অবিন্তা গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী, আগ্রহের কেন্দ্রে মুনিরার ‘নস্টালজিয়া’

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ২২: ৪৩
চিত্রশিল্পী মুনিরা বেগম লিপির (বাঁয়ে) চিত্রকর্ম ‘নস্টালজিয়া’ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় অবস্থিত অবিন্তা গ্যালারিতে (Abinta Gallery of Fine Arts) শুরু হয়েছে ‘Women in Art 2026’ শীর্ষক দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী। গত ৯ মে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। দেশের ৫০ জন বাছাইকৃত নারী চিত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রদর্শনীটি ইতোমধ্যে শিল্পপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

প্রদর্শনীর অন্যতম আলোচিত কাজ চিত্রশিল্পী মুনিরা বেগম লিপির বিমূর্ত চিত্রকর্ম ‘নস্টালজিয়া’। স্মৃতি, সময়, নীরব আবেগ ও হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির বিমূর্ত প্রকাশ উঠে এসেছে এতে। গাঢ় ধূসর, কালো, মাটিরঙা বাদামি, সবুজ, সাদা ও লালচে রঙের স্তরবিন্যাসে শিল্পী নির্মাণ করেছেন এক গভীর মানসিক আবহ।

নস্টালজিয়া সরাসরি কোনো দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করে না; বরং এটি স্মৃতির ভেতর দিয়ে ফিরে দেখা এক মানসিক ভ্রমণ। শিল্পবোদ্ধাদের মতে, এটি শুধু একটি বিমূর্ত চিত্রকর্ম নয়; এটি স্মৃতি ও সময়ের বহুমাত্রিক পাঠ। ছবির ভাঙা জ্যামিতিক গঠন, টেক্সচার ও স্তরযুক্ত রঙ দর্শককে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও হারিয়ে যাওয়া সময়ের অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। কাজটির নীরব প্রকাশভঙ্গিই এর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন শিল্প সমালোচকরা।

তাদের অভিমত, ছবিতে কালো ও ধূসর রঙের গভীরতার পাশাপাশি সবুজ ও সাদার উপস্থিতি আশ্রয় ও আশার ইঙ্গিত বহন করে। সরাসরি কোনো দৃশ্যপট তুলে না ধরেও শিল্পী দর্শকের মনে শৈশব, পুরনো সময় ও ফিরে না পাওয়া দিনের আবেগ জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। নস্টালজিয়া দর্শককে এমন এক মানসিক পরিসরে নিয়ে যায়, যেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি ধীরে ধীরে সামষ্টিক অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়।

তারা আরও বলেন, নস্টালজিয়া দর্শককে প্রস্তুত উত্তর দেয় না; বরং নিজস্ব স্মৃতি দিয়ে ছবিটি সম্পূর্ণ করার সুযোগ দেয়। এই কারণেই কাজটি শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভবের শিল্প। আধুনিক বিমূর্ত ভাষার ভেতর দিয়ে শিল্পী যে আবেগময় মানবিকতা তুলে ধরেছেন, তা প্রদর্শনীর সামগ্রিক শিল্পমানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

চিত্রশিল্পী মুনিরা বেগম লিপি বলেন, ‘আমি চাই আমার ক্যানভাস যেন কথা বলে। মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শৈশব, স্মৃতি ও নীরব আবেগকে আমি রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নস্টালজিয়া আমার কাছে ফিরে না পাওয়া সময়ের প্রতিচ্ছবি। এই কাজের মাধ্যমে আমি স্মৃতির গভীর মানবিক অনুভূতিকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি।’

প্রদর্শনীতে নস্টালজিয়া বেশ সাড়া ফেলেছে, চিত্রকর্মটি দেখতে ভিড় করছেন শিল্পপ্রেমীরা। আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনীটি নারী শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও শিল্পভাবনাকে সামনে নিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অবিন্তা গ্যালারির চেয়ারপারসন নিলু রওশন মুর্শেদ, ফরিদা জামান এবং কনক চাঁপা চাকমাসহ বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিজনরা।

নারী শিল্পীদের সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে আসা এই আয়োজন শিল্পপ্রেমী দর্শক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

৭৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এ পাকিস্তান

আনিকা মেরাজ শুধু সৌন্দর্যেই নয়, মেধার দিক থেকেও অনন্য। তিনি ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) এবং অর্থনীতিতে সফলতার সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি অডিটিং এবং অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করছেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে একজন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার স্ব

১৩ দিন আগে

‘জুরাসিক পার্ক’ তারকা স্যাম নিল মারা গেছেন

১৯৯৩ সাল ছিল স্যাম নিলের জন্য দারুণ একটি বছর। সে বছরই মুক্তি পায় ‘দ্য পিয়ানো’, যেখানে অন্যতম চরিত্রে ছিলেন স্যাম। এ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পায়। ওই বছরই মুক্তি পায় স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘জুরাসিক পার্ক’। এ সিনেমার ড. অ্যালান গ্র্যান্ট চরিত্রটি বিশ্ব জুড়ে ব্যা

১৭ দিন আগে

মিসরে মরুর বুকে লুকিয়ে ছিল ১৬০০ বছরের পুরোনো বাইজান্টাইন যুগের শহর

মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন এই আবিষ্কারগুলো শুধু স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, বরং বাইজান্টাইন শাসনামলে মিসরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি, ধর্মীয় চর্চা এবং নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনবে।

০৫ জুলাই ২০২৬

বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ পপ তারকা টেলর সুইফট ও এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসি

মার্কিন পপ তারকা টেলর সুইফট ও এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাঁকজমকপূর্ণ এক আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বহুল আলোচিত এই বিয়েকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাজকীয় বিয়ে’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

০৫ জুলাই ২০২৬