২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৫৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর অবস্থানের পর অবশেষে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র। আজ বুধবার ইরাকের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে শেষ সামরিক দলটি বিদায় নিচ্ছে।

তেহরান ও তার মিত্ররা মার্কিন বাহিনীর এই বিদায়কে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখলেও, মূলত সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই নির্ধারিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেন।

এর আগে গত ১২ আগস্ট ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক জোটের আইএস-বিরোধী সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব বিদেশি সেনার প্রস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকছে না।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। উভয় দেশ এখন থেকে পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে নতুন সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেবে।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটলে তাদের দমনে সেনা উপস্থিতি অব্যাহত রাখে ওয়াশিংটন। ২০২০ সাল থেকে ধীরে ধীরে সেনা কমানো শুরু হয়, এবং সর্বশেষ অবস্থানরত ৪,৫০০ জন সেনার শেষ দলটি আজ ইরাক ত্যাগ করল। দীর্ঘ দুই দশকে মার্কিন বাহিনী ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্থায়নে ও প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

মার্কিন বাহিনীর এই বিদায়ে ইরাকের সাধারণ জনগণ আনন্দ প্রকাশ করলেও, অনেকের মনে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সেনারা চলে যাওয়ায় সৃষ্ট শূন্যতায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “নি নিরাপত্তাক্ষেত্রে সৃষ্ট যে কোনো শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে— গত দু’দশকে আমরা সেই শিক্ষা পেয়েছি।”

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement