ডারউইন টেস্ট জয় বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের বার্তা: বিসিবি সভাপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
রোববার মিরপুরে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ আছড়ে পড়েছে মিরপুরেও। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বিসিবি কার্যালয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর পর দেশটির মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের এমন দাপুটে জয়কে দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তার মতে, এই জয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্যের একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

ডারউইনে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই দাপট দেখানো বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ছিল জয়ের অপেক্ষায়। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে প্রতিটি দিন ও প্রতিটি সেশনে দাপট দেখানো দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বিসিবি সভাপতি।

রোববার (১৬ আগস্ট) মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমার মনে হয় এটি অসাধারণ জয়, অসাধারণ অর্জন। অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো দলের জন্য খেলা অনেক কঠিন। ২৩ বছর পর ওখানে গিয়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে, কৃতিত্ব এক হাজার শতাংশ তাদের (ক্রিকেটারদের)। খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক— সবাইকে কৃতিত্ব দিতে হয়। বোর্ডে শুধু তাদের সহায়তা করতে, সুযোগ-সুবিধা দিতে এবং গাইড করতে আছি। এই অর্জনে অন্য কারও কৃতিত্ব নেই, এটি সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং খেলোয়াড়দের।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক আলোচনা নিয়ে তামিম বলেন, ক্রিকেটাররা এসব বিষয়ে খুব বেশি মনোযোগ দেন না। তার মতে, সমালোচনা থাকবেই। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বিশ্বকে বাংলাদেশের সামর্থ্য সম্পর্কে নতুন করে জানান দিয়েছে। তিনি বলেন ‘যারা খেলে তারা এসব (সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক আলোচনা) নিয়ে খুব বেশি মনোযোগ দেয় না। সমালোচনা হবেই। এই জয়টি বিশ্বের কাছে একটি বার্তা। আমরা সবাই অত্যন্ত গর্বিত।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বেশ কিছু ঐতিহাসিক জয়ে মাঠে থেকেই ভূমিকা রেখেছেন তামিম ইকবাল। আজ ডারউইনের জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন এই সাবেক ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সম্ভবত এটি সবচেয়ে বড় জয়। আমরা সবাই এই অর্জনে সমানভাবে খুশি। আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখান থেকে আরও এগিয়ে যাবে। এই জয়টি আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় বার্তা দেবে। এটি শুধু একটি জয় নয়, একটি শক্তিশালী বার্তা। আমরা সবাই খুব খুশি।’

বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও সিরিজ চান তামিম

মাঠের এই জয় ভবিষ্যতে টেবিলের খেলাতেও সহায়ক হবে বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি তামিম। বিশেষ করে ভবিষ্যত সফর সূচি (এফটিপি) নির্ধারণের সময় এই জয় কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তামিম বলেন, ‘আগামী মাসে এফটিপি (ভবিষ্যত সফর সূচি) বৈঠক হবে। সেখানে আমরা অন্য দলগুলোকে রাজি করিয়ে আরও ভালো সিরিজ নেওয়ার চেষ্টা করব। এই জয়টি অন্য দলগুলোর সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে। এফটিপিকে যতটা সম্ভব প্রতিযোগিতামূলক করার এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার চেষ্টা করব।’

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পথে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। ম্যাচের ১১টি সেশনের কোনোটিতেই তাই অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকতে পারেনি। তবে জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া হয় প্রথম দিনেই। বাংলাদেশের তিন পেসার মিলে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দেন। পেসারদের এমন পারফরম্যান্সের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেন তামিম। সাবেক বোলিং কোচ শন টেইট এবং তার পর দায়িত্ব নেওয়া স্থানীয় কোচ তালহা জুবায়েরের প্রশংসা করেন তিনি।

তামিম বলেন, ‘প্রতিটি সেশন জেতা এবং ম্যাচটি জেতা দলের জন্য একটি অসাধারণ অর্জন ছিল। এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণ খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের। আলাদাভাবে আমাদের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের কথা বলতে চাই, যিনি খুব ভালো কাজ করেছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আমরা স্থানীয় কোচ তালহা জুবায়েরকে দায়িত্ব দিই। টেইটের রেখে যাওয়া মান তিনি ধরে রেখেছেন এবং ভালো করছেন। তার প্রশংসা করা উচিত।’

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে থেকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে জয়ের পর সেই অবস্থান আরও সংহত হয়েছে। যদিও সামনে এখনও দীর্ঘ পথ এবং কঠিন অনেক পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, এরই মধ্যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তামিমও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে এখনই তা নিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজিত হতে চান না তিনি। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দল যে ধরনের ক্রিকেট খেলছে, সেটি ধরে রাখা। তামিম বলেন, ‘আমরা যে এই সম্ভাবনার কথা বলছি, তাতেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। গাণিতিকভাবে এটি সম্ভব।’

‘তবে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা এখন যে ধরনের ক্রিকেট খেলছে, সেটি বজায় রাখা। ঘরের মাঠে চারটি টেস্ট আছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি এবং অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট। তারা যেভাবে খেলছে তাতে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমি খুব বেশি দূরের চিন্তা করতে চাই না। এটি টিম ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়দের কাজ, তারা এটি নিয়ে ভাববে,’ যোগ করেন বিসিবি সভাপতি।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

ডারউইনে তৃতীয় দিন শেষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

১৫৩ রানের লিড নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় সে লিড থামে ২২৮ রানে। এরপর আবার হাসান মাহমুদের তোপে দুই ওপেনার সাজঘরে৷ পরে তাইজুল ইসলাম আর মিরাজ যথাক্রমে মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশের হাসিটা চওড়া হয়েছে।

১ দিন আগে

বাংলাদেশের রানের পাহাড়, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড

৬ উইকেটে ৩৫১ রানে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে হাসান ও তাইজুল আউট হন। হাসানকে এলবিডব্লিউ করেন জশ হ্যাজলউড। তাইজুল তার বলেই ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ হন। তারপর তাসকিন ও মিরাজ দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত জুটিকে টেনে নেন। প্রথম সেশনে ৬৬ রান তোলে বাংলাদেশ ২ উইকেটের বিনিময়ে।

১ দিন আগে

দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৩ রানের লিড, হাতে এখনো ৪ উইকেট

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ডারউইনে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই তানজিদ আর মুমিনুল হক দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। প্রথম দুই সেশনেই ছিল বাংলাদেশি ব্যাটারদের দাপ এরপর নতুন বল হাতে তুলে নিয়ে অজি বোলাররা ১১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নেন। পরে মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে টাইগাররা।

২ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাপট, তানজিদের শতকে লিড বাংলাদেশের

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে নাথান লায়নের বল লং অফ দিয়ে ঠেলে এক রান নিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন তানজিদ।

২ দিন আগে