ময়মনসিংহ-৯: স্বতন্ত্র-বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলোচনায় চাচি-ভাতিজা

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৩৪
‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হাসিনা খান চৌধুরী (বাঁয়ে) ও ‘ধানের শীষে’র প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে একই পরিবার থেকে দুজন প্রার্থী হয়েছেন, সম্পর্কে তারা চাচি-ভাতিজা। এই ব্যতিক্রমী নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতোমধ্যে ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছে।

নান্দাইল আসনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন তার চাচি হাসিনা খান চৌধুরী। দুজনই একই প্রভাবশালী বিএনপি পরিবারের সদস্য হওয়ায় নির্বাচনি মাঠে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর হাউজের এই চৌধুরী পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সরকারি সফরে এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক সফরে গিয়ে এই পরিবারের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছে এই বাড়িটি রাজনৈতিক পীঠস্থান হিসেবেই পরিচিত।

চৌধুরী পরিবারের প্রয়াত খুররম খান চৌধুরী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং নান্দাইলের তিনবারের এমপি (১৯৭৯, ১৯৮৮ ও ২০০১)। তার স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

অন্যদিকে প্রয়াত খুররম খান চৌধুরীর ভাই প্রয়াত আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তার একমাত্র ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী এখানে বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ-৯ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হোসেন চান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাইদুর রহমান, গণফোরামের লতিফুল বারী হামিম এবং জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ তারিক।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী একজন গৃহবধূ। অতীতে রাজনীতিতে তার সক্রিয় কোনো ভূমিকা না থাকলেও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় এলাকায় তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, হাসিনা খান চৌধুরীর ছেলে নাসের খান চৌধুরী এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। বাবা খুররম খান চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি নান্দাইলে বিএনপির হাল ধরে রেখেছিলেন। তবে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। পুত্রের মনোনয়ন না পাওয়া এবং স্বামীর দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক ধরে রাখার লক্ষ্যেই হাসিনা খান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী বর্তমানে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি ছাড়াও দলের আরও তিনজন প্রভাবশালী নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ব্যাপক প্রচার চালালেও তারা মনোনয়ন পাননি। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনকে চমকে দিয়ে হাসিনা খান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রথমে যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তিনি তা ফিরে পান।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে হাসিনা চৌধুরীকে বিএনপির দুই মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সঙ্গে দেখা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের একটি অংশ তাকে সমর্থন দিচ্ছে।

গত বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে হাসিনা খান চৌধুরীকে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘হাঁস’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে তার অনুসারীরা নান্দাইলের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন।

সব মিলিয়ে চাচি–ভাতিজার এই নির্বাচনি লড়াই কতটা জমে ওঠে, কোন দিকে মোড় নেয়, শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হন— তা জানতে মুখিয়ে আছেন নান্দাইলের ভোটাররা।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৩ দল পালটে বিএনপিতে ক্ষমতার স্বাদ রেজা কিবরিয়ার

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। এ আসনে স্বতন্ত্র ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট।

৭ ঘণ্টা আগে

জামালপুরে মিল্লাতসহ সব বিএনপি প্রার্থীর জয়

জামালপুরের পাঁচটি আসনেই দাপুটে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে তিনি ৭৮ হাজার ৪৫৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।

৮ ঘণ্টা আগে

বিদ্রোহী ও জামায়াত প্রার্থীকে মোকাবিলা করে জহির উদ্দিন স্বপনের বিপুল বিজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন জয় পেয়েছেন। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তিনি ৮১ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়েছেন।

৯ ঘণ্টা আগে

দলের নির্দেশে নিজ আসন ছেড়ে পাশের আসনে গিয়েও জয় কৃষক দলের বাবুলের

বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, এক লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট।

৯ ঘণ্টা আগে