মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা— মশাল মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ২০: ৪৪
ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় বিচার, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার নেপথ্যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত উদ্‌ঘাটনের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। মিছিলে ‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’, ‘ওসমান হাদি, বাংলাদেশের আজাদী’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাষ্কর্য থেকে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এরপর শাহবাগ মোড় ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাদি হত্যা প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মমতা বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত মশাল মিছিলের স্লোগান ছিল— ‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’।

এর আগে গতকাল বুধবার (৩ জুন) ঢাবির মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়; এর পেছনে আরও গভীর দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভারতের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব জাবের। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বক্তব্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের এমন কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যার পরিচয় প্রকাশ পেলে দেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদিকে শুধু আওয়ামী বিরোধিতার কারণে হত্যা করা হয় নাই। ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী সরকারের) আমলে এবং ভারত এই খুনের পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করবার জন্য ইন্টেরিমকেও এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করেছিল কি না, সেইটা আমরা জানতে চাই।’

জাবের বলেন, হত্যার পরপরই সীমান্ত সিল করার কথা থাকলেও তা করতে বিলম্ব হয়েছে, যার ফলে খুনিরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, একটি বেসরকারি অনুসন্ধান সংস্থা অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য খুনিদের পরিচয় প্রকাশ করলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীকে গুলি করে খুনিরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ছেড়ে চলে গেছে। অথচ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি।

শিলিগুড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা

শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও ভারতবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের করা এ মামলার বাদী আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন কলকাতার রাসমণি রোডে আয়োজিত এক জনসভায় বাংলাদেশে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের এক ‘বড় খুনি’ মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।

মামলায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মমতার বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে প্রশাসন বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া কথোপকথন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তিনি ‘মৌলবাদীদের উসকে’ দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে রয়েছে দাঙ্গায় উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসম্প্রীতি নষ্ট করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের অভিযোগ।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

এনসিপির সমাবেশে হামলার নিন্দা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির, দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলা এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এ হামলার দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

৩ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: জামায়াতের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের

রাশেদ খাঁন লেখেন, “আমরা না হয় বিরোধিতা বা সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু একসঙ্গে একজোটে থেকে কীভাবে এনসিপির উত্থান ও জাগরণ ঠেকাতে জাশি (জামায়াত-শিবির) এমন ফ্রেমিং করা শুরু করলো? যেখানে জাশির (জামায়াত-শিবির) পক্ষ থেকে বিবৃতি বা বিক্ষোভ করে জোটসঙ্গীদের পাশে থাকার কথা ছিল।”

৩ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

৩ দিন আগে

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, প্রশাসনের সহায়তায় বোমা হামলার অভিযোগ নাহিদের

নাহিদ আরও বলেন, কে বোমা হামলা করেছে, আমরা জানি না। আমরা জানি, এর দায় হলো প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের। ফলে আমরা এখানকার পুলিশ-প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা চাইব— কেন তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা কীভাবে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল?

৪ দিন আগে