জানি না এত বড় কিছু করা আর সম্ভব হবে কি না: স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনাল ম্যাচ হেরে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বিস্মরণযোগ্য ম্যাচ খেলে ফাইনালে হারল আর্জেন্টিনা। খুব কাছাকাছি গিয়েও শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ জিততে পারলেন না লিওনেল মেসিরা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাই কান্নায় ভেঙে পড়লেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

স্বীকার করে নিলেন, যোগ্য দল হিসেবে ভালো খেলেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও স্কালোনি জানালেন অনিশ্চয়তার কথা। বললেন, আবার এমন একটি দল আবার গঠন করা কঠিন কাজ। নিজের মেয়াদ পূর্ণ করার কথা জানালেও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলেই জানালেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। আমি কী করতে চাই, সে সম্পর্কে একটি ধারণা আছে। অবশ্যই চুক্তির মেয়াদ শেষ করব। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার বলেই মনে হচ্ছে। কারণ আমি জানি না, (আবার) এত বড় কিছু করা সম্ভব হবে কি না। সম্ভবত আমাদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।

তাকে কোচ করায় আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কালোনি। বলেন, তিনি আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছেন, যে কারণে এখন এই অবস্থানে আছি। এটি ছিল সবার জন্য স্বপ্নের মতো। আমরা, স্টাফ ও ফুটবলাররা মিলিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমার মনে হয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভালোভাবে চিন্তা করার জন্য কিছুটা সময় নেওয়াটাই উপযুক্ত হবে।

একপর্যায়ে কান্না আর থামিয়ে রাখতে পারেননি স্কালোনি। কান্না করতে করতেই সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যান তিনি। ধীরস্থির হিসেবে পরিচিত স্কালোনির এমন আবেগের বহির্প্রকাশ সচরাচর দেখা যায় না। ফাইনাল ম্যাচেও ডাগআউটে এমন কিছুটা অচেনা রূপে দেখা গিয়েছিল তাকে। ম্যাচের লাগামের পাশাপাশি একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ডাগআউট থেকে হলুদ কার্ডও দেখেছেন তিনি।

স্কালোনির এবারের বিশ্বকাপযাত্রার শেষটা রঙিন না হলেও দলের ঘোর দুঃসময়ে তিনিই দেখিয়েছিলেন আলোর দিশা। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনাল হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয় চিলির কাছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে বাদ পড়ল দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই। মেসিও অবসরের ঘোষণা দিলেন।

এমন সময়ে আগের কোচের সহকারী স্কালোনিকে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায় ফাইনালেও উঠতে পারেনি তার দল। তারপর ধীরে ধীরে দলকে বদলে দিতে লাগলেন স্কালোনি। মেসি ফিরে এলেন। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জিতলেন। ২০২২ সালে কাতারে জিতলেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে ফের কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়।

এবারের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা গেল ফাইনাল পর্যন্ত। কিন্তু তারুণ্যের ডানায় ভর করা দুর্ধর্ষ স্পেনের কাছে পরাজয় বরণ করতে হলো। সামনে কী হবে, তা পুরোটা স্কালোনির হাতে নেই। কারণ তার সঙ্গে ফেডারেশনের চুক্তির মেয়াদই রয়েছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তারপর আর চুক্তি নবায়ন হবে কি না, তা ফেডারেশনের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তবু কিছু কথা বললেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলে এখনো প্রাণভোমরা হিসেবে রয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে ফাইনাল বাদে বাকি ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত খেলা উপহার দিলেও মেসির বয়স এখন ৩৯ বছর। দলের পরবর্তী বড় অ্যাসাইনমেন্ট কোপা আমেরিকা, যেটি হবে ২০২৮ সালে। তখন মেসির বয়স হবে ৪১ বছর। আর পরবর্তী বিশ্বকাপে ৪৩ বছর। ফলে মেসি জাতীয় দলে কতটা ও কীভাবে যুক্ত থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

