
মো. হাসান আলী রেজা

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে, যা দুই পক্ষের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২০ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক বাণিজ্য ও সহযোগিতা থেকে আরও উচ্চতর কৌশলগত স্তরে উন্নীত হলো।
পিসিএ চুক্তির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা বজায় রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গ: বাংলাদেশের বাস্তবতা
দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সই হওয়া অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটি সূচক।
দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত উন্নয়ন সহায়তা ও বাণিজ্য সুবিধাকেন্দ্রিক ছিল। বিশেষ করে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে, যা দেশের রপ্তানি খাত— বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। জাতিসংঘের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে। এর ফলে বর্তমান বাণিজ্য সুবিধা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার হবে এবং ইউরোপীয় বাজারে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ প্রেক্ষাপটে পিসিএ একটি ‘রূপান্তর সেতু’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে সই করেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পাম্পালনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস।
জিএসপি প্লাসের পথে নতুন সুযোগ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস কর্মসূচি এলডিসি-উত্তর দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। তবে এই সুবিধা পেতে হলে মানবাধিকার, শ্রমমান, পরিবেশ এবং সুশাসন সম্পর্কিত ২৭টি আন্তর্জাতিক সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পিসিএ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, নীতি সমন্বয় ও মানদণ্ড পূরণের প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ হবে। এর ফলে জিএসপি প্লাস পাওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মতভাবে জোরদার হয়েছে।
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
যদি জিএসপি প্লাস নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সম্ভাব্য শুল্ক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে, যা বছরে আনুমানিক ২৫০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সুবিধা ধরে রাখা বা অর্জনের পথ তৈরি করতে পারে।
বাণিজ্যের বাইরে কৌশলগত সহযোগিতা
পিসিএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বিস্তৃতি। এটি কেবল বাণিজ্য নয়; বরং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংলাপ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।
সবুজ রূপান্তর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে ইউরোপ ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বৈশ্বিক অবকাঠামো ও সবুজ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। পিসিএর ফলে এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, যা বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও উচ্চপ্রযুক্তি পার্কগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পিসিএর মাধ্যমে নীতি স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতিগত সংস্কার ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বছরে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব।
নীরব কূটনীতি, দৃশ্যমান ফলাফল
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো— এই অগ্রগতি খুব বেশি প্রচার পায়নি। অথচ এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
পরিশেষে
পিসিএ কোনো তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক বিপ্লব নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো, যার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, নীতি সংস্কার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের ওপর।
তবে এটুকু স্পষ্ট— বাংলাদেশ এখন আর কেবল সহায়তানির্ভর অর্থনীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং একটি উদীয়মান, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনটাই আসল অর্জন।
লেখক: সমাজকর্মী, গবেষক ও অনলাইন সাংবাদিক

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে, যা দুই পক্ষের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২০ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক বাণিজ্য ও সহযোগিতা থেকে আরও উচ্চতর কৌশলগত স্তরে উন্নীত হলো।
পিসিএ চুক্তির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা বজায় রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গ: বাংলাদেশের বাস্তবতা
দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সই হওয়া অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটি সূচক।
দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত উন্নয়ন সহায়তা ও বাণিজ্য সুবিধাকেন্দ্রিক ছিল। বিশেষ করে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে, যা দেশের রপ্তানি খাত— বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। জাতিসংঘের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে। এর ফলে বর্তমান বাণিজ্য সুবিধা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার হবে এবং ইউরোপীয় বাজারে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ প্রেক্ষাপটে পিসিএ একটি ‘রূপান্তর সেতু’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে সই করেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পাম্পালনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস।
জিএসপি প্লাসের পথে নতুন সুযোগ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস কর্মসূচি এলডিসি-উত্তর দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। তবে এই সুবিধা পেতে হলে মানবাধিকার, শ্রমমান, পরিবেশ এবং সুশাসন সম্পর্কিত ২৭টি আন্তর্জাতিক সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পিসিএ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, নীতি সমন্বয় ও মানদণ্ড পূরণের প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ হবে। এর ফলে জিএসপি প্লাস পাওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মতভাবে জোরদার হয়েছে।
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
যদি জিএসপি প্লাস নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সম্ভাব্য শুল্ক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে, যা বছরে আনুমানিক ২৫০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সুবিধা ধরে রাখা বা অর্জনের পথ তৈরি করতে পারে।
বাণিজ্যের বাইরে কৌশলগত সহযোগিতা
পিসিএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বিস্তৃতি। এটি কেবল বাণিজ্য নয়; বরং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংলাপ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।
সবুজ রূপান্তর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে ইউরোপ ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বৈশ্বিক অবকাঠামো ও সবুজ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। পিসিএর ফলে এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, যা বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও উচ্চপ্রযুক্তি পার্কগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পিসিএর মাধ্যমে নীতি স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতিগত সংস্কার ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বছরে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব।
নীরব কূটনীতি, দৃশ্যমান ফলাফল
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো— এই অগ্রগতি খুব বেশি প্রচার পায়নি। অথচ এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
পরিশেষে
পিসিএ কোনো তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক বিপ্লব নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো, যার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, নীতি সংস্কার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের ওপর।
তবে এটুকু স্পষ্ট— বাংলাদেশ এখন আর কেবল সহায়তানির্ভর অর্থনীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং একটি উদীয়মান, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনটাই আসল অর্জন।
লেখক: সমাজকর্মী, গবেষক ও অনলাইন সাংবাদিক

শুনতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হলেও, এই ‘প্রণোদনা’ কি আসলেই ছাদ-মালিকদের আকৃষ্ট করতে পারবে? এর ফলে, ছাদ-মালিকেরা কি রুফটপ সোলার স্থাপনে বাড়তি উৎসাহ বোধ করবেন, নাকি বিদ্যমান নেট মিটারিং ব্যবস্থাকেই বেশি লাভজনক মনে করবেন?
১৪ দিন আগে
বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলনটির গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ ঢাকা একইসঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে ব্রিকসকে বাংলাদেশের কাছে কোনো একটি ভূরাজনৈতিক বলয় হিসেবে দেখার চেয়ে বরং বিকল্প অর্থায়ন, বাণিজ্যিক বৈচিত্র্য, জ্
১৪ দিন আগে
একটি নবনির্বাচিত বা নতুন গঠিত সরকারের সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পথচলা নিছক রুটিন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; বরং এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানো, গণআকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থানের এক কঠিন পর
২২ দিন আগে
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২৬ আগস্ট ২০২৬