
নাজমুল ইসলাম হৃদয়

দুই বছর আগে থেমে যাওয়া এক মিছিল, আজও যার পায়ের শব্দ শোনা যায়। গণভবনের ফটক যেদিন হুট করে খুলে গিয়েছিল, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ কতটা পথ হেঁটেছে? আর কতটা পথ এখনো বাকি?
শাহবাগ মোড়ে সেদিন দুপুরের রোদ ছিল তীব্র। তার চেয়েও তীব্র ছিল একটা শহরের নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখা অপেক্ষা। ঘড়িতে তখনো ২টা বাজেনি। মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছিল একটাই খবর— প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গণভবন ছেড়েছে। কেউ নিশ্চিত জানত না কোথায় যাচ্ছে সেই বহর। কিন্তু সবাই বুঝে গিয়েছিল— একটা যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।
তারপর যা ঘটল তা ইতিহাস। ক্ষমতার মসনদে টানা প্রায় ১৬ বছর কাটানো একজন প্রধানমন্ত্রী, যার পতনের কথা মাসখানেক আগেও কল্পনাতীত মনে হতো, দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি ধরলেন দিল্লির পথ। গণভবনের ফটক তখন জনতার জন্য হাট করে খোলা।
আজ ৫ আগস্ট ২০২৬। সেই দুপুরের ঠিক দুই বছর পর। যে মিছিল সেদিন শাহবাগ, শহিদ মিনার আর যমুনার সামনের রাস্তায় থেমে গিয়েছিল আনন্দ-উল্লাসে, তার পায়ের শব্দ আজও যেন মিলিয়ে যায়নি। বদলেছে সরকার, বদলেছে সংসদ, বদলেছে রাষ্ট্রের নথিপত্র। কিন্তু সেই দিনের প্রশ্নগুলো এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
গল্পের শুরুটা অবশ্য ৫ আগস্টে নয়, আরও মাস দুয়েক আগে।
২০২৪ সালের ৫ জুন এক রায়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা-কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এতে ৩০ শতাংশ কোটা ফের বহাল হয়। পরদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শোনা যায় স্লোগান— ‘কোটা না মেধা’।
সেই থেকে যে আন্দোলনের সূত্রপাত, তৎকালীন সরকারের হিংস্র আচরণে তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রূপ নেয় সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের জনসমুদ্রে ৯ দফা দাবি রূপান্তরিত হয় একটিমাত্র দাবিতে— শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পতন।
৪ আগস্ট, সরকার পতনের ঠিক আগের দিনটি ছিল এ আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিনগুলোর একটি। সেদিন সংঘর্ষে অন্তত ১১৪ জনের প্রাণহানির খবর দেয় সংবাদমাধ্যম। সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়, পুলিশও একপর্যায়ে পিছু হটে। ৫ আগস্ট ঢাকামুখী লংমার্চের ডাক আসার পর দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সরকার আর টিকছে না।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এ রূপান্তরে ছিল সিদ্ধান্তমূলক। কয়েকদিনের রাজনৈতিক শূন্যতার পর গঠিত হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার হাতে ন্যস্ত হয় একইসঙ্গে রাষ্ট্র সামলানো ও নির্বাচনের পথ তৈরি করার দুই কঠিন দায়িত্ব। প্রায় ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকার পর সেই সরকার নির্বাচনের আয়োজন করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে দেড় হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার শিকার।
এ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য থামেনি। গত মে মাসে শেখ হাসিনার প্রতিনিধিরা জাতিসংঘে চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেন, এ পরিসংখ্যান ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশে অতিরঞ্জিত। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত পৃথক শহিদ তালিকা ও জাতিসংঘের হিসাবের মধ্যে ফারাক নিয়ে বিতর্কও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে এটি জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে রয়ে গেছে।
বিচারের প্রশ্নেও গত দুই বছরে বড় মোড় এসেছে। আগস্টের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই। গত বছরের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করে— তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে মৃত্যুদণ্ড, একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।
এ বছরের জানুয়ারিতে সাড়ে চার শ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের পরপরই সরকার ভারতের কাছে হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠায়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছায়নি, দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিলের সুযোগ আইনে রক্ষিত আছে। ৫ আগস্ট থেকে দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার কথা জানিয়েছেন বটে, তবে সে ঘোষণা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক মঞ্চেও বদল এসেছে নাটকীয়ভাবে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, একই দিনে হয় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো। গণভোটে প্রায় সাড়ে চার কোটি ভোট পড়ে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে, ভোট পড়ার হার ছিল ৬০ শতাংশের কিছু বেশি। নির্বাচনে বিএনপি পায় ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং বাকিগুলো ছোট দল ও জোটের ভাগে যায়।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এই ফলাফল একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করে। ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটানো তারেক রহমান রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে সরাসরি ক্ষমতায় বসলেন এমন এক বাংলাদেশে, যার তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই প্রথম রাজনৈতিক সচেতনতা পেয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদে আসন কম পেলেও রাজনৈতিক বয়ানে একটি নতুন কণ্ঠস্বর যোগ করেছে, যা আগামী নির্বাচনগুলোতে আরও পরীক্ষিত হবে।
জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্কও থেমে নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের নভেম্বরে জারি হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি শুরুতে অবৈধ বলে দাবি করেছিল এবং সে অনুযায়ী শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, যদিও দলটি বলেছে সনদে সইকৃত বিষয়গুলো তারা নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করবে।
এ সপ্তাহেই জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করেছে, যার লক্ষ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্প্রবর্তন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের মতো প্রস্তাবগুলোকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়া। অর্থাৎ জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ‘রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার’ এখনো প্রক্রিয়াধীন, চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
অর্থনীতির খাতাও দুই বছরে লিখেছে মিশ্র এক গল্প। পতনের পরপরই প্রবাসী আয়ে যে বড় উল্লম্ফন দেখা দেয়, তার ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ে প্রায় ২৭ শতাংশ, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও লেনদেনের ভারসাম্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। চলতি হিসাবের উন্নতি ও বৈদেশিক খাতের আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে একই সময়ে খাদ্যপণ্যের চড়া দামের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে গেছে সাধারণ মানুষের সংসারে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে, আর ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, কাঠামোগত সংস্কার ত্বরান্বিত না হলে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে সাড়ে ৩ শতাংশে। ২০২৫ সালে চালু করা বিনিময় হারের ক্রলিং পেগ পদ্ধতি এবং কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থাৎ পতনের অভিঘাত সামলানো গেছে, কিন্তু টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ এখনও মসৃণ নয়।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও পালাবদল লক্ষ্যণীয়। প্রথম দিকের টানাপোড়েনের পর ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে ফিরছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার উভয়েই সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও তারেক রহমানের চীন সফর ঘিরে ছিল দিল্লির সতর্ক পর্যবেক্ষণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সম্প্রতি ঢাকা সফরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দুই বছর পেরিয়ে এসে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ঘোরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মুখে মুখে তা হলো— ৫ আগস্ট আসলে কী দিয়েছে, আর কী দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ক্ষমতার এই পটপরিবর্তন না ঘটলে হয়তো নির্বাচন, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা সংস্কারের বর্তমান বাস্তবতাই তৈরি হতো না। অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর ঘটেছে, সংবিধান সংস্কারের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে— এগুলোকে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
আবার প্রশ্নও কম নয়। নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এখনো মেটেনি, বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েই গেছে। আবার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে মতভেদও প্রকাশ্যে এসেছে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠকেই।
সবকিছুর পরও দেশের কোনো এক প্রান্তে, কোনো এক অলিগলিতে সেদিন যে পরিবারগুলো জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে এসেছিল, যুদ্ধজয়ের মতো উচ্ছ্বাস নিয়ে, তাদের কাছে ৫ আগস্ট এখরো একটা মুক্তির নাম। আবার যারা সে দিনগুলোতে স্বজন হারিয়েছেন, তাদের কাছে দিনটি এক অসমাপ্ত হিসাবের, যার শেষ পাতা এখনো লেখা হয়নি।
ইতিহাস সাধারণত রায় দিতে সময় নেয়। কোনো একটি নির্বাচন, কোনো একটিমাত্র রায়, কোনো একটিমাত্র গণভোট দিয়ে ৫ আগস্টের সম্পূর্ণ মূল্যায়ন হয়তো এখনই সম্ভব নয়। যে মিছিল দুই বছর আগে গণভবনের ফটকে থেমে গিয়েছিল আনন্দে, তার আসল গন্তব্য বোধহয় আরও দূরে।
একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা বদলাল, মানুষের রোজকার জীবনে সেই পরিবর্তনের ছায়া কতটা পড়ল, তার হিসাব মিলবে আরও কয়েক বছর পর। আপাতত বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে সেই দীর্ঘ পথের এক মধ্যবিন্দুতে, যেখানে স্মৃতি আর প্রত্যাশা— দুটোই সমান ভারী।
লেখক: সাংবাদিক

দুই বছর আগে থেমে যাওয়া এক মিছিল, আজও যার পায়ের শব্দ শোনা যায়। গণভবনের ফটক যেদিন হুট করে খুলে গিয়েছিল, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ কতটা পথ হেঁটেছে? আর কতটা পথ এখনো বাকি?
