
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, বাণিজ্যিক টানাপোড়েন ও পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন নতুন করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন নয়াদিল্লিতে বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবার ব্রিকসের সামনে শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রশ্ন নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কের মধ্যে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করাই বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে এই সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে মুখোমুখি হচ্ছেন চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ ১১ সদস্য দেশের নেতারা।
২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্রিকস এখন অনেক বড় ও প্রভাবশালী জোট। দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ার পর এর নাম হয় ব্রিকস; ২০২৪-২৫ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হওয়ায় এর পরিধি আরও বেড়েছে। বর্তমানে ১১ সদস্যের এই জোট বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।
কিন্তু সদস্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্বার্থের বৈচিত্র্যও। ফলে ব্রিকসকে এখন একই সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক দক্ষিণের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর এবং পশ্চিমানির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজেদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
ব্রিকসের সঙ্গে অবশ্য বাংলাদেশের নামও জড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরে বাংলাদেশকে ব্রিকসে যুক্ত করার আশ্বাস এসেছিল চীনের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে ভারত। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতায় এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না তিনি।
এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। ইরান ব্রিকসের সদস্য হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে, যখন দেশটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মুখোমুখি। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবুধাবি ও তেহরানের সম্পর্ক আরও তীব্র সংকটে পড়েছে। ফলে একই জোটের দুই সদস্য এখন একই সংঘাতের ভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে।
রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে ইরানের প্রতি তুলনামূলকভাবে সমর্থনমূলক অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ভারত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেও ইরান-সংকটে সরাসরি কোনো পক্ষ নিতে চাইছে না। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে কতটা শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হয়। রুশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সম্মেলন শেষে কী ধরনের যৌথ ঘোষণা আসবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য— সবই ব্রিকসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নয়াদিল্লি সম্মেলনের আরেকটি বড় আকর্ষণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক। দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ব্রিকসের মঞ্চে তাদের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভারতের জন্য এটি ভারসাম্যেরও পরীক্ষা। নয়াদিল্লি একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ধরে রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বও বাড়িয়েছে। চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার কোনো অবস্থানও ভারতের নেই।
ফলে মোদির নেতৃত্বে ভারত এমন একটি ব্রিকস কাঠামো চায়, যা পশ্চিমাবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোটে পরিণত না হয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।
ব্রিকসের দীর্ঘমেয়াদি অন্যতম লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো। সদস্য দেশগুলো স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিকল্প অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ১১ দেশের ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে বাস্তবে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি করা এখনো কঠিন হয়ে রয়ে গেছে।
এর পাশাপাশি স্টার্টআপ সহযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ডিজিটাল পেমেন্ট ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। এবারের সম্মেলনে ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড এবং সরবরাহব্যবস্থা সহযোগিতা কাঠামোর মতো উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লির সম্মেলন ব্রিকসের জন্য শুধু আরেকটি বার্ষিক বৈঠক নয়। ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সংঘাত, ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সদস্যদের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভিন্ন সম্পর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে— ব্রিকসের আকার যত বড় হয়েছে, ঐক্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও তত বড় হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো— এই বৈচিত্র্যকে শক্তিতে রূপ দিয়ে ব্রিকস কি বাস্তব বৈশ্বিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে, নাকি ভিন্ন স্বার্থের সদস্যদের একটি বড় কিন্তু সীমিত ঐকমত্যের মঞ্চ হয়েই থাকবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, নয়াদিল্লির সম্মেলন সেই প্রশ্নেরই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, হিন্দুস্তান টাইমস, পিটিআই

বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, বাণিজ্যিক টানাপোড়েন ও পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন নতুন করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন নয়াদিল্লিতে বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবার ব্রিকসের সামনে শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রশ্ন নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কের মধ্যে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করাই বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে এই সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে মুখোমুখি হচ্ছেন চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ ১১ সদস্য দেশের নেতারা।
