যুদ্ধ বন্ধে নতুন শর্ত: হরমুজ প্রণালিতে টোলের স্বীকৃতি চায় তেহরান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

যুদ্ধ বন্ধে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শর্তের তালিকা তুলে ধরেছে ইরান। সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি এবং সেখানে টোল আরোপের অধিকার নিশ্চিত করা।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি এখন তেহরানের জন্য শুধু কৌশলগত অস্ত্রই নয়, সম্ভাব্য বিশাল আয়ের উৎস হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, হামলার মুখে পড়লে প্রণালিটি বন্ধ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে পারস্য উপসাগরের বাইরের দেশগুলোও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, কম খরচে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার কার্যকর কৌশল হিসেবে হরমুজকে ব্যবহার করতে পারছে ইরান। ভবিষ্যতে এই কৌশল আরও ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের যেকোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠকেও টোলমুক্ত ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম ভাষণে হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন।

এদিকে, ইরানের আইনপ্রণেতারা একটি বিল বিবেচনা করছেন, যাতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ‘নতুন শাসনব্যবস্থা’ চালুর কথাও বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দেশগুলোর ওপর সামুদ্রিক বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ বিতর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওয়ার কলেজের অধ্যাপক জেমস ক্রাসকা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আরোপ ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ নীতির পরিপন্থী। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী, এ ধরনের প্রণালিতে সব দেশের অবাধ নৌ চলাচলের অধিকার রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি টোল ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারে, তবে তা থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হতে পারে। প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রতি ট্যাংকারে গড়ে ২০ লাখ ডলার ফি ধরা হলে দৈনিক আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ কোটি ডলার, যা মাসে ৬০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তবে বাস্তবে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করছে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে ফি প্রদানের খবরও পাওয়া গেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইসরায়েলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যদি হুথিরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে থাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় আঘাত হবে।

১৭ ঘণ্টা আগে

ইরানে বড় ধরনের স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্থল হামলার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে খার্গ দ্বীপকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত একটি দ্বীপ। যেখান থেকে ইরান তাদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। হরমুজ দিয়ে যেন নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে এই দ্বীপটি টার্গেট করা হতে পারে।

১৭ ঘণ্টা আগে

জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম যেভাবে মোকাবিলা করছে বিভিন্ন দেশ

নাইজেরিয়া বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও তাদের কোনো সরকার–মালিকানাধীন রিফাইনারিই চালু নেই।

১৭ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, রাজপথে লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযান শুরুর এক মাস পূর্তিতে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রগতিশীল নেতা বার্নি স্যান্ডার্স থেকে শুরু করে রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন পর্যন্ত সংহতি জানিয়েছেন।

১৮ ঘণ্টা আগে