সব কোম্পানির জন্য ব্যাংক লেনদেনে আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের প্রস্তাব

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ১৮: ২৯

সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করলে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত সব কোম্পানিকে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যবসায়ী মহলের করপোরেট কর কমানোর দাবির মধ্যেই তিনি এ ঘোষণা দেন।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন।

পুঁজিবাজারকে আরও টেকসই করার লক্ষ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “লিস্টেড বা নন-লিস্টেড যে কোনো কোম্পানি তাদের সকল লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পাদন করলে অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ কর সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এতে ক্যাশলেস লেনদেন সম্পাদনকারী যে সকল লিস্টেড কোম্পানি শেয়ার বাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোড করেছে তাদের কর হার নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হারের তুলনায় ৭.৫০ শতাংশ কম হবে।”

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের প্রস্তাব ছিল। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও একই সুবিধা পাবে। বর্তমানে কোম্পানিভেদে ভিন্ন ভিন্ন করহার কার্যকর রয়েছে।

আয়কর আইনে সংজ্ঞায়িত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের আয়ের ওপর শর্ত ছাড়াই করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তা ২৫ শতাংশে নেমে আসে। পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর করা তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার বর্তমানে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। শর্ত পূরণ করলে তাদের করহার ২০ শতাংশই থাকছে।

অন্যদিকে, যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর করেনি, তাদের করহার বর্তমানে সাড়ে ২৭ শতাংশ। শর্ত পূরণ করলে নতুন অর্থবছরে তা ২৫ শতাংশ হবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আরও কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাবও দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাব আনছি: জিরো কুপন বন্ডের আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।”

এ ছাড়া যেকোনো পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। পাশাপাশি কোম্পানি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর করহার কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কর রেয়াত পেতে ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন যোগাতে ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে, যা বর্তমান বাজার সূচকের উত্থানের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ খাতে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

রাজনীতি/আরআইআর

Ad
Ad
ad
ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন কমল ৫ জনের

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত বছর বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ২২ জনের বিষয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

৩ দিন আগে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

৩ দিন আগে

শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নে বড় পরিবর্তন, ইক্যুইটি-ঋণের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১

সংশোধিত বিধানে কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ থাকবে। পাশাপাশি কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চারগুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না।

৩ দিন আগে

ঋণনির্ভরতা কমাতে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

৩ দিন আগে