২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্রিকস এখন অনেক বড় ও প্রভাবশালী জোট। দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ার পর এর নাম হয় ব্রিকস; ২০২৪-২৫ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হওয়ায় এর পরিধি আরও বেড়েছে। বর্তমানে ১১ সদস্যের এই জোট বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।
কিন্তু সদস্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্বার্থের বৈচিত্র্যও। ফলে ব্রিকসকে এখন একই সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক দক্ষিণের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর এবং পশ্চিমানির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজেদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
ব্রিকসের সঙ্গে অবশ্য বাংলাদেশের নামও জড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরে বাংলাদেশকে ব্রিকসে যুক্ত করার আশ্বাস এসেছিল চীনের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে ভারত। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতায় এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না তিনি।
এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। ইরান ব্রিকসের সদস্য হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে, যখন দেশটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মুখোমুখি। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবুধাবি ও তেহরানের সম্পর্ক আরও তীব্র সংকটে পড়েছে। ফলে একই জোটের দুই সদস্য এখন একই সংঘাতের ভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে।
রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে ইরানের প্রতি তুলনামূলকভাবে সমর্থনমূলক অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ভারত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেও ইরান-সংকটে সরাসরি কোনো পক্ষ নিতে চাইছে না। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে কতটা শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হয়। রুশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সম্মেলন শেষে কী ধরনের যৌথ ঘোষণা আসবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য— সবই ব্রিকসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নয়াদিল্লি সম্মেলনের আরেকটি বড় আকর্ষণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক। দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ব্রিকসের মঞ্চে তাদের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভারতের জন্য এটি ভারসাম্যেরও পরীক্ষা। নয়াদিল্লি একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ধরে রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বও বাড়িয়েছে। চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার কোনো অবস্থানও ভারতের নেই।
ফলে মোদির নেতৃত্বে ভারত এমন একটি ব্রিকস কাঠামো চায়, যা পশ্চিমাবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোটে পরিণত না হয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।
ব্রিকসের দীর্ঘমেয়াদি অন্যতম লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো। সদস্য দেশগুলো স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিকল্প অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ১১ দেশের ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে বাস্তবে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি করা এখনো কঠিন হয়ে রয়ে গেছে।
এর পাশাপাশি স্টার্টআপ সহযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ডিজিটাল পেমেন্ট ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। এবারের সম্মেলনে ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড এবং সরবরাহব্যবস্থা সহযোগিতা কাঠামোর মতো উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লির সম্মেলন ব্রিকসের জন্য শুধু আরেকটি বার্ষিক বৈঠক নয়। ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সংঘাত, ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সদস্যদের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভিন্ন সম্পর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে— ব্রিকসের আকার যত বড় হয়েছে, ঐক্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও তত বড় হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো— এই বৈচিত্র্যকে শক্তিতে রূপ দিয়ে ব্রিকস কি বাস্তব বৈশ্বিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে, নাকি ভিন্ন স্বার্থের সদস্যদের একটি বড় কিন্তু সীমিত ঐকমত্যের মঞ্চ হয়েই থাকবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, নয়াদিল্লির সম্মেলন সেই প্রশ্নেরই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, হিন্দুস্তান টাইমস, পিটিআই

ওই ঘটনায় কোনো ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাশিয়া তখন বাস্তবে কোনো ক্যাবল কাটার বদলে একটি নতুন ধরনের নাশকতা প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটির মহড়া চালাচ্ছিল। প্রযুক্তিটির ধরন বা এটি কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
৮ ঘণ্টা আগে
বাব এল-মান্দেব থেকে মোখা প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর চারটি সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুতিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সময়ে তারা হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দক্ষিণে ধুবাবের দিকে এগোচ্ছে। ধুবাব বাব এল-মান
১০ ঘণ্টা আগে
দিনটি ছিল ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে পূর্ব আমেরিকার আকাশপথ দিয়ে ওড়া চারটি বিমান একইসাথে ছিনতাই করে। তারা বিমানগুলোকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানার জন্য।
১২ ঘণ্টা আগে
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকাণ্ডে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় আট ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে আফগানিস্তান-পাকিস্তান যুদ্ধাঞ্চলের ব্যয়ই ছিল প্রায় ২.৩ ট্র
১৩ ঘণ্টা আগে