শাহবাগ মোড়ে সেদিন দুপুরের রোদ ছিল তীব্র। তার চেয়েও তীব্র ছিল একটা শহরের নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখা অপেক্ষা। ঘড়িতে তখনো ২টা বাজেনি। মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছিল একটাই খবর— প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গণভবন ছেড়েছে। কেউ নিশ্চিত জানত না কোথায় যাচ্ছে সেই বহর। কিন্তু সবাই বুঝে গিয়েছিল— একটা যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।
তারপর যা ঘটল তা ইতিহাস। ক্ষমতার মসনদে টানা প্রায় ১৬ বছর কাটানো একজন প্রধানমন্ত্রী, যার পতনের কথা মাসখানেক আগেও কল্পনাতীত মনে হতো, দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি ধরলেন দিল্লির পথ। গণভবনের ফটক তখন জনতার জন্য হাট করে খোলা।
আজ ৫ আগস্ট ২০২৬। সেই দুপুরের ঠিক দুই বছর পর। যে মিছিল সেদিন শাহবাগ, শহিদ মিনার আর যমুনার সামনের রাস্তায় থেমে গিয়েছিল আনন্দ-উল্লাসে, তার পায়ের শব্দ আজও যেন মিলিয়ে যায়নি। বদলেছে সরকার, বদলেছে সংসদ, বদলেছে রাষ্ট্রের নথিপত্র। কিন্তু সেই দিনের প্রশ্নগুলো এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
গল্পের শুরুটা অবশ্য ৫ আগস্টে নয়, আরও মাস দুয়েক আগে।
২০২৪ সালের ৫ জুন এক রায়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা-কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এতে ৩০ শতাংশ কোটা ফের বহাল হয়। পরদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শোনা যায় স্লোগান— ‘কোটা না মেধা’।
সেই থেকে যে আন্দোলনের সূত্রপাত, তৎকালীন সরকারের হিংস্র আচরণে তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রূপ নেয় সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের জনসমুদ্রে ৯ দফা দাবি রূপান্তরিত হয় একটিমাত্র দাবিতে— শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পতন।
৪ আগস্ট, সরকার পতনের ঠিক আগের দিনটি ছিল এ আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিনগুলোর একটি। সেদিন সংঘর্ষে অন্তত ১১৪ জনের প্রাণহানির খবর দেয় সংবাদমাধ্যম। সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়, পুলিশও একপর্যায়ে পিছু হটে। ৫ আগস্ট ঢাকামুখী লংমার্চের ডাক আসার পর দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সরকার আর টিকছে না।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এ রূপান্তরে ছিল সিদ্ধান্তমূলক। কয়েকদিনের রাজনৈতিক শূন্যতার পর গঠিত হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার হাতে ন্যস্ত হয় একইসঙ্গে রাষ্ট্র সামলানো ও নির্বাচনের পথ তৈরি করার দুই কঠিন দায়িত্ব। প্রায় ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকার পর সেই সরকার নির্বাচনের আয়োজন করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে দেড় হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার শিকার।
এ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য থামেনি। গত মে মাসে শেখ হাসিনার প্রতিনিধিরা জাতিসংঘে চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেন, এ পরিসংখ্যান ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশে অতিরঞ্জিত। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত পৃথক শহিদ তালিকা ও জাতিসংঘের হিসাবের মধ্যে ফারাক নিয়ে বিতর্কও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে এটি জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে রয়ে গেছে।
বিচারের প্রশ্নেও গত দুই বছরে বড় মোড় এসেছে। আগস্টের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই। গত বছরের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করে— তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে মৃত্যুদণ্ড, একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।
এ বছরের জানুয়ারিতে সাড়ে চার শ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের পরপরই সরকার ভারতের কাছে হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠায়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছায়নি, দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিলের সুযোগ আইনে রক্ষিত আছে। ৫ আগস্ট থেকে দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার কথা জানিয়েছেন বটে, তবে সে ঘোষণা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক মঞ্চেও বদল এসেছে নাটকীয়ভাবে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, একই দিনে হয় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো। গণভোটে প্রায় সাড়ে চার কোটি ভোট পড়ে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে, ভোট পড়ার হার ছিল ৬০ শতাংশের কিছু বেশি। নির্বাচনে বিএনপি পায় ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং বাকিগুলো ছোট দল ও জোটের ভাগে যায়।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এই ফলাফল একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করে। ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটানো তারেক রহমান রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে সরাসরি ক্ষমতায় বসলেন এমন এক বাংলাদেশে, যার তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই প্রথম রাজনৈতিক সচেতনতা পেয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদে আসন কম পেলেও রাজনৈতিক বয়ানে একটি নতুন কণ্ঠস্বর যোগ করেছে, যা আগামী নির্বাচনগুলোতে আরও পরীক্ষিত হবে।
জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্কও থেমে নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের নভেম্বরে জারি হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি শুরুতে অবৈধ বলে দাবি করেছিল এবং সে অনুযায়ী শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, যদিও দলটি বলেছে সনদে সইকৃত বিষয়গুলো তারা নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করবে।
এ সপ্তাহেই জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করেছে, যার লক্ষ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্প্রবর্তন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের মতো প্রস্তাবগুলোকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়া। অর্থাৎ জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ‘রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার’ এখনো প্রক্রিয়াধীন, চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
অর্থনীতির খাতাও দুই বছরে লিখেছে মিশ্র এক গল্প। পতনের পরপরই প্রবাসী আয়ে যে বড় উল্লম্ফন দেখা দেয়, তার ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ে প্রায় ২৭ শতাংশ, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও লেনদেনের ভারসাম্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। চলতি হিসাবের উন্নতি ও বৈদেশিক খাতের আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে একই সময়ে খাদ্যপণ্যের চড়া দামের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে গেছে সাধারণ মানুষের সংসারে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে, আর ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, কাঠামোগত সংস্কার ত্বরান্বিত না হলে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে সাড়ে ৩ শতাংশে। ২০২৫ সালে চালু করা বিনিময় হারের ক্রলিং পেগ পদ্ধতি এবং কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থাৎ পতনের অভিঘাত সামলানো গেছে, কিন্তু টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ এখনও মসৃণ নয়।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও পালাবদল লক্ষ্যণীয়। প্রথম দিকের টানাপোড়েনের পর ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে ফিরছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার উভয়েই সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও তারেক রহমানের চীন সফর ঘিরে ছিল দিল্লির সতর্ক পর্যবেক্ষণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সম্প্রতি ঢাকা সফরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দুই বছর পেরিয়ে এসে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ঘোরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মুখে মুখে তা হলো— ৫ আগস্ট আসলে কী দিয়েছে, আর কী দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ক্ষমতার এই পটপরিবর্তন না ঘটলে হয়তো নির্বাচন, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা সংস্কারের বর্তমান বাস্তবতাই তৈরি হতো না। অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর ঘটেছে, সংবিধান সংস্কারের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে— এগুলোকে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
আবার প্রশ্নও কম নয়। নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এখনো মেটেনি, বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েই গেছে। আবার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে মতভেদও প্রকাশ্যে এসেছে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠকেই।
সবকিছুর পরও দেশের কোনো এক প্রান্তে, কোনো এক অলিগলিতে সেদিন যে পরিবারগুলো জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে এসেছিল, যুদ্ধজয়ের মতো উচ্ছ্বাস নিয়ে, তাদের কাছে ৫ আগস্ট এখরো একটা মুক্তির নাম। আবার যারা সে দিনগুলোতে স্বজন হারিয়েছেন, তাদের কাছে দিনটি এক অসমাপ্ত হিসাবের, যার শেষ পাতা এখনো লেখা হয়নি।
ইতিহাস সাধারণত রায় দিতে সময় নেয়। কোনো একটি নির্বাচন, কোনো একটিমাত্র রায়, কোনো একটিমাত্র গণভোট দিয়ে ৫ আগস্টের সম্পূর্ণ মূল্যায়ন হয়তো এখনই সম্ভব নয়। যে মিছিল দুই বছর আগে গণভবনের ফটকে থেমে গিয়েছিল আনন্দে, তার আসল গন্তব্য বোধহয় আরও দূরে।
একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা বদলাল, মানুষের রোজকার জীবনে সেই পরিবর্তনের ছায়া কতটা পড়ল, তার হিসাব মিলবে আরও কয়েক বছর পর। আপাতত বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে সেই দীর্ঘ পথের এক মধ্যবিন্দুতে, যেখানে স্মৃতি আর প্রত্যাশা— দুটোই সমান ভারী।
লেখক: সাংবাদিক

কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রশ্ন হলো— আমাদের গণমাধ্যম কি সবসময় সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে পারছে? নাকি কখনো কখনো সংবাদও হয়ে উঠছে রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যবসায়িক স্বার্থ, ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধার অংশ?
৫ দিন আগে
রাষ্ট্রের ক্রান্তিকালে বিএনপি ও তার সমর্থক রাজনৈতিক দলগুলোও চায়নি দেশে আর কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হোক। যাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো অপশক্তি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
৮ দিন আগে
দুপুর অনেক আগেই গড়িয়ে গেছে। দিল্লির ঝাপসা রোদের নিচে হাজারো তরুণ-তরুণী বসে আছেন আন্দোলনের মঞ্চে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন গতকাল শুক্রবার নতুন গতি পায়, যখন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরকারকে চাপে ফেলতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেয়।
১১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সূচনা। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন, এরপর নির্ধারিত ৯০ দিন সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন
১১ দিন আগে