ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ যেন মিউজিক্যাল চেয়ার, ১০ বছরে পদত্যাগ ৬ জনের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৭: ১৩
গত এক দশকে এ নিয়ে বৃটেনের ৬ জন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। ছবি: রাজনীতি ডটকম

২০১৬ সালে ব্রেক্সিটের ধাক্কায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় ডেভিড ক্যামেরনকে। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সেই যে অস্থিরতা শুরু, তার রেশ কাটেনি ১০ বছর পেরিয়ে এই ২০২৬ সালেও। অর্থনৈতিক সংকট, কেলেঙ্কারি, দলীয় বিদ্রোহ আর নির্বাচনি পরাজয়ের মতো নানা সমীকরণে এই এক দশকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্ব বদলেছে দফায় দফায়।

অভূতপূর্ব এই অস্থিরতার বলি হয়েছেন পাঁচ পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী। এ তালিকায় সবশেষ সংযোজন কিয়ের স্টারমার, যিনি আজ সোমবার (২২ জুন) জানিয়েছেন, আসছে শরতেই তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে যাচ্ছেন। সে হিসাবে আগামী সেপ্টেম্বরেই ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

অথচ এর আগে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ছিল যথেষ্ট স্থিতিশীল। গত শতকের শেষ চতুর্ভাগে প্রায় ১১ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন লৌহমানবীখ্যাত মার্গারেট থ্যাচার। তার উত্তরসূরি জন মেজর ক্ষমতায় ছিলেন প্রাত সাত বছর। এরপর টনি ব্লেয়ার ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর গর্ডন ব্রাউন প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করলেও ডেভিড ক্যামেরন তার প্রথম মেয়াদ সফলভাবেই পূরণ করতে সমর্থ হন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ব্রেক্সিট ঝড়ে কুপোকাত হন। সেই অস্থিরতা এখনো বয়ে চলেছে ব্রিটেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই এক দশকে মিউজিক্যাল চেয়ারে পরিণত হোয়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে কে কতদিন ক্ষমতায় ছিলেন।

ডেভিড ক্যামেরন (২০১৬)

২০১৬ সালের জুনে ব্রেক্সিট গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় আসার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। ‘রিমেইন’ শিবিরের প্রধান সমর্থক ক্যামেরন বলেছিলেন, দেশের নতুন দিকনির্দেশনার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

থেরেসা মে (২০১৯)

ক্যামেরনের উত্তরসূরি থেরেসা মে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে নিজ দল কনজারভেটিভের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিরোধিতা ও সংসদে বারবার পরাজয়ের মুখে ২০১৯ সালের মে মাসে পদত্যাগ করেন। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জটিল চ্যালেঞ্জ তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে তোলে এবং দলের ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।

বরিস জনসন (২০২২)

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা বরিস জনসন করোনা মহামারির সময় ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি আয়োজনের ‘পার্টিগেট’ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। দলীয় সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গোপনের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন।

লিজ ট্রাস (২০২২)

ইতিহাসের সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস মাত্র ৪৫-৫০ দিন ক্ষমতায় থেকে বিতর্কিত ‘মিনি-বাজেট’ ঘোষণা করেন। এতে বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা, পাউন্ডের মূল্যপতন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। চরম চাপের মুখে অক্টোবর ২০২২-এ তিনিও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

রিশি সুনাক (২০২৪)

২০২২ সালের শেষে প্রধানমন্ত্রী হওয়া রিশি সুনাক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে ভয়াবহ পরাজয়ের পর পদত্যাগ করেন। তিনি দেশের জনগণের রায় মেনে নিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

কিয়ার স্টারমার (২০২৬)

লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার ২০২৪ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নীতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে মাত্র দুই বছরের মাথায় দলীয় বিদ্রোহের মুখে ২২ জুন ২০২৬-এ পদত্যাগ ঘোষণা করেন।

রাজনীতি/আরআইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিদায় নিয়ে ভাবছেন স্টারমার, শরতেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টারমার সোমবার (২২ জুন) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এর মধ্য দিয়ে এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

৭ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনে বড় জয় পেলেন ক্ষমতাসীন আবি, ইথিওপিয়ায় নতুন সংঘাতের শঙ্কা

সমর্থকদের মতে, এই বিজয় অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও গভীর হতে পারে।

৭ ঘণ্টা আগে

লেবানন ইস্যুতে ইরানকে নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ট্রাম্প এমন সময়ে এমন হুমকি দিয়েছেন যখন সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পক্ষে সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটক

১৯ ঘণ্টা আগে

৬০ দিনে চুক্তি না হলে হরমুজে টোল নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ৬০ দিন বা তারপরও এই প্রণালিতে কাউকে কোনো টোল দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুপক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করবে।

২১ ঘণ্টা আগে