মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে আরও ৩১২ এজেন্সি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০১: ২৯
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে মালয়েশিয়া সরকার। ফলে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য অনুমোদিত বাংলাদেশি এজেন্সির সংখ্যা আরও বাড়ল।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে জনশক্তি রপ্তানিকারক ২৫টি এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) কর্মী পাঠানোর জন্য তালিকাভুক্ত করেছিল মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস।

এরপর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক নেতারা।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ওই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ‘ফ্যাসিবাদী’ আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত শর্ত বাংলাদেশের পক্ষে পরিবর্তন করা সহজ নয়।

তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

১০ হাজার কর্মী যাবে ‘জিরো কস্টে’

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। বিমানভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবেন।

এই কর্মীদের প্রথম বহর বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে আবার শ্রমবাজারটি চালু হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি এজেন্সির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান সরকার ওই ৪২৩টির মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সব এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছে।

যাচাই করেছে মালয়েশিয়ার যৌথ কমিটি

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, অতীতে এ ধরনের স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো নজির ছিল না। বর্তমান বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে আশা করছে সরকার।

১৬ মেডিকেল সেন্টার দিয়ে শুরু

শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। ফলে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ কারণে মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ‘ফ্যাসিবাদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টার বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এরপর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হয়রানি বন্ধে গুরুত্ব

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকারও অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হবে, তা নির্ধারণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

তাই মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সমস্যাগুলো নিয়ে কিছু দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনের যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো।

২ দিন আগে

দাবি না মানলে ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সরকারের পতন: কর্নেল অলি

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা। দাবি না মানলেন ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের পতন হবে বলে জানাচ্ছেন তারা।

২ দিন আগে

সংসদ যখন কার্যকর, লংমার্চ তখন গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: স্বপন

তিনি বলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’

২ দিন আগে

লংমার্চ সরকার পতনের আন্দোলন নয়, ওয়েক-আপ কল: আবদুল্লাহ তাহের

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্য। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে এক পথসভায় এসব কথা বলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।

২ দিন আগে
Advertisement