
বিবিসি বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে একটি "শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা "সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করবে"।
এই চুক্তিতে কী আছে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে এবং ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি 'দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি'ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ একাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।"
সৌদি সরকারও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই চুক্তি "জ্বালানি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ"। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই ঘোষণাটি এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে যেগুলো এই সময়ে ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এছাড়া ইয়েমেনে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে "নৌ-পথ অবরোধের" ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পরই এই চুক্তির ঘোষণা এসেছে।
তবে এই পারমাণবিক চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ পর্যালোচনার পর সৌদি আরবকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে তাদের ভূখণ্ডেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শত শত কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ এনে দিতে পারে। কারণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কেন্দ্র নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো যুক্ত থাকবে।
এই ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আবার পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজেও প্রয়োজন হয়।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, "নিশ্চিত থাকুন, এই চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখবে। একইসঙ্গে বিশ্বের সেরা পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে যা কি না যুক্তরাষ্ট্রেই উদ্ভাবিত হয়েছে।"
মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই চুক্তিটি "যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা" দুইটিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।
একইসঙ্গে "পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের উচ্চমান বজায় রাখার পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।"
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েলের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই পথ বাস্তবায়নে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতাও আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেছেন, এই চুক্তিতে যদি সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে তবে সেটি হবে "বেশ চমকপ্রদ"।
মিজ কেলানিক আরো বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনো এমন কাজ করেনি। আমরা অন্য কোনো দেশকে তাদের নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজে সাহায্য করিনি।"
এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আপনি যদি নিজেই নিজের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করতে পারেন তাহলে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিক থেকে আপনার ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।"
এই চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য কংগ্রসে পাঠানো হবে।
দুই দলেরই কিছু আইনপ্রণেতা এই চুক্তির বিরোধিতা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিই মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ এবং নিম্ন, এই দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যারা ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেসব সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ফিলিপাইন সফরকালে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, "বিশ্বের এমন কোনো দেশের সাথেই যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করবে না, যেটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে"।
এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন এমন বেশ কয়েকজন ডেমোক্রেট সদস্য উল্লেখ করেছেন, রুবিও সেনেটর থাকার সময় নিজেই 'নো নিউক্লিয়ার ওয়পনস ফর সৌদি অ্যারাবিয়া অ্যাক্ট' অর্থাৎ সৌদি আরবের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র নয় - এমন একটি আইনের জোরালো সমর্থন করেছিলেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে যে কোনো পারমাণবিক চুক্তির জন্য কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন ছিল সেই আইনটিতে।
ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেটিক সেনেটর এডওয়ার্ড মার্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রুবিওর নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন যাতে বলা হয়, "তাদের ভণ্ডামির সঙ্গে কেবল তাদের বেপরোয়া মনোভাবেরই তুলনা করা চলে।"
মার্কি বলেন, "ইরানকে পারমাণবিক বোমা বানানো থেকে আটকানোর অজুহাতে তারা একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে আবার অন্যদিকে সৌদি আরবের মতো একটি রক্ষণশীল এবং স্বৈরাচারী দেশকে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানোর অনুমতি দিচ্ছে।"
এই চুক্তিতে যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে এটা ২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির চেয়ে একেবারে আলাদা হবে।
কারণ ওই চুক্তির অধীনে আরব আমিরাত নিজে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করে না এবং অন্যান্য বিধি-নিষেধ মেনে চলে।
সৌদি আরব বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় ধরেই এমন একটি চুক্তির জন্য চেষ্টা করে আসছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান শর্ত ছিল, সৌদি আরবকে অবশ্যই তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের সাথে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চুক্তির শর্ত হিসেবে এই দাবিটি বাতিল করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে থাকার সময় ট্রাম্প সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করেছেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য কৌশলগত ও বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি বর্তমানে এটি হওয়ার অন্যতম একটা কারণ হতে পারে, রাশিয়া এবং চীন একই ধরনের বিষয়ে আলোচনা করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সেটি হাতছাড়া করতে চায়নি।
এই চুক্তিটি সৌদি আরবের জন্য একটি বড় বিজয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনে এটির সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এটা সঙ্গে সঙ্গে হবে না, হয়তো কয়েক বছর অথবা আরো বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
কয়েক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রধান কারণ পারমাণবিক ইস্যুটি।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে প্রতিরোধ করাই ছিল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলার অন্যতম কারণ, এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল করলেও তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির এমন পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে।
সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো বা কার্যত শাসক, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে না।
কিন্তু "কোনো সন্দেহ নেই যদি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথে হাঁটবো।"

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে একটি "শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা "সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করবে"।
এই চুক্তিতে কী আছে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে এবং ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি 'দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি'ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ একাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।"
