
ইমাম রাকিব

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে— তিনি সত্যিই স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন, নাকি এর পেছনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধারাবাহিক সমালোচনা, অভিশংসনের দাবি ও রাজনৈতিক চাপ ভূমিকা রেখেছে?
এই আলোচনা নতুন মাত্রা পায় বুধবার (২২ জুলাই), যখন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি ফেসবুকে দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাংবিধানিক মেয়াদ পাঁচ বছর। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আইন অনুযায়ী, তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
তবে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ অন্যতম আলোচিত ইস্যু। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরু করলে বিএনপি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে বলে গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বিএনপি সরকারের যাত্রার পাঁচ মাস পর তা ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, গত মার্চ থেকে জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের ধারাবাহিক সমালোচনা, তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দেওয়া, অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি এবং সংসদে তার ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট— এসব ঘটনায় রাষ্ট্রপতি বেশ ‘বিরক্ত’ ছিলেন। প্রকাশ্যে এসব সমালোচনার জবাবও তিনি দিতে পারছিলেন না।
বঙ্গভবন সূত্র বলছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। তবে কিছুদিন ধরে রাষ্ট্রপতি কয়েকটি বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন এবং জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যদের করা সমালোচনাও তার বিরক্তির কারণ ছিল।
বঙ্গভবন সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দুটি জাতীয় দৈনিককে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এসব সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন-পরবর্তী ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছিলেন। ওই সময় রাজনীতিবিদ, সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিতভাবে বলেছিলেন তিনি।
এর আগে কালের কণ্ঠে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল। অথচ এবারে সাক্ষাৎকার নিলেও দুটি জাতীয় দৈনিকের কোনোটিই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এবারের সাক্ষাৎকারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তির ‘মুখোশ উন্মোচন’ হতে পারত বলেই সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় এলেও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি— তিনি অসুস্থ হলেও দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অক্ষম নন। তার হার্টে দুই দফায় মোট চারটি রিং (স্টেন্ট) পরানো হয়েছে। প্রথম দফায় ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। পরে সম্প্রতি লন্ডনে আরও দুটি রিং পরানো হয়েছে। এ ছাড়া তার ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অক্ষম নন।
বিপরীতে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতির সমালোচনায় সরব। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাস দুয়েক পর রাষ্ট্রপতি এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বলেছিলেন, জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি পাননি। এ বক্তব্য ঘিরে ২০২৪ সালের অক্টোবরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন হয়। ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপি নেতারা।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ‘সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে’ উল্লেখ করে বিএনপি সে আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। তবে জামায়াত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগেও সাংবিধানিক কোনো সংকট দেখেনি। বরং তাদের দাবি ছিল, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যের কারণে রাষ্ট্রপতি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন সাহাবুদ্দিন।
একপর্যায়ে ওই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এলেও মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পথে থাকার বিরোধিতা বারবারই করে এসেছে জামায়াত-এনসিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ শুরুর আগেই দল দুটি জানায়, তারা সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চায় না, বরং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে চায়।
তবে ক্ষমতাসীন বিএনপির সমর্থন ছাড়া সংসদে এমন কোনো প্রস্তাব পাস হবে না, সেটিও তারা জানে। এ কারণে ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু হলে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সংসদের অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে ‘অপরাধী’ বলেই তার বক্তব্য শুনতে চাননি বিরোধী দলের সদস্যরা এবং এর প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে বের হয়ে যান।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির তিনটি ‘অপরাধ’ হলো—
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গত ১ মার্চ এক অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই যে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি, এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন করে তাকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের চিহ্ন বাংলাদেশে রাখব না।’
একই অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সংসদকে যদি আপনারা অপবিত্র হতে না দিতে চান, আপনারা যদি এই সংসদ অধিবেশন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন হিসেবে শুরু না করতে চান, তাহলে অবশ্যই প্রথম অধিবেশনেই সেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে, যিনি গণহত্যার সময় নিশ্চুপ ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।’
পরে আরও বিভিন্ন সময় নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের পাশাপাশি তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াত-এনসিপির তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও বিএনপি এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে খুব একটা আগ্রহী নয়। বঙ্গভবন সূত্রের দাবি, সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস, নারী দিবস ও পাট দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতিই প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন, যেখানে এসব অনুষ্ঠানে সাধারণত সরকারপ্রধানই প্রধান অতিথি থাকতেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতি অনেকটা উপেক্ষিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত থাকলেও রাষ্ট্রপতিকে অনেক অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়োজনে আবারও রাষ্ট্রপতি প্রটোকল অনুযায়ী অংশ নিতে শুরু করেন। গত ১২ মার্চ বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মধ্যেও সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে তাকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেয় সরকারি দল।
এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস, ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, মে দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিও আমন্ত্রণ পান। সবশেষ ঈদুল ফিতরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন এবং পরে বঙ্গভবনে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিএনপির কোনো নেতাও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করেননি। বরং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা রাষ্ট্রপতিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মান দিয়ে আসছেন।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে— তিনি সত্যিই স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন, নাকি এর পেছনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধারাবাহিক সমালোচনা, অভিশংসনের দাবি ও রাজনৈতিক চাপ ভূমিকা রেখেছে?
