
ড. মিহির কুমার রায়

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভায় তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা কম।
এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধুঁকছে অর্থনীতি, ভোটের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
১. আয়কর: রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে। ছয় মাসে আয়কর থেকে আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ৪০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফলে আয়কর খাতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে আয়কর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪.৬৭ শতাংশ।
২. কাস্টমস: শুল্ক বা কাস্টমস খাতেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ খাতে ৬৫ হাজার ৮৫ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এতে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে শুল্ক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬.৬১ শতাংশ।
৩. ভ্যাট: অন্যদিকে ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ৭০ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। ফলে ভ্যাট খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে ভ্যাটে ১৯.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবে উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার কারণে সামগ্রিক রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়নি।
৪. ডিসেম্বর প্রান্তিক: একক মাস হিসেবেও ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এনবিআর। ওই মাসে ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৬ হাজার ১৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.২৫ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে শুল্ক থেকে আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ১২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং আয়কর থেকে ১৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা।
৫. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই মূল কারণ?
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও সামষ্টিক কারণ কাজ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগকার্যক্রমের স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভোক্তা ব্যয়ের সংকোচন এবং আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব রাজস্ব আদায়ের গতি মন্থর করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজস্ব প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘদিনের সংস্কার জট। এসব কারণে ঘাটতিটি শুধু সাময়িক নয়; বরং দেশের রাজস্ব সক্ষমতার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে।
এনবিআরের রাজস্ব আদায় ব্যর্থতা নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক পর্যবেক্ষণে বলেছে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ছিল না। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি হ্রাসের বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি করছাড়, সংস্কার বিলম্ব এবং কর ফাঁকি রোধে দুর্বলতাই রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরামর্শক কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করায় সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হলেও সংস্থাটি মন্তব্য করেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক খাতের স্থবিরতার পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থগিত হওয়াই ঘাটতির ক্ষেত্রে দায়ী। সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, এনবিআরের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, বদলি, সাজামূলক ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে কর্মকর্তাদের মনঃসংযোগে প্রভাব ফেলেছে। মাঠে রাজস্ব সংগ্রহেও এর প্রতিক্রিয়া পড়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম. হেলাল আহমেদ জনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির গতি কমে এসেছে। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়ছে না; ফলে কাস্টমস থেকে প্রত্যাশিত শুল্ক আদায় হয়নি। ভ্যাট আদায়েও দুর্বলতা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রকৃত বিক্রি গোপন করছে, যা উল্লেখযোগ্য ভ্যাট লিকেজ তৈরি করছে। এছাড়া করব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা—কর আওতা সংকীর্ণ থাকা, অনানুষ্ঠানিক খাতকে কর নেটে না আনা এবং কর প্রশাসনের দক্ষতার ঘাটতি। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ মনে করেন, রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল। তাঁর ভাষায়, “এনবিআরের সক্ষমতার বাইরে লক্ষ্য দেওয়া হয়; এখানেই সমস্যার শুরু। অর্থাৎ সংস্কার, কাঠামো, নীতির পরিবর্তন—সবই প্রয়োজনীয়; কিন্তু লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধান নাকমালে রাজস্ব প্রবাহের গতি বাড়ানো কঠিন।”
৬. রাজস্ব টার্গেট আদায়ে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: রাজস্ব আদায় বেগবান করতে অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে গতিবৃদ্ধি হবে বলে আশা করি, যেমনটা প্রায়শই হয়। এছাড়া করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ ও ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছি আমরা।”
রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআরে সংস্কার হচ্ছে, আইএমএফের শর্তও এগোচ্ছে—সব মিলিয়ে সংস্কারের পরিকল্পনার তালিকাও দীর্ঘ। কাঠামো গড়ছে, নথিতে অগ্রগতি বাড়ছে, বিভিন্ন প্রকল্প চলছে। সংস্কারের ধারাবাহিকতার মধ্যে রিটার্ন, ই-টিআইএন, ই-অডিট, আইভিএস, ই-ইনভয়েস—এসব প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ রাজস্ব প্রশাসনের বড় ভিত্তি দাঁড়াচ্ছে। করদাতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে কলসেন্টার ও অনলাইন ট্রেনিংও যুক্ত হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের বেশির ভাগ এখনো মধ্যপথে; মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব সীমিত। তাই প্রযুক্তি বাড়ছে, প্রক্রিয়া বদলাচ্ছে; কিন্তু রাজস্ব আহরণের মূল স্রোতে সেই পরিবর্তনের ধাক্কা পৌঁছায়নি।
রাজস্ব প্রবাহ এখনো সেই আগের ধীর ছন্দেই আটকে রয়েছে। রূপান্তরের পথে আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে যাতে করদাতারা স্বপ্রণোদিত হয়ে নৈতিকতার ভিত্তিতে কর দিতে পারে।
লেখক: অধ্যাপক ও গবেষক, সাবেক ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভায় তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা কম।
এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধুঁকছে অর্থনীতি, ভোটের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
১. আয়কর: রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে। ছয় মাসে আয়কর থেকে আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ৪০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফলে আয়কর খাতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে আয়কর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪.৬৭ শতাংশ।
২. কাস্টমস: শুল্ক বা কাস্টমস খাতেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ খাতে ৬৫ হাজার ৮৫ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এতে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে শুল্ক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬.৬১ শতাংশ।
৩. ভ্যাট: অন্যদিকে ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ৭০ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। ফলে ভ্যাট খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে ভ্যাটে ১৯.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবে উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার কারণে সামগ্রিক রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়নি।
৪. ডিসেম্বর প্রান্তিক: একক মাস হিসেবেও ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এনবিআর। ওই মাসে ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৬ হাজার ১৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.২৫ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে শুল্ক থেকে আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ১২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং আয়কর থেকে ১৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা।
৫. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই মূল কারণ?
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও সামষ্টিক কারণ কাজ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগকার্যক্রমের স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভোক্তা ব্যয়ের সংকোচন এবং আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব রাজস্ব আদায়ের গতি মন্থর করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজস্ব প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘদিনের সংস্কার জট। এসব কারণে ঘাটতিটি শুধু সাময়িক নয়; বরং দেশের রাজস্ব সক্ষমতার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে।
এনবিআরের রাজস্ব আদায় ব্যর্থতা নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক পর্যবেক্ষণে বলেছে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ছিল না। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি হ্রাসের বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি করছাড়, সংস্কার বিলম্ব এবং কর ফাঁকি রোধে দুর্বলতাই রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরামর্শক কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করায় সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হলেও সংস্থাটি মন্তব্য করেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক খাতের স্থবিরতার পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থগিত হওয়াই ঘাটতির ক্ষেত্রে দায়ী। সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, এনবিআরের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, বদলি, সাজামূলক ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে কর্মকর্তাদের মনঃসংযোগে প্রভাব ফেলেছে। মাঠে রাজস্ব সংগ্রহেও এর প্রতিক্রিয়া পড়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম. হেলাল আহমেদ জনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির গতি কমে এসেছে। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়ছে না; ফলে কাস্টমস থেকে প্রত্যাশিত শুল্ক আদায় হয়নি। ভ্যাট আদায়েও দুর্বলতা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রকৃত বিক্রি গোপন করছে, যা উল্লেখযোগ্য ভ্যাট লিকেজ তৈরি করছে। এছাড়া করব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা—কর আওতা সংকীর্ণ থাকা, অনানুষ্ঠানিক খাতকে কর নেটে না আনা এবং কর প্রশাসনের দক্ষতার ঘাটতি। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ মনে করেন, রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল। তাঁর ভাষায়, “এনবিআরের সক্ষমতার বাইরে লক্ষ্য দেওয়া হয়; এখানেই সমস্যার শুরু। অর্থাৎ সংস্কার, কাঠামো, নীতির পরিবর্তন—সবই প্রয়োজনীয়; কিন্তু লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধান নাকমালে রাজস্ব প্রবাহের গতি বাড়ানো কঠিন।”
৬. রাজস্ব টার্গেট আদায়ে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: রাজস্ব আদায় বেগবান করতে অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে গতিবৃদ্ধি হবে বলে আশা করি, যেমনটা প্রায়শই হয়। এছাড়া করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ ও ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছি আমরা।”
রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআরে সংস্কার হচ্ছে, আইএমএফের শর্তও এগোচ্ছে—সব মিলিয়ে সংস্কারের পরিকল্পনার তালিকাও দীর্ঘ। কাঠামো গড়ছে, নথিতে অগ্রগতি বাড়ছে, বিভিন্ন প্রকল্প চলছে। সংস্কারের ধারাবাহিকতার মধ্যে রিটার্ন, ই-টিআইএন, ই-অডিট, আইভিএস, ই-ইনভয়েস—এসব প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ রাজস্ব প্রশাসনের বড় ভিত্তি দাঁড়াচ্ছে। করদাতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে কলসেন্টার ও অনলাইন ট্রেনিংও যুক্ত হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের বেশির ভাগ এখনো মধ্যপথে; মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব সীমিত। তাই প্রযুক্তি বাড়ছে, প্রক্রিয়া বদলাচ্ছে; কিন্তু রাজস্ব আহরণের মূল স্রোতে সেই পরিবর্তনের ধাক্কা পৌঁছায়নি।
রাজস্ব প্রবাহ এখনো সেই আগের ধীর ছন্দেই আটকে রয়েছে। রূপান্তরের পথে আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে যাতে করদাতারা স্বপ্রণোদিত হয়ে নৈতিকতার ভিত্তিতে কর দিতে পারে।
লেখক: অধ্যাপক ও গবেষক, সাবেক ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমসের মতো, প্রায়শই ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক সাফল্যের উৎসব হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু জৌলুস আর আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এক বাস্তবতা: মেগা-ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
৯ দিন আগে
প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং বিশ্বসংযুক্ত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্ব নতুন কিছু সামাজিক, মানসিক ও শিক্ষাগত সংকটও তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্ফোরণমূলক বিস্তার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিকাশ, শিক্ষাগ্রহণ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এ
১১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে বাংলাদেশকে এখন আর কেবল একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উদীয়মান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১১ দিন আগে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। এই চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না, জানি না। কিন্তু আমি জানি, বাংলাদেশের মাটি, নদী, মাঠ, জনপদ, শহর, বন্দর, শ্রমিক কলোনি, চরাঞ্চল, পাহাড়, চা বাগান এবং বস্তির মধ্যে যে দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায়, তার ভাষা একদিন না একদিন রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়বেই।
১২ দিন আগে