বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ

শাহরিয়ার শরীফ
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ১৬: ৩৩

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসাবে এক দশকের বেশি সময় আগে ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করার অধিকার হারালো।

বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, "সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও তাদের অন্যান্য অঙ্গ–সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।"

প্রধান বিরোধীদল বিএনপির মিত্র হিসেবে দেশের বৃহত্তম ইসলামী দলটি ভোটের ও মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

গত সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে শরীক দলগুলো।

ওই বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

১৪ দলের নেতারা বলছেন, কোটা সংস্কারে ছাত্রদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে মাঠে নামেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা মেট্রোরেলসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি।

গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনও প্রকার রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না।

সেটি করার চেষ্টা করা হলে তা সন্ত্রাস বলে বিবেচিত হবে এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে বিচারহবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করায় তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারত। তবে নিষিদ্ধ করার ফলে দল হিসাবে জামায়াত আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে কি আওয়ামী লীগের লাভ হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “এতে আওয়ামী লীগ অথবা অন‌্য কোনও রাজনৈতিক দল সুফল পাবে না, পাবে দেশের জনগণ। জামায়াত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং তারা মুক্তিযুদ্ধে মানুষ হত‌্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, যা আদালতের রায়ের মাধ‌্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের ঘোরতর শত্রু জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১ সালে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

দলটি পাকিস্তানকে অখণ্ড রাখতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষদের হত্যাসহ বিভিন্ন মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটন করে।

ওই যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্নসমর্পন করার পর স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্নপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। তখন দলটি চাপে পড়ে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যূত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করার পর জামায়াত ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির নির্বিঘ্নে রাজনীতি করার সুযোগ পায়।

১৯৯১ সালে বিএনপির সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ভোট করে জাতীয় সংসদে ১৮টি আসন পান জামায়াত নেতারা।

১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে আট দশমিক ৬১ ভাগ ভোট পেলেও সেবার দলটি তিনটি আসনে জয় পায়।

সর্বশেষ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে চার দশমিক সাত ভাগ ভোট পায় জামায়াত।

উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেনির্বাচন কমিশন (ইসি)।

দলটির ছাত্রসংগঠনের নাম ইসলামী ছাত্রশিবির। ১৯৭১ সালে মহানমুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের অন্তত একডজন শীর্ষ নেতার ফাঁসির রায় ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

তবে জামায়াত নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় সরকার বিরোধীদের ভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

তারা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনায় চাপে পড়াসরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে চায়।

এছাড়া সরকারের শক্ত অবস্থান জানান দেওয়া এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করাও লক্ষ্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এ দলকে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহারের’ কারণে।

এবার দলটিকে নিষিদ্ধ করা হলো জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সংসদে ‘যৌক্তিক’ বিরোধী দল হতে চায় জামায়াত

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠিয়েছে। তাই তারা যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবেন।

৫ দিন আগে

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৫ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৬ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৮ দিন আগে