স্কালোনি অবশ্য বিষয়টি ছেড়ে দিচ্ছেন মেসির ওপরেই। এ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পারফরম‍্যান্সকে ‘অবিশ্বাস‍্য’ আখ্যা দিয়ে স্কালোনি বলেন, তার বয়স এখন ৩৯। আমার কাছে এটা খুবই পরিষ্কার, যত দিন সে চাইবে তত দিন সে খেলে যাবে। আশা করি, সবাই তার অর্জনের জন‍্য তাকে নিয়ে গর্বিত হবে। কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। এটা নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই। এই বিশ্বকাপেও সে যা করেছে তা অবিশ্বাস‍্য। এর আগেও সে এমন করেছে।

মেসির মতো আর্জেন্টিনা দলের আরও অনেককে নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ফুরিয়ে আসতে থাকা পারফরম্যান্স নিয়ে। গত বিশ্বকাপ আর এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালেই যেমন আর্জেন্টিনার একাদশে ছিলেন আটজন ফুটবলার। তাদের অনেকের ক্যারিয়ার এই বিশ্বকাপের পরেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

স্কালোনি বলেন, আমার স্টাফসহ আমরা কখনো ভাবতে পারিনি, এমন একটি জায়গায় এসে পৌঁছাব। সামনে চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মনকে নতুন করে সাজাতে হয়, নতুন করে শুরু করতে হয়। এ রকম একটি দল আবার তৈরি করা খুব কঠিন, পুনরায় তৈরি করা সম্ভব নয়। সত্যিই বেদনাদায়ক। আমি খুবই দুঃখিত।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কালোনি বলেন, আমরা আমাদের সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের সেই প্রাণশক্তি জুগিয়েছেন, যার অভাব আমাদের ছিল। (ফাইনাল) ম্যাচটিতে আমরা লড়াই করেও ভালো কিছু করতে পারিনি। জয়টা তাদেরই (স্পেন) প্রাপ্য ছিল। এটাই বাস্তবতা। আমাদের তা মেনে নিতে হবে। আমি আমার খেলোয়াড়দের ও সেইসব মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাতে দারুণভাবে সাহায্য করেছেন।

স্কালোনির মেয়াদ ডিসেম্বরের পরে না বাড়লেও রেকর্ডবুক বলবে, তিনিই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সেরা কোচ। তার ভাণ্ডারে রইল একটি বিশ্বকাপ ট্রফি, একটি রানার-আপ ট্রফি। সঙ্গে দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা। এর আগে কার্লোস বিলার্দোও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ১৯৯০ সালে রানার-আপ করেছিলেন। কিন্তু তার ঝুলিতে ছিল না কোনো কোপা আমেরিকা। তাই এই বিশ্বকাপই স্কালোনির শেষ অ্যাসাইনমেন্ট হলেও সাফল্যের ভাণ্ডার নিয়েই বিদায় নেবেন তিনি।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোতে স্প্যানিশদের দখল, গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের

টুর্নামেন্টে রেকর্ড ১০টি গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট নিজের করে নিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, লিওনেল মেসিকে এবারও সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ৮ গোল নিয়ে সিলভার বুটেই।

১৮ ঘণ্টা আগে

পাঁচ বছরে ১৬টি শিরোপা, কেন স্পেন এখন ফুটবলের সবচেয়ে অদম্য শক্তি

এর আগে ২০০৮ সালে ইউরো জয়ের দুই বছর পর ২০১০ সালেও তারা বিশ্বকাপ জিতে একই কীর্তি গড়েছিল।

২১ ঘণ্টা আগে

একক নৈপুণ্যে সেরা রদ্রি-কুবারসি-সিমন-এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল পেয়েছেন স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। সেই সঙ্গে স্পেনে গেছে সেরা গোলরক্ষক আর সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়েরর আরও দুই ব্যক্তিগত পুরস্কার। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

১ দিন আগে

‘নখদন্তহীন’ আর্জেন্টিনা, তারুণ্যের ডানায় ১৬ বছর পর স্পেনের বিশ্বজয়

বিপরীতে ১৬ বছর পর শিরোপার আক্ষেপ ঘুচাল স্পেন। ২০১০ সালে জাভি-ইনিয়েস্তার স্পেন প্রথম শিরোপা এনে দিয়েছিল ম্যাটাডোরদের। ১৬ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিলেন ইয়ামাল-রদ্রিরা। তারুণ্যের ডানায় ভর করে এলো এই শিরোপা। মজার বিষয় হলো— এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন শতভাগ সাফল্য ধরে রাখল!

১ দিন আগে