সৌদি সরকারও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই চুক্তি "জ্বালানি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ"। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই ঘোষণাটি এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে যেগুলো এই সময়ে ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এছাড়া ইয়েমেনে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে "নৌ-পথ অবরোধের" ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পরই এই চুক্তির ঘোষণা এসেছে।
তবে এই পারমাণবিক চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ পর্যালোচনার পর সৌদি আরবকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে তাদের ভূখণ্ডেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শত শত কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ এনে দিতে পারে। কারণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কেন্দ্র নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো যুক্ত থাকবে।
এই ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আবার পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজেও প্রয়োজন হয়।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, "নিশ্চিত থাকুন, এই চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখবে। একইসঙ্গে বিশ্বের সেরা পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে যা কি না যুক্তরাষ্ট্রেই উদ্ভাবিত হয়েছে।"
মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই চুক্তিটি "যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা" দুইটিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।
একইসঙ্গে "পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের উচ্চমান বজায় রাখার পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।"
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েলের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই পথ বাস্তবায়নে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতাও আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেছেন, এই চুক্তিতে যদি সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে তবে সেটি হবে "বেশ চমকপ্রদ"।
মিজ কেলানিক আরো বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনো এমন কাজ করেনি। আমরা অন্য কোনো দেশকে তাদের নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজে সাহায্য করিনি।"
এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আপনি যদি নিজেই নিজের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করতে পারেন তাহলে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিক থেকে আপনার ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।"
এই চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য কংগ্রসে পাঠানো হবে।
দুই দলেরই কিছু আইনপ্রণেতা এই চুক্তির বিরোধিতা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিই মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ এবং নিম্ন, এই দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যারা ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেসব সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ফিলিপাইন সফরকালে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, "বিশ্বের এমন কোনো দেশের সাথেই যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করবে না, যেটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে"।
এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন এমন বেশ কয়েকজন ডেমোক্রেট সদস্য উল্লেখ করেছেন, রুবিও সেনেটর থাকার সময় নিজেই 'নো নিউক্লিয়ার ওয়পনস ফর সৌদি অ্যারাবিয়া অ্যাক্ট' অর্থাৎ সৌদি আরবের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র নয় - এমন একটি আইনের জোরালো সমর্থন করেছিলেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে যে কোনো পারমাণবিক চুক্তির জন্য কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন ছিল সেই আইনটিতে।
ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেটিক সেনেটর এডওয়ার্ড মার্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রুবিওর নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন যাতে বলা হয়, "তাদের ভণ্ডামির সঙ্গে কেবল তাদের বেপরোয়া মনোভাবেরই তুলনা করা চলে।"
মার্কি বলেন, "ইরানকে পারমাণবিক বোমা বানানো থেকে আটকানোর অজুহাতে তারা একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে আবার অন্যদিকে সৌদি আরবের মতো একটি রক্ষণশীল এবং স্বৈরাচারী দেশকে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানোর অনুমতি দিচ্ছে।"
এই চুক্তিতে যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে এটা ২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির চেয়ে একেবারে আলাদা হবে।
কারণ ওই চুক্তির অধীনে আরব আমিরাত নিজে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করে না এবং অন্যান্য বিধি-নিষেধ মেনে চলে।
সৌদি আরব বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় ধরেই এমন একটি চুক্তির জন্য চেষ্টা করে আসছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান শর্ত ছিল, সৌদি আরবকে অবশ্যই তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের সাথে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চুক্তির শর্ত হিসেবে এই দাবিটি বাতিল করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে থাকার সময় ট্রাম্প সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করেছেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য কৌশলগত ও বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি বর্তমানে এটি হওয়ার অন্যতম একটা কারণ হতে পারে, রাশিয়া এবং চীন একই ধরনের বিষয়ে আলোচনা করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সেটি হাতছাড়া করতে চায়নি।
এই চুক্তিটি সৌদি আরবের জন্য একটি বড় বিজয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনে এটির সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এটা সঙ্গে সঙ্গে হবে না, হয়তো কয়েক বছর অথবা আরো বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
কয়েক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রধান কারণ পারমাণবিক ইস্যুটি।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে প্রতিরোধ করাই ছিল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলার অন্যতম কারণ, এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল করলেও তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির এমন পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে।
সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো বা কার্যত শাসক, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে না।
কিন্তু "কোনো সন্দেহ নেই যদি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথে হাঁটবো।"

আইআরজিসির দাবি, তারা কুয়েতের ‘আলি আল-সালেম’ বিমানঘাঁটিতে একটি বড় সামরিক সরঞ্জাম গুদাম, একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনের একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া ‘আল-আদিরি’ ব্যারাকে মার্কিন সেনাদের আবাসন এবং দুটি হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারেও হামলা চালানো হয়েছে বলে
৬ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব। ইরান বহুবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর ফিরে যাবে না।
৭ ঘণ্টা আগে
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যস্ততম রুটে হঠাৎ গণপরিবহন স্তব্ধ হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রী।
৮ ঘণ্টা আগে
পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বর্তমানে যারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, সময়ে সময়ে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে