
জাকির আহমদ খান কামাল

শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড— এই বহুল উচ্চারিত সত্য কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তব প্রয়োগে এর সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা তাই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি নৈতিক অঙ্গীকার, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। ভর্তি-বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম, কোচিং-নির্ভরতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক দুর্নীতি— এসব সমস্যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ শিক্ষার্থীদের নৈতিক ভিত্তি নষ্ট করে এবং মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ ধ্বংস করে। ফলে প্রকৃত মেধাবীরা নিরুৎসাহিত হয় এবং সমাজে অন্যায়ভাবে সুবিধা লাভের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে।
জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হলে শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর প্রয়োগ। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইন ভর্তি ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, আর্থিক লেনদেনে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা— এসব পদক্ষেপ দুর্নীতি কমাতে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো প্রভাবশালী মহল দায় এড়িয়ে যেতে না পারে।
পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সততা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত না হলে প্রশাসনিক উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি চরিত্র গঠনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জোরদার করা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সফল হলে তা কেবল শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, পুরো সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ শিক্ষাঙ্গন থেকেই ভবিষ্যৎ নাগরিকের মানসিকতা ও নৈতিকতা গড়ে ওঠে। তাই দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা মানে দুর্নীতিমুক্ত জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপন করা।
এখন দেখার বিষয়— মন্ত্রীর সেই ঘোষণা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবে রূপ পায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করে।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কলাম লেখক

শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড— এই বহুল উচ্চারিত সত্য কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তব প্রয়োগে এর সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা তাই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি নৈতিক অঙ্গীকার, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। ভর্তি-বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম, কোচিং-নির্ভরতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক দুর্নীতি— এসব সমস্যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ শিক্ষার্থীদের নৈতিক ভিত্তি নষ্ট করে এবং মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ ধ্বংস করে। ফলে প্রকৃত মেধাবীরা নিরুৎসাহিত হয় এবং সমাজে অন্যায়ভাবে সুবিধা লাভের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে।
জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হলে শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর প্রয়োগ। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইন ভর্তি ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, আর্থিক লেনদেনে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা— এসব পদক্ষেপ দুর্নীতি কমাতে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো প্রভাবশালী মহল দায় এড়িয়ে যেতে না পারে।
পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সততা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত না হলে প্রশাসনিক উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি চরিত্র গঠনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জোরদার করা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সফল হলে তা কেবল শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, পুরো সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ শিক্ষাঙ্গন থেকেই ভবিষ্যৎ নাগরিকের মানসিকতা ও নৈতিকতা গড়ে ওঠে। তাই দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা মানে দুর্নীতিমুক্ত জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপন করা।
এখন দেখার বিষয়— মন্ত্রীর সেই ঘোষণা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবে রূপ পায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করে।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কলাম লেখক

ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমসের মতো, প্রায়শই ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক সাফল্যের উৎসব হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু জৌলুস আর আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এক বাস্তবতা: মেগা-ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
৯ দিন আগে
প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং বিশ্বসংযুক্ত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্ব নতুন কিছু সামাজিক, মানসিক ও শিক্ষাগত সংকটও তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্ফোরণমূলক বিস্তার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিকাশ, শিক্ষাগ্রহণ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এ
১১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে বাংলাদেশকে এখন আর কেবল একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উদীয়মান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১১ দিন আগে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। এই চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না, জানি না। কিন্তু আমি জানি, বাংলাদেশের মাটি, নদী, মাঠ, জনপদ, শহর, বন্দর, শ্রমিক কলোনি, চরাঞ্চল, পাহাড়, চা বাগান এবং বস্তির মধ্যে যে দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায়, তার ভাষা একদিন না একদিন রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়বেই।
১২ দিন আগে