জুলাই সনদের প্রস্তাবে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য এসেছে বলা হলেও এর মধ্যে কেবল ১৭টি প্রস্তাবে পূর্ণ ঐকমত্য এসেছে। বাকি ৬৭টি প্রস্তাবেই কোনো না কোনো দলের দ্বিমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— জাতীয় ঐক্যের এই দলিল কতটা ঐক্য আনতে সক্ষম হলো দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে?
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করাসহ ৫ দফা দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ৮টি রাজনৈতিক দল।
জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংস্কার আলোচনায় অংশ নেয়নি—না জুলাই অভ্যুত্থানের আগে, না পরে। তারা কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব দেয়নি, কোনো সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেনি, এমনকি একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিও কোনো অঙ্গীকার দেখায়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে, সুস্থ থাকেলে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান ইসি নুরুল হুদা কমিশনের মতো পথেই হাঁটছে। আমরা চাই না এই কমিশনেরও সেই পরিণতি হোক। তাদের আচরণে কোনো স্বচ্ছতা নেই, আর সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করারও কোনো সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনাররা যেখান থেকে আসছে, তারা তাদের নিয়োগদাতাদের স্বার্থই রক্ষা করছে। অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে নির্বাচন কমিশনকে মুক্ত করতে হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি মনে করি না আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে, তবে এনসিপি হয়তো আংশিকভাবে বক্তব্য কেটেছে। কারণ আমি স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, ওখানে কোনো প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা এই সংঘর্ষে জড়িত নয়।’
‘বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজসহ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁথা। এগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে, যাতে ছাত্র–জনতার আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনকে ব্যাহত করা যায়।’
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি কারখানায় আগুন লাগে। একই দিন রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি সূতার মিলে আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া, গত ১৪ অক্টোবর মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যা
তিনি লেখেন, বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি না। এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।
কিছু রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও তা আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
জয়নুল আবদিন ফারুক আরও বলেন, আসুন আমরা ভাই ভাই। আমরা ওই জুলাই সনদে অঙ্গীকার করব। আমরা আজ জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেব—এই জুলাই সনদে যা লেখা আছে, যেই দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করব।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘রক্ত দেওয়ার সময় আমরা এগিয়ে থাকব, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে আমাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকা এবং বাস্তবায়নের সঠিক পন্থা না দেখানোয় তারা জুলাই সনদে সই করেনি।
নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির এই শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন এবং সরাসরি নেতৃত্ব আগামী নির্বাচনের মাঠে বিএনপিকে জয়ের দিকে এগিয়ে দেবে। শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে একটা মোমেন্টাম তৈরি হবে। ফলে তারেক রহমানের ভাবমূর্তি নির্বাচনে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি।