ডাকসুর সর্বমিত্র চাকমাকে ঢাবির শোকজ

ঢাবি প্রতিনিধি
সর্বমিত্র চাকমা। ছবি: ফেসবুক থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে যাওয়া কিশোর ও তরুণদের কানে ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ নোটিশ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ‘কান ধরে ওঠবস’ করানোর ওই ঘটনায় এরই মধ্যে ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সর্বমিত্র।

সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সর্বমিত্র চাকমাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তার জবাব পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমাও শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি জানেন বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। তিনি বলেন, আমি ডাকসুর একজন সদস্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজটি করেছি। অথচ প্রক্টর অফিস আমার বিভাগে নোটিশ পাঠিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নোটিশটি ডাকসুর পদবি উল্লেখ করে ডাকসু অফিসে পাঠাতে পারত বলে মনে করছেন সর্বমিত্র চাকমা।

পরে সর্বমিত্র এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু শোকজের নোটিশ দিয়েছে, এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের যত সাইকেল হারিয়েছে এবং সেন্ট্রাল ফিল্ডে যত মানিব্যাগ-সাইকেল-মোবাইল হারিয়েছে; এ ব্যাপারে এতদিন কেন প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি, কেন দেয়াল সংস্কার করেনি, কেন শারীরিক শিক্ষা ভবনে মদ্যপানরত অবস্থায় হাতেনাতে কর্মচারীদের ধরার পরও বহাল তবিয়তে রেখেছে— তার জবাব আমি লিখিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চাইব।

সর্বমিত্র চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে ডাকসুর নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন তিনি।

ডাকসু সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এরই মধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন সর্বমিত্র। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার সবশেষ ‘কান ধরে ওঠবস’ করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

পরে সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন সর্বমিত্র চাকমা। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও ধারাবাহিক সমালোচনা তার ব্যক্তিগত ও মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ নয়, বরং কার্যকরভাবে কাজ করার পরিবেশ ও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আইএমএফের বেলআউট কর্মসূচি সরকারকে দেউলিয়া করবে: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা সরকার অজুহাত হিসেবে দেখালেও জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পথ গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, শ্রমজীবী মানুষের আয় এবং দেশের উৎপাদনব্যবস্থার স্বার্থকে সর

১ দিন আগে

পাচার ঠেকাতে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, জাহাজভাড়াও বাড়ছে। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। এ সময় তিনি বলেন, ‘উপায়হীন’ না হলে সরকার এমন একটি ‘অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত’ নিতে চাইত না কিংবা নিত না।

১ দিন আগে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জামায়াতের

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দফায় দফায় জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে এবং জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

১ দিন আগে

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রওয়ানা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক এই মঞ্চে সভাপতির আসনে রয়েছে বাংলাদেশ।

২ দিন আগে
Advertisement