নাহিদ-আখতাররা যমুনার সামনে, যোগ দিচ্ছেন নানা সংগঠনের নেতাকর্মীরা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
যমুনার সামনে স্লোগান দিচ্ছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে হাসনাতের নেতৃত্বে অবস্থান নিয়েছিল ছাত্র-জনতা। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরাও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন যমুনার সামনে। সেখানে অন্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান ধরেছেন নাহিদও। ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অন্যান্য দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরাও।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টার কিছু সময় পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ কিছু কর্মী-সমর্থক নিয়ে অবস্থান নেন যমুনার সামনে। তখন থেকেই ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে যমুনার সামনে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠতে থাকে গোটা এলাকা।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজেও মাইকে স্লোগান দিতে শুরু করেন একপর্যায়ে।

রাত দুইটার কিছুক্ষণ আগে যমুনার সামনে মাইকে স্লোগান ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর’, ‘ব্যান করো ব্যান করো, আওয়ামী লীগকে ব্যান করো’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’— রাত যত বাড়ছে, এ রকম নানা স্লোগানে গোটা এলাকা তত বেশি উত্তাল হয়ে উঠছে যেন।

মধ্যরাত পেরিয়ে যমুনার সামনে দেখা যায়, সেখানে এনসিপি ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, হেফাজতে ইসলাম, এবি পার্টির মতো বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। তারাও সবাই স্লোগান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে।

রাত পেরিয়ে ভোর ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপস্থিত সবাই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েক হাজার জনতা সেখানে উপস্থিত দেখা গেছে।

গঠনের পর থেকেই আওয়মী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে এনসিপি, এ দাবিতে তারা কিছু কর্মসূচিও পালন করেছে। এনসিপি নেতারাও নিয়মিত এ দাবি জানিয়ে আসছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক প্রোফাইলে দুটি স্ট্যাটাস দেন। এগুলোর মূল বক্তব্য, জুলাই আন্দোলনে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। চলতি মে মাসেই সরকারি-বেসরকারি ও সামরিক পর্যায়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ও হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা ২৩টি বৈঠক করেছেন।

হাসনাতের অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিকে পুনর্বাসনের জন্য এসব কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানান তিনি। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে আরেক স্ট্যাটাসে জানান, যমুনার সামনে অবস্থান নেবেন তিনি।

পরে নাহিদ ইসলামও তার স্ট্যাটাসে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সবাইকে উপস্থিত হতে আহ্বান জানান। বলেন, আজ রাতেই আওয়ামী লীগকে নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভঁইয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, আওয়ামী লীগের দুই সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে এনেছে সরকার।

তবে তার এ স্ট্যাটাস প্রত্যাখ্যান করেছেন নাহিদ-হাসনাত। তারা বলছেন, যুবলীগ- স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিষিদ্ধ করার প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে। আইসিটি আইনে দল হিসেবে বিচার করার বিধান যুক্ত করতে হবে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

একটি দল বিভাজন আনার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটি দল বিভাজন আনার চেষ্টা করছে। এ বিভাজনগুলো আমাদের সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হিংসা বিদ্বেষ তৈরি করে। একটি শব্দ যেটিকে আমরা ঘৃণা করি। এ শব্দটাকে আমাদের সকলের ঘৃণা করা উচিত। মানুষের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব আরও বেশি করে সৃষ্টি করা উচিত।’

১ দিন আগে

দ্রুত দলকে কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করব: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুব দ্রুত কীভাবে আমরা দলকে কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এটাই ছিল মূল আলোচনা। খুব দ্রুত আমরা দলকে কাউন্সিলের দিকে যেতে চেষ্টা করব।’

১ দিন আগে

গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে পরিণতি ভালো হবে না: আজহার

আজহারুল ইসলাম বলেন, আজকে আমি সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। আজ আমি এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। জুলাই বিপ্লব একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না।

২ দিন আগে

পতন নয়, আপনাদের সুন্দর পদক্ষেপের অপেক্ষায়: আখতার

আখতার হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা বৈধ, আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটাকে বলে অবৈধ। এমন দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না। আমরা সংস্কার পরিষদের কথা বলছি। এটা নতুন কোনো কথা নয়। ঐকমত্য কমিশনে ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল সংবিধানের টেকসই পরিবর্তনের জন্য সংস্কার সাধনের জন্য সংস্কারকে টেকসই করার

২ দিন আগে