ইরান যুদ্ধ /যুক্তরাষ্ট্র চাপ কমালে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে পারে ইরান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ১৪
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন। তার দাবি, চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রস্তাবও পাঠিয়েছে ইরান।

তবে বিষয়টি নিয়ে ইরানের ভেতর থেকেই পরস্পরবিরোধী বার্তা এসেছে। পরে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও কিয়োদোর প্রতিবেদনে প্রকাশিত সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার তথ্যকে অস্বীকার করেছে ফারস নিউজ। ফলে এটি এখনো তেহরানের আনুষ্ঠানিক ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে নিশ্চিত নয়।

তারপরও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে আরও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তির আশার কথা বলছেন, তখন হরমুজ নিয়ে তেহরানের এই বার্তা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার একটি নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।

কী শর্ত দিয়েছে ইরান

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাবের মূল শর্ত দুটি— যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক চাপ কমাতে হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান অবরোধ তুলে নিতে হবে। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

অর্থাৎ এটি নিঃশর্তভাবে প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে নৌপথটি স্বাভাবিক করার একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য, তেহরান চায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে আবার আলোচনা শুরু হোক। নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলেরও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

হরমুজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধের মধ্যে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি পরিবহন, বীমা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের সম্ভাব্য পুনরায় খোলার খবর প্রকাশের পর তেলের দাম কমার খবরও এসেছে।

তবে প্রণালির নিরাপত্তা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরবে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। যুদ্ধের মধ্যে জাহাজে হামলা, সামরিক তৎপরতা ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জাহাজ কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

যুদ্ধ থামানোর আলোচনার নতুন জানালা?

হরমুজ নিয়ে ইরানের বার্তাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প জাতিসংঘে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তবে ট্রাম্প এ-ও বলেছেন, চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেবেন তিনি।

তাই হরমুজ নিয়ে প্রস্তাবটি বাস্তব আলোচনার সূচনা নাকি সাময়িক কূটনৈতিক বার্তা— তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে ইরানি সূত্রের পরবর্তী অস্বীকৃতির কারণে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে প্রস্তাবটি সত্যিকার অর্থে তেহরানের আলোচনার অবস্থানকে তুলে ধরলে এর তাৎপর্য বড়। কারণ হরমুজ খুলে দেওয়া শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের একটি সামরিক ইস্যু নয়, এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement