ইউপিআইয়ে নতুন ফি, রাহুল বললেন ট্রাম্পের চাপে ‘নতজানু’ মোদি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইউপিআইয়ে ফি বসানোয় মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধি। ছবি: সংগৃহীত
ইউপিআইয়ে ফি বসানোয় মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসে (ইউপিআই) নতুন ফি চালুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতজানু হয়েই সরকার ইউপিআই লেনদেনে নতুন ফি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিওবার্তায় মোদি সরকারের এমন কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। এ সময় তিনি নতুন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানান।

রাহুল বলেন, মোদি ‘সোজা হয়ে শুয়ে’ ট্রাম্পের সামনে নতজানু হয়েছেন। ভারতীয়দের ওপর ‘ইউপিআই ট্যাক্স’ চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি মোদিকে ‘মেরুদণ্ড সোজা করে’ নতুন ফি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

রাহুলের এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে মঙ্গলবার ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) ঘোষিত নতুন মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) কাঠামো। নতুন এই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার রুপির বেশি মূল্যের ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর (পিটুএম, পারসন-টু-মার্চেন্ট) নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর বসবে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, ৭৫ হাজার রুপি বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ফি সর্বোচ্চ ৩০০ রুপিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (পিটুপি, পারসন-টু-পারসন) লেনদেন ও ছোট ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট লেনদেন আগের মতোই ফি-মুক্ত থাকবে।

মোদি সরকারের ব্যাখ্যা, এটি ভোক্তার ওপর আরোপিত কোনো কর নয়। ফি দেবে মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক, পেমেন্ট অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের মধ্যে তা বণ্টিত হবে। সরকার ও এনপিসিআই বলছে, দীর্ঘদিনের জিরো-এমডিআর ব্যবস্থা বদলে এই অর্থ ইউপিআই অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগে কাজে লাগবে। ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফি সরাসরি গ্রাহকের ওপর চাপাতে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে রাহুলের অভিযোগের পেছনে রয়েছে ইউপিআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ। কংগ্রেসের অভিযোগ, মার্কিন পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর স্বার্থে ভারতের জিরো-এমডিআর নীতি পরিবর্তনে ওয়াশিংটনের চাপ কাজ করেছে।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও দাবি করেছেন, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর আগে ইউপিআইয়ের বিনা ফি ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিল এবং ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো কার্ড কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টি তুলেছিল।

সরকার অবশ্য ইউপিআইয়ের নতুন ফি-কে বিদেশি চাপের ফল হিসেবে দেখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, ইউপিআইকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে টেকসই করতেই নতুন কাঠামো আনা হয়েছে।

বিশাল এই পেমেন্ট নেটওয়ার্কে পরিবর্তনটি তাই তাৎপর্যপূর্ণ। আগস্টে ইউপিআইয়ে ২৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৯ দশমিক ৮২ ট্রিলিয়ন রুপি। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে চলা জিরো-এমডিআর ব্যবস্থা শেষ করে নতুন ফি কাঠামো আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
ইউপিআইয়ে নতুন ফি, রাহুল বললেন ট্রাম্পের চাপে ‘নতজানু’ মোদি