মহারাষ্ট্রের ৪ ভাগের ৩ ভাগ এলাকাতেই খরা ঘোষণা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ০৭
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিসের পরিদর্শনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় খরা ঘোষণা করা হয়েছে। ফাইল ছবি
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিসের পরিদর্শনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় খরা ঘোষণা করা হয়েছে। ফাইল ছবি

দীর্ঘদিনের বৃষ্টির ঘাটতি ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পর ভারতের মহারাষ্ট্রের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিতে খরা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকাই এখন খরার আওতায়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জারি করা সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জুন থেকে বৃষ্টির ঘাটতি ও অন্যান্য কারণে এসব তহসিলে খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্যের কৃষি কমিশনারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

খরা ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ এবং কৃষকদের জন্য কয়েকটি তাৎক্ষণিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্যে ভূমি রাজস্ব মওকুফ, ফসলি ঋণ পুনর্গঠন এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট ঋণ আদায় স্থগিত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ এখনই ঘোষণা করা হয়নি। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে পৃথক সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে।

টানা ২১ দিন বৃষ্টিহীনতা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, খরা পরিস্থিতি নির্ধারণে ‘ট্রিগার-১’ মানদণ্ড প্রযোজ্য হয়েছে এসব তহসিলে। এই মানদণ্ড অনুযায়ী বর্ষা মৌসুমে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি ছাড়া টানা অন্তত ২১ দিন শুষ্ক সময় থাকলে তা খরার অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস বৃষ্টির ঘাটতিতে থাকা এলাকাগুলো পরিদর্শনের দুই দিন পরই খরা ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর কৃষি কমিশনারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসে।

শুরু হচ্ছে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ

খরা ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টরদের অবিলম্বে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে ‘পঞ্চনামা’র মাধ্যমে ক্ষতির তথ্য নথিভুক্ত করবেন।

এ সময় ফসলের বর্তমান অবস্থা, ক্ষতির মাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট জমির ছবি সংগ্রহ করা হবে। ছবিগুলোর সঙ্গে জিপিএস স্থানাঙ্কও সংযুক্ত করতে হবে। পরে এসব তথ্য কৃষি কমিশনারের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের ভিত্তিতেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে পৃথক সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে।

ফলে মহারাষ্ট্রে খরা ঘোষণার মাধ্যমে এখন মূলত ত্রাণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের প্রক্রিয়া শুরু হলো; কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা আসবে পরবর্তী ধাপে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement