ন্যাটোতে ট্রাম্পের চাপ: ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর প্রস্তুতি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ মহাদেশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বড় অঙ্কের কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এই পর্যালোচনার খবরে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানবিরোধী পদক্ষেপে যেসব দেশ ওয়াশিংটনকে পূর্ণ সমর্থন দেয়নি, তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন সেনাসংখ্যা ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক নির্ভরতা কাটিয়ে ইউরোপকে এখন নিজেদের সুরক্ষার ভার নিজেদেরকেই নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।

ইউরোপ মহাদেশে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সার্বিক চিত্র পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে অন্তত চারটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিতে যাচ্ছে পেন্টাগন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার কথা ডিসেম্বর মাসে হলেও তার অনেক আগেই এই পরিকল্পনা জমা দেয়া হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত জুনে ঘোষণা করা পেন্টাগনের এই ছয় মাসের পর্যালোচনার ফলে মহাদেশটিতে থাকা মার্কিন সেনাসংখ্যা বড় অঙ্কের কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ন্যাটো মিত্ররা। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে যে ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতেই এই সেনাসংখ্যা ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার নথিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউরোপে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন জেনারেল এবং পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবির মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। পিট হেগসেথের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যে বিকল্পগুলো তৈরি করা হবে, তার ভিত্তি নির্ধারিত হবে এই ব্রিফিংয়ে। আজ বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ন্যারো সদর দপ্তরে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার কথা রয়েছে এলব্রিজ কলবির।

পেন্টাগনের নথিতে দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, বিমান চলাচলের অনুমতি (ওভারফ্লাইট) এবং মার্কিন বিশ্বব্যাপী সামরিক প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখতে মহাকাশ, সাইবার ও গোয়েন্দা কাঠামোর নির্ভরযোগ্য সুবিধা যাচাই করা হবে। যে ন্যাটো মিত্ররা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বা প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাসংখ্যা কমিয়ে কেবল সীমিত সহায়তার দিকে এগোবে এবং ন্যাটো মিত্রদেরই এখন মূল প্রতিরক্ষার ভূমিকা নিতে হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিছু ন্যাটো দেশকে ‘বিনামূল্যে সুবিধা ভোগকারী’ (ফ্রি-রাইডার) বলে তিরস্কার করেছেন।

ইতোমধ্যে ন্যাটো মিত্রদের কাছে একটি প্রশ্নমালা পাঠিয়েছে পেন্টাগন, যেখানে তাদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ন্যাটোর সংকটে মার্কিন সেনাদের অনুপস্থিতিতে সৈন্য সরবরাহের সক্ষমতা এবং মার্কিন আকাশসীমা ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না—তার জবাব চাওয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর আগামী শুক্রবারের মধ্যে ওয়াশিংটনে পাঠাতে হবে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে একতরফাভাবে নিয়ে ফেলেছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুদ্ধ-সংকটে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতারা, আলোচনার কেন্দ্রে ইরান-গাজা-ইউক্রেন

অধিবেশনে আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাধারণ বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এতে অংশ নেবেন। এর জন্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের পথে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে তার।

১৩ ঘণ্টা আগে

ইমরান খানের বোন আলিমা গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার পিটিআইয়ের পাঞ্জাবের মুখপাত্র জানান, লাহোরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১৮ ঘণ্টা আগে

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় মার্কিন ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’, সার্বভৌমত্ব থাকছে ডেনমার্কের

বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে একজন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার পাবে। এমনকি নতুন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষে

১ দিন আগে

সৌদি আরবের রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ইয়ানবু শহরে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কিছু স্থাপনা লক্ষ্য করে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানা শহরে সৌদি হামলার জবাব হিসেবে

১ দিন আগে
Advertisement