
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে বিপুল পরিমাণ কর বসানোর কৌশল নেয়নি সরকার। বরং করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে. বিভিন্ন খাতে করছাড় দেওয়া হয়েছে। তাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এটি বাজেটে বাড়ানো হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর দিতে হয় না।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাশাপাশি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির এই করমুক্ত আয়সীমা অব্যাহত থাকবে। তবে আগামী অর্থবছর ও তার পরের অর্থবছরে নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এদিকে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষেত্রে একই সময়ে করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই আন্দোলনকারীদের করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এদিকে আগামী দুই অর্থবছরের পরের তিন অর্থবছরে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির এই করমুক্ত আয়সীমা ক্রমান্বয়ে আরও বাড়ানো হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা হবে চার লাখ টাকা। এরপর ২০৩০-৩১ অর্থ বছরে করমুক্ত আয়সীমা আরও বেড়ে হবে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্য ও কৃষিপণ্যে কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নতির লক্ষ্যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের একটি বড় জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কর ছাড়ের আওতায় আসা মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজ। এসব পণ্যের ওপ উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এ ছাড়া জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় থাকা ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে এসব মসলা ও খেজুরের দাম কমতে পারে খেজুরের।
এ ছাড়া আমদানি করা শিশুখাদ্যের প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।
সোনা ও সোনার অলংকারের ওপর উৎসে কর ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, এসব পণ্য সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি হিসাবে ২৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
দেশের ওষুধ শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের নতুন উপকরণ ও ওষুধ তৈরির মূল উপাদান এপিআইসহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।
ওষুধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়াও বিশ্ববাজারে দেশি ওষুধের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বেশকিছু সুবিধার প্রস্তাব করেছে সরকার। দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও গতিশীলতা বাড়াতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আবার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০২৯-৩০ অর্থবছর তথা ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোবাইল সেবা আরো সহজলভ্য করতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট প্রস্তাবনায়।
যুগের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কনটেন্ট তৈরিতে কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করে আয় করছেন। তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ প্রদান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করছি।
দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি), বাস, ট্রাক ও বাইকের ওপর শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।
এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুই লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে ও করদাতাদের হয়রানি কমাতে নীতিগত কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে ও নীতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান করপোরেট করের হার আগামী অর্থবছরে অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে করের আওতা বাড়িয়ে করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতদিন করযোগ্য আয় না থাকলেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ‘ন্যূনতম কর’ ধরা হতো। এটি ব্যবসার সচল মূলধন আটকে দিত। এখন নতুন প্রস্তাবে উৎসে করকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর সরাসরি রিফান্ড (ফেরত) করা হবে।
আয়কর ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আবার নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে কিছু জরিমানাও দিতে হবে।
বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটি ছাড় দেওয়া হবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্নের পরিমাণ হবে প্রকৃত কর। অর্থাৎ কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।
এদিকে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩০০০ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা বাড়তি দিতে হবে। আার শেষ প্রান্তিক তথা এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে বিপুল পরিমাণ কর বসানোর কৌশল নেয়নি সরকার। বরং করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে. বিভিন্ন খাতে করছাড় দেওয়া হয়েছে। তাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এটি বাজেটে বাড়ানো হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর দিতে হয় না।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাশাপাশি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির এই করমুক্ত আয়সীমা অব্যাহত থাকবে। তবে আগামী অর্থবছর ও তার পরের অর্থবছরে নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এদিকে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষেত্রে একই সময়ে করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই আন্দোলনকারীদের করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এদিকে আগামী দুই অর্থবছরের পরের তিন অর্থবছরে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির এই করমুক্ত আয়সীমা ক্রমান্বয়ে আরও বাড়ানো হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা হবে চার লাখ টাকা। এরপর ২০৩০-৩১ অর্থ বছরে করমুক্ত আয়সীমা আরও বেড়ে হবে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্য ও কৃষিপণ্যে কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নতির লক্ষ্যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের একটি বড় জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কর ছাড়ের আওতায় আসা মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজ। এসব পণ্যের ওপ উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এ ছাড়া জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় থাকা ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে এসব মসলা ও খেজুরের দাম কমতে পারে খেজুরের।
এ ছাড়া আমদানি করা শিশুখাদ্যের প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।
সোনা ও সোনার অলংকারের ওপর উৎসে কর ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, এসব পণ্য সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি হিসাবে ২৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
দেশের ওষুধ শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের নতুন উপকরণ ও ওষুধ তৈরির মূল উপাদান এপিআইসহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।
ওষুধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়াও বিশ্ববাজারে দেশি ওষুধের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বেশকিছু সুবিধার প্রস্তাব করেছে সরকার। দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও গতিশীলতা বাড়াতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আবার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০২৯-৩০ অর্থবছর তথা ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোবাইল সেবা আরো সহজলভ্য করতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট প্রস্তাবনায়।
যুগের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কনটেন্ট তৈরিতে কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করে আয় করছেন। তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ প্রদান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করছি।
দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি), বাস, ট্রাক ও বাইকের ওপর শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।
এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুই লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে ও করদাতাদের হয়রানি কমাতে নীতিগত কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে ও নীতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান করপোরেট করের হার আগামী অর্থবছরে অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে করের আওতা বাড়িয়ে করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতদিন করযোগ্য আয় না থাকলেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ‘ন্যূনতম কর’ ধরা হতো। এটি ব্যবসার সচল মূলধন আটকে দিত। এখন নতুন প্রস্তাবে উৎসে করকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর সরাসরি রিফান্ড (ফেরত) করা হবে।
আয়কর ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আবার নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে কিছু জরিমানাও দিতে হবে।
বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটি ছাড় দেওয়া হবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্নের পরিমাণ হবে প্রকৃত কর। অর্থাৎ কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।
এদিকে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩০০০ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা বাড়তি দিতে হবে। আার শেষ প্রান্তিক তথা এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
২০ ঘণ্টা আগে
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চিন্তাশীল বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তবে তিনি মনে করেন, বাজেটের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল।
২০ ঘণ্টা আগে
প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমায় অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা ও সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার হার বৃদ্ধি, উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা অব্যাহত রাখা এবং ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগসহ ৬টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ
২০ ঘণ্টা আগে