
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে একটি মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা যাতে ভারতের ভূখণ্ডে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতাও চেয়েছে ঢাকা। সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই দিন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিদেবীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও একই বার্তা দেন।
গতকাল রোববার ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, নয়া দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের (এফসিসি সাউথ এশিয়া) উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলবেন।
অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার ঠিক দুই বছর পূর্তির দিনেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মথুরা রোডের স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি হবে। ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আয়োজনটি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে টেলিগ্রাম চ্যানেলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চান বলে বিভিন্ন বার্তা ও অডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেগুলো সত্যিই শেখ হাসিনার বক্তব্য, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি— তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সে হিসাবে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলে জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটিই হবে তার প্রথম জনসমক্ষে আসা।
এ বিষয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আগামী ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশ সরকার আপত্তি জানাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আপত্তি কার কাছে জানাব? উনি একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান, যিনি অনেক ধরনের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। উনি কোথায় কী বলছেন, না বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের সেই সময় নেই, সেটার জবাব দেওয়ার।”
শামা বলেন, “কিন্তু আমরা যেটা ফলো করছি, ভারত সরকারও সম্প্রতি একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে যে তারা আশা করে না, ওখানে আশ্রিত একজন পলাতক আসামি রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য দেবেন। ভারত সরকারও সেটাকে সমর্থন করে না। তারা (আওয়ামী লীগ) অনলাইন মিটিং করবে বা যেটাই করবে, সেটা ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।”
এদিকে সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ৫ আগস্টের বক্তব্যের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনা ৫ অগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে।”
এতে আরও বলা হয়, “এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাইকমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
এর আগে এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদও বলেন, “এটা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, কিন্তু সেটা তো আমরা চাই না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষও চায় না। বাংলাদেশও চায় না ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নেতিবাচক হোক। আমরা চাই সম্পর্ক আরও উন্নত হোক এবং উন্নতির দিকেই যাচ্ছে। সুতরাং সেটা মাথায় রেখেই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”
সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারতের সঙ্গে এগোচ্ছি। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, আমরাও চাই না এবং আমার গভীর বিশ্বাস ভারতও চায় না। তাই এ বিষয়ে ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে, তারা সমর্থন দিচ্ছে কি না।”
এর আগে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকায় ভারতীয় দূতকে তলব করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এবারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “বিএনপি সরকার আসার পরও দ্বিপক্ষীয় সব আলোচনা এবং লিখিত বার্তায় ভারত সরকারের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারতে যেহেতু এখন তারা আশ্রিত, পলাতক অবস্থায় আছে, তাই এটার ব্যাখ্যা ভারত সরকারকেই দিতে হবে। এটার দায়দায়িত্ব আমাদের নয়।” আগামী ৫ আগস্টের আয়োজন নিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা ভারত সরকার করছে না।”
সাংবাদিকরা পালটা প্রশ্ন করেন, অনুষ্ঠান তো ভারতেই হচ্ছে। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যদি আমরা প্রয়োজন মনে করি, তাহলে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব।”
এর আগে এ মাসের শুরুর দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ভারতে নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। আওয়ামী লীগের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন বলেও ওই সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এরপর গত দুই বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক, যাদের একটি বড় অংশই শেখ হাসিনার মতো ভারতে অবস্থান করছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ছাত্র-জনতার ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে আলোচনার মধ্যে ভারতের সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিবেদনও নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
টাইম অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারত সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
তবে সংসদীয় কমিটির ওই অবস্থানের পরও দিল্লিতে অনুষ্ঠানের আয়োজক এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, “ওই আয়োজনের বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই।”
সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল।
শেখ হাসিনার অনুষ্ঠান ওই সফরের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “সেটা সময়ই বলে দেবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিয়েছেন, তখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল। তিনি পরিবারসহ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এখন আবার ব্রিকস থেকেও আমন্ত্রণ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কাজেই ২৪ ঘণ্টা ব্যয় করছেন। তাই কখন, কোথায়, কীভাবে তিনি সফর করবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।”
তারেক রহমানকে ব্রিকসে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং আমন্ত্রণপত্রে তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা কোনো আলোচনার বিষয় নয়।”
ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের স্বার্থ ঠিক রেখে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে বিনিয়োগ হবে, সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। ভারত, চীন— সব দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকবে, ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকবে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও থাকবে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।”

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে একটি মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা যাতে ভারতের ভূখণ্ডে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতাও চেয়েছে ঢাকা। সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই দিন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিদেবীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও একই বার্তা দেন।
