আছে—এটাও যেমন দেখেছি, তেমনি গঙ্গার বিধ্বংসী ভাঙনে পারের মানুষের জীবন ছারখার হয়ে যেতেও দেখেছি।’ তার ভাষায়, ‘নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্যাটার্নের পরিবর্তন দুই তীরের মানুষের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। ফারাক্কা ব্যারাজের কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও এর নেতিবাচক দিকগুলোও স্পষ্ট।’ তিনি জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীরা ফারাক্কা বাঁধকে ‘সাপের মাথা চেপে ধরার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশঙ্কা, নদীভাঙন ঠেকানো না গেলে ফারাক্কা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পাঁচ দশক পর আজ ভারতেরই একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন এটিকে অকল্যাণকর আখ্যা দিয়ে গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং ভারত সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে অধিকাংশ গেট খুলে দেয়, তখন এটা স্পষ্ট হয় যে, স্রষ্টার সৃষ্টি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে মানুষের কৃত্রিম হস্তক্ষেপ কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নদ-নদীকে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে দিতে হবে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ কল্যাণের স্বার্থেই ফারাক্কা বাঁধ চিরতরে অপসারণ করতে হবে এবং অন্য নদীতেও নতুন কোনো বাঁধ নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের মধ্যেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত।

আর সে জন্যই আজও মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মতো একজন সিংহপুরুষের প্রয়োজন অনুভূত হয়। অশীতিপর এ মানুষটি জীবনের শেষপ্রান্তে এসেও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সেই আহ্বানে লাখ লাখ মানুষ সাড়া দিয়ে আগ্রাসী শক্তির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

লেখক: রাজনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

মেগা-ইভেন্ট: ভূ-রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার

ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমসের মতো, প্রায়শই ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক সাফল্যের উৎসব হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু জৌলুস আর আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এক বাস্তবতা: মেগা-ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

৯ দিন আগে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় রাষ্ট্রের পদক্ষেপ জরুরি

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং বিশ্বসংযুক্ত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্ব নতুন কিছু সামাজিক, মানসিক ও শিক্ষাগত সংকটও তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্ফোরণমূলক বিস্তার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিকাশ, শিক্ষাগ্রহণ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এ

১১ দিন আগে

বিআরআই: আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বাস্তবতা ও বাংলাদেশের কৌশলগত সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে বাংলাদেশকে এখন আর কেবল একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উদীয়মান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

১১ দিন আগে

খোলা চিঠি: রাষ্ট্র, মানুষ ও আস্থার সংকট

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। এই চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না, জানি না। কিন্তু আমি জানি, বাংলাদেশের মাটি, নদী, মাঠ, জনপদ, শহর, বন্দর, শ্রমিক কলোনি, চরাঞ্চল, পাহাড়, চা বাগান এবং বস্তির মধ্যে যে দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায়, তার ভাষা একদিন না একদিন রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়বেই।

১২ দিন আগে