পদে পদে বাধাগ্রস্ত, তবু গণতন্ত্র ফিরবে বলে আশা খালেদা জিয়ার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত দলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

দেশে গণতন্ত্রের দিকে অভিযাত্রা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তা সত্ত্বেও দেশে শিগগিরই গণতন্ত্র ফিরবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত দলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া। অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেন, যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেছেন, সেই গণতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা আজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতি পদে পদে।

এ পরিস্থিতির উত্তরণে গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার যাত্রায় সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেন, খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠিত দেখতে পাব— এই হোক শহিদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এক বছর পর ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। পরে তিনি রাজনৈতিক দল বিএনপি গড়ে তোলেন।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন বছর এক মাস পর ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রতি বছর মে মাসের এই দিনটি আমাদের পরিবারে আসে এক বেদনাবিধুর স্মৃতি নিয়ে। এ দিনে শুধু আমাদের পরিবার নয়, বরং সারা দেশই হয়ে উঠেছিল বেদনার্ত ও অভিভাবকহীন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অবিচ্ছেদ্য নাম শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করে তিনি এ দেশের সঙ্গে তার নাম অবিচ্ছেদ্য করেছিলেন, সেই চট্টগ্রামে এক সফল, সৎ, দূরদর্শী ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

জিয়ার অবদান তুলে ধরে তার স্ত্রী ও নিজের গড়ে তোলা দল বিএনপিতে চার দশক ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া খালেদা জিয়া বলেন, এ দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা, উন্নয়ন এবং নিজস্ব জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির অন্যন্য রূপকার শহিদ জিয়া।

জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে উল্লেখ করে খালেদা বলেন, মনে রাখবেন— সবার জন্য গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের যে রাজনীতি শহিদ জিয়া রেখে গেছেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তিনি। চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থানরত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।

দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বক্তব্য দেন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জ্বালানি আমদানি বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ ‘দুনীতির নতুন লাইসেন্স’: জামায়াত

গোলাম পরওয়ার বলেন, “দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পর বিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হতে পারে।”

১ দিন আগে

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া ধীর না করে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে তা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

২ দিন আগে

অতীতের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সমস্যা তৈরি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পাল

২ দিন আগে

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দলীয় নয়, জাতীয় ইতিহাস থাকতে হবে: নাহিদ ইসলাম

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যাসহ ফেলানীর কিছু স্মৃতি ছিল, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এটা ভয় থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে কি না, জানা নেই। সরিয়ে দিয়ে তারা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বোঝাচ্ছে। কিন্তু এখানে আপসের কিছু নেই। আপস করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে না। জাদুঘরে বিএনপির নির্যাতনের কিছু জিনিস বৃদ্ধি

২ দিন আগে