২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, অলি পেলেন ৮৮

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

অনুমানই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। জাতীয় সংসদে ভোটাভুটিতে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ফলে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের বঙ্গভবনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতাই এখন বাকি। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তিনি দুটি পদই ছেড়ে দেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেও ভোট দেন মির্জা ফখরুল। ভোট শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি ব্যালট বাক্সের সামনে উপস্থিত হন। তারেক রহমানের পর নিজের ভোট দেন ফখরুল। এরপর একে একে অন্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু সংসদ সদস্যরাই ভোট দিতে পারেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ৩৫০ আসনের সংসদে বর্তমানে সদস্য ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ২৫০ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ভোটে অংশ নেন মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দিতে পারেননি। তিনি বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্বে রয়েছেন।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলো। ওই বছর পঞ্চম সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ, ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকলেও নানা চাপের মধ্যে ছিলেন।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন। তার আগাম পদত্যাগের কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতাদের বিবৃতি— জিন্নাহকে স্মরণকারীরা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে সংগ্রহশালা থেকে অবিলম্বে ছবিটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১ দিন আগে

রাজনীতি ও ছাগলনামা

সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ‘ছাগলকাণ্ড’ থেকে শুরু করে প্রায় ৮০ বছর আগে মহাত্মা গান্ধীর ছাগল চুরির ঘটনা— রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায়েই জড়িয়ে আছে ‘ছাগল’।

১ দিন আগে

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে হেফাজত

সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে হেফাজত নেতারা ও ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ সংশোধনের দাবি তুলে ধরা হবে।

১ দিন আগে

রাজধানীতে আ.লীগের আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

১ দিন আগে
Advertisement