গতকাল রোববার ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, নয়া দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের (এফসিসি সাউথ এশিয়া) উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলবেন।
অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার ঠিক দুই বছর পূর্তির দিনেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মথুরা রোডের স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি হবে। ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আয়োজনটি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে টেলিগ্রাম চ্যানেলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চান বলে বিভিন্ন বার্তা ও অডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেগুলো সত্যিই শেখ হাসিনার বক্তব্য, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি— তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সে হিসাবে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলে জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটিই হবে তার প্রথম জনসমক্ষে আসা।
এ বিষয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আগামী ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশ সরকার আপত্তি জানাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আপত্তি কার কাছে জানাব? উনি একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান, যিনি অনেক ধরনের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। উনি কোথায় কী বলছেন, না বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের সেই সময় নেই, সেটার জবাব দেওয়ার।”
শামা বলেন, “কিন্তু আমরা যেটা ফলো করছি, ভারত সরকারও সম্প্রতি একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে যে তারা আশা করে না, ওখানে আশ্রিত একজন পলাতক আসামি রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য দেবেন। ভারত সরকারও সেটাকে সমর্থন করে না। তারা (আওয়ামী লীগ) অনলাইন মিটিং করবে বা যেটাই করবে, সেটা ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।”
এদিকে সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ৫ আগস্টের বক্তব্যের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনা ৫ অগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে।”
এতে আরও বলা হয়, “এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাইকমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
এর আগে এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদও বলেন, “এটা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, কিন্তু সেটা তো আমরা চাই না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষও চায় না। বাংলাদেশও চায় না ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নেতিবাচক হোক। আমরা চাই সম্পর্ক আরও উন্নত হোক এবং উন্নতির দিকেই যাচ্ছে। সুতরাং সেটা মাথায় রেখেই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”
সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারতের সঙ্গে এগোচ্ছি। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, আমরাও চাই না এবং আমার গভীর বিশ্বাস ভারতও চায় না। তাই এ বিষয়ে ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে, তারা সমর্থন দিচ্ছে কি না।”
এর আগে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকায় ভারতীয় দূতকে তলব করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এবারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “বিএনপি সরকার আসার পরও দ্বিপক্ষীয় সব আলোচনা এবং লিখিত বার্তায় ভারত সরকারের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারতে যেহেতু এখন তারা আশ্রিত, পলাতক অবস্থায় আছে, তাই এটার ব্যাখ্যা ভারত সরকারকেই দিতে হবে। এটার দায়দায়িত্ব আমাদের নয়।” আগামী ৫ আগস্টের আয়োজন নিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা ভারত সরকার করছে না।”
সাংবাদিকরা পালটা প্রশ্ন করেন, অনুষ্ঠান তো ভারতেই হচ্ছে। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যদি আমরা প্রয়োজন মনে করি, তাহলে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব।”
এর আগে এ মাসের শুরুর দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ভারতে নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। আওয়ামী লীগের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন বলেও ওই সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এরপর গত দুই বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক, যাদের একটি বড় অংশই শেখ হাসিনার মতো ভারতে অবস্থান করছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ছাত্র-জনতার ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে আলোচনার মধ্যে ভারতের সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিবেদনও নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
টাইম অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারত সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
তবে সংসদীয় কমিটির ওই অবস্থানের পরও দিল্লিতে অনুষ্ঠানের আয়োজক এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, “ওই আয়োজনের বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই।”
সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল।
শেখ হাসিনার অনুষ্ঠান ওই সফরের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “সেটা সময়ই বলে দেবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিয়েছেন, তখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল। তিনি পরিবারসহ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এখন আবার ব্রিকস থেকেও আমন্ত্রণ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কাজেই ২৪ ঘণ্টা ব্যয় করছেন। তাই কখন, কোথায়, কীভাবে তিনি সফর করবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।”
তারেক রহমানকে ব্রিকসে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং আমন্ত্রণপত্রে তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা কোনো আলোচনার বিষয় নয়।”
ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের স্বার্থ ঠিক রেখে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে বিনিয়োগ হবে, সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। ভারত, চীন— সব দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকবে, ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকবে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও থাকবে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।”

ওই অভিযোগের তদন্তের জন্য রোববার দুপুরে প্রাধ্যক্ষ তার কক্ষে ইব্রাহীম খলিলকে ডাকেন জানিয়ে মোছাদ্দিক বলেন, ‘তদন্তের সময় প্রভোস্ট অফিসে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। আমরাও প্রভোস্ট অফিসের বাইরে অবস্থান নিয়ে ছিলাম। তখন তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা ভেতরে ঢুকলে তারা আবার হামলা চালায়। হামলায়
১ দিন আগে
সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
২ দিন আগে
সফরকালে গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন, যা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান পরিধির প্রতিফলন।
২ দিন আগে
চীনের নেতৃত্বে গঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড এআই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউএআইসিও) প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক (অবজারভার) হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আজ শনিবার ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
২ দিন আগে