সৌদি-কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় প্যাট্রিয়ট পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে— এমন আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত মাসে সৌদি আরবে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা সুরক্ষায় একটি করে প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়েছিল।
দুই কর্মকর্তা ও এক আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ফের শুরু হলে তেহরান পালটা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে আবার বোমা হামলা শুরুর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তেহরানকে হয় চুক্তিতে সই করতে হবে, নয়তো ‘আর অস্তিত্ব থাকবে না’।
আগস্টের শুরুতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা তাকে হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। ইরান পালটা হামলা চালিয়ে তাদের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত করতে পারে— এ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই উদ্বেগ ট্রাম্পকে সামরিক হামলার বদলে অর্থনৈতিক চাপের পথে যেতে ভূমিকা রেখেছিল।
তবে এবার পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ফের শুরু হলে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হবে যুক্তরাষ্ট্রের। রিয়াদ তাদের জ্বালানি স্থাপনা যথেষ্ট সুরক্ষিত মনে না করলে সেই অনুমতি দিতে অনাগ্রহী হতে পারে। প্যাট্রিয়ট মোতায়েন তাই সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মিত্রদের আশ্বস্ত করারও উদ্যোগ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ রোববার সান দিয়েগো ছেড়েছে এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা। বর্তমানে সেখানে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।
রুজভেল্ট যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে একই সময়ে তিনটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ থাকতে পারে। এর পাশাপাশি ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও সোমবার ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। হাজারো মেরিন নিয়ে এই বহর নভেম্বরের শেষ নাগাদ সেখানে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আকাশ, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।















-004425-256x144.webp)

