নির্বাচনের পরও দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করব: আমীর খসরু

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শুক্রবার লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে বিএনপি ‘সন্তুষ্ট’ বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের পরেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমরা চাই, দেশ গড়ার যে প্রত্যয় আমরা নিয়েছি, আমরা সবাই মিলে ঐকবদ্ধভাবে সেই কাজটি করব। শুধু নির্বাচনের আগে নয়, নির্বাচনের পরেও বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

শুক্রবার (১৩ জুন) অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যেকার বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন আমীর খসরু। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যেকার বৈঠকে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নিশ্চয় সন্তুষ্ট। নির্বাচনের আগে শুধু নয়, নতুন বাংলাদেশ গড়তে নির্বাচনের পরেও দেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ‘সন্তুষ্ট না হলে যৌথ ঘোষণা আসত না।’

জুলাই সনদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, আমাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত আছেই যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ হবে। সংস্কারও হবে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই। আমি নিশ্চিত, খুব সময়ের মধ্যেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

এ প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সংস্কার প্রশ্নে যেসব বিষয়ে সবাই একমত হবে, সেগুলো সংস্কার হবে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এমন না যে এখনই সব সংস্কার শেষ হয়ে যাবে। ঐকমত্য যেসব বিষয়ে হবে, নির্বাচনের আগে সেগুলো সংস্কার হবে। নির্বাচনের পরেও সংস্কার অব্যাহত থাকবে। কারণ আমরা যে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছি, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করছি। ফলে আগে-পরে সংস্কার চলতে থাকবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করি না। তারেক রহমান যখন ইচ্ছা দেশে ফিরে যেতে পারবেন। সুতরাং এটার সিদ্ধান্ত উনি নেবেন, উনার সময়মতো নেবেন।

নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না— এমন এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, কোনো সমস্যা নেই। আমরা কোনো সমস্যা দেখছি না। কেউ দেখলে ভুল দেখছেন। আমরা দুপক্ষই বলে দিয়েছি। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন শিগগিরই একটি তারিখ ঘোষণা করবে।

এর আগে লন্ডনে লন্ডনের পার্ক লেনের হোটেল ডোরচেস্টারে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিট) অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বহুল আলোচিত এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকের পর দুপক্ষ যৌথ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, তারেক রহমানের রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবে প্রধান উপদেষ্টা অসম্মতি জানাননি। বলেছেন, সংস্কার ও বিচার কার্যক্রমসহ প্রস্তুতি শেষ করতে পারলে রমজানের এক সপ্তাহ আগেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিএনপির আগের অবস্থানের মাঝামাঝি নতুন এ সময়সীমায় দুপক্ষই সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

তিতুমীর বলেন, দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি)। বর্তমানে সরবরাহ রয়েছে ২৬শ থেকে ২৭শ এমএমসিএফটি। এর মধ্যে ১৬শ এমএমসিএফটি আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার এমএমসিএফটি।

১ দিন আগে

সঠিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর— ‘আত্মবিশ্বাসী’ ভারতীয় দূত

দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের ইচ্ছা একই, তা হলো সত্যিকারের ভালো প্রতিবেশী হিসেবে থাকা। আমরা সবসময় বলি, কেবল বর্ডার শেয়ার করি না, শেয়ার করি একই স্বপ্ন। দুটো দেশই স্বাধীন, সার্বভৌম ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

১ দিন আগে

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় অর্থনীতি-অবকাঠামো-ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ: প্রধানমন্ত্রী

সাক্ষাতে সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

১ দিন আগে

‘সুসময়ের চূড়া’য় বসেও যে ৫ চ্যালেঞ্জ জামায়াতের সামনে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চ্যালেঞ্জগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। ঐতিহাসিক ভাবমূর্তি সংকট দলটির আদর্শিক অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। সে অস্পষ্টতা তাদের মাঠের রাজনীতিকেই কেবল নয়, জোটগত রাজনীতিকেও কঠিন করেছে। এর সূত্র ধরেই ভাঙনের মুখেও রয়েছে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট।

১ দিন আগে
Advertisement