এই আলোচনা নতুন মাত্রা পায় বুধবার (২২ জুলাই), যখন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি ফেসবুকে দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাংবিধানিক মেয়াদ পাঁচ বছর। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আইন অনুযায়ী, তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
তবে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ অন্যতম আলোচিত ইস্যু। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরু করলে বিএনপি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে বলে গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বিএনপি সরকারের যাত্রার পাঁচ মাস পর তা ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, গত মার্চ থেকে জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের ধারাবাহিক সমালোচনা, তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দেওয়া, অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি এবং সংসদে তার ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট— এসব ঘটনায় রাষ্ট্রপতি বেশ ‘বিরক্ত’ ছিলেন। প্রকাশ্যে এসব সমালোচনার জবাবও তিনি দিতে পারছিলেন না।
বঙ্গভবন সূত্র বলছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। তবে কিছুদিন ধরে রাষ্ট্রপতি কয়েকটি বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন এবং জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যদের করা সমালোচনাও তার বিরক্তির কারণ ছিল।
বঙ্গভবন সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দুটি জাতীয় দৈনিককে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এসব সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন-পরবর্তী ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছিলেন। ওই সময় রাজনীতিবিদ, সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিতভাবে বলেছিলেন তিনি।
এর আগে কালের কণ্ঠে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল। অথচ এবারে সাক্ষাৎকার নিলেও দুটি জাতীয় দৈনিকের কোনোটিই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এবারের সাক্ষাৎকারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তির ‘মুখোশ উন্মোচন’ হতে পারত বলেই সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় এলেও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি— তিনি অসুস্থ হলেও দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অক্ষম নন। তার হার্টে দুই দফায় মোট চারটি রিং (স্টেন্ট) পরানো হয়েছে। প্রথম দফায় ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। পরে সম্প্রতি লন্ডনে আরও দুটি রিং পরানো হয়েছে। এ ছাড়া তার ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অক্ষম নন।
বিপরীতে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতির সমালোচনায় সরব। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাস দুয়েক পর রাষ্ট্রপতি এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বলেছিলেন, জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি পাননি। এ বক্তব্য ঘিরে ২০২৪ সালের অক্টোবরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন হয়। ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপি নেতারা।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ‘সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে’ উল্লেখ করে বিএনপি সে আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। তবে জামায়াত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগেও সাংবিধানিক কোনো সংকট দেখেনি। বরং তাদের দাবি ছিল, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যের কারণে রাষ্ট্রপতি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন সাহাবুদ্দিন।
একপর্যায়ে ওই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এলেও মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পথে থাকার বিরোধিতা বারবারই করে এসেছে জামায়াত-এনসিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ শুরুর আগেই দল দুটি জানায়, তারা সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চায় না, বরং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে চায়।
তবে ক্ষমতাসীন বিএনপির সমর্থন ছাড়া সংসদে এমন কোনো প্রস্তাব পাস হবে না, সেটিও তারা জানে। এ কারণে ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু হলে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সংসদের অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে ‘অপরাধী’ বলেই তার বক্তব্য শুনতে চাননি বিরোধী দলের সদস্যরা এবং এর প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে বের হয়ে যান।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির তিনটি ‘অপরাধ’ হলো—
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গত ১ মার্চ এক অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই যে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি, এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন করে তাকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের চিহ্ন বাংলাদেশে রাখব না।’
একই অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সংসদকে যদি আপনারা অপবিত্র হতে না দিতে চান, আপনারা যদি এই সংসদ অধিবেশন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন হিসেবে শুরু না করতে চান, তাহলে অবশ্যই প্রথম অধিবেশনেই সেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে, যিনি গণহত্যার সময় নিশ্চুপ ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।’
পরে আরও বিভিন্ন সময় নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের পাশাপাশি তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াত-এনসিপির তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও বিএনপি এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে খুব একটা আগ্রহী নয়। বঙ্গভবন সূত্রের দাবি, সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস, নারী দিবস ও পাট দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতিই প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন, যেখানে এসব অনুষ্ঠানে সাধারণত সরকারপ্রধানই প্রধান অতিথি থাকতেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতি অনেকটা উপেক্ষিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত থাকলেও রাষ্ট্রপতিকে অনেক অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়োজনে আবারও রাষ্ট্রপতি প্রটোকল অনুযায়ী অংশ নিতে শুরু করেন। গত ১২ মার্চ বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মধ্যেও সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে তাকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেয় সরকারি দল।
এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস, ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, মে দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিও আমন্ত্রণ পান। সবশেষ ঈদুল ফিতরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন এবং পরে বঙ্গভবনে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিএনপির কোনো নেতাও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করেননি। বরং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা রাষ্ট্রপতিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মান দিয়ে আসছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, বিষয়টি দলের নজরে রয়েছে এবং তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
তারেক রহমান বলেন, আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। কেন কাউকে সরিয়ে দেবো? আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। কেউ একজন বলেছেন, এটা ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না। কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয়, গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম, আমরা ইনশাল্লাহ এক
২ দিন আগে
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বৈঠক শুরুর আগে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী জনশক্তি পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের যমুনায় হাজির হন।
২ দিন আগে
রাশেদ খাঁনকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান
২ দিন আগে