পেজেশকিয়ানের ভাষণ শুরু হতেই জাতিসংঘ কক্ষ ছাড়লেন মার্কিন প্রতিনিধি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণের শুরুতেই অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন সেখানে উপস্থিত মার্কিন প্রতিনিধি। পেজেশকিয়ান তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানে হামলা ও বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনা ঘটেছে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের দ্বিতীয় দিনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগের দিন মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বর্ণনা করেন। এর জবাবে পেজেশকিয়ান তার ভাষণে বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার।’
এরপর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত শিশুদের ছবি তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। বিশেষ করে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ইরানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হন। পেজেশকিয়ান বলেন, এসব শিশু কোনো অপরাধ করেনি, তবু তাদের ওপর হামলা হয়েছে।
পেজেশকিয়ান যখন ইরানের স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন কক্ষে থাকা মার্কিন প্রতিনিধি উঠে বেরিয়ে যান। ভিডিওতেও তাকে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে দেখা গেছে। আলজাজিরাও জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় একজন মার্কিন কর্মকর্তা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন মিশন টু দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
‘আমরা কখনো মাথা নোয়াব না’
এর আগের দিনই একই অধিবেশনে ভাষণ দেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাসের সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তারা বুঝে গেছে, ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যায় না। আমরা কখনো মাথা নোয়াব না, হাঁটু গেড়ে বসব না।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারও ছাড়বে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন পেজেশকিয়ান। বলেন, সবাই এই জলপথ থেকে সুবিধা নেবে অথচ ইরানকে সেখানে জাহাজ চলাচল থেকে বঞ্চিত করা হবে— এটা হতে পারে না। তার ভাষায়, ‘শত্রুতাপূর্ণ নৌবহরের স্থায়ী মোতায়েন এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি বয়ে আনবে না।’
















