নেত্রকোনায় ১৩ বছর পর ধর্ষণ মামলার রায়, একমাত্র আসামির যাবজ্জীবন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৮: ২২
মামলায় একমাত্র আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আলোচিত ধর্ষণ মামলায় ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি মো. হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. একেএম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল বারহাট্টা উপজেলার স্বল্প দশাল গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ছিলেন সরল প্রকৃতির। প্রায় আট বছর আগে তার স্বামী দুই মেয়েকে রেখে চলে যান। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন তিনি।


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ মার্চ ও ৬ জুন রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বাড়িতে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন হেলাল। এ ঘটনায় একই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার রাতে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরের বাঁশের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন আসামি। পরে তাকে ধর্ষণ করে বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে ও পাশের ঘরের এক স্বজন আসামিকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়।

পরে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল ধর্ষণের অভিযোগ এবং সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন।


পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে জন্ম নেওয়া শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে হেলালের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

মামলা চলাকালীন অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী মারা যান। এরপর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি, বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আত্মীয়দের সহায়তায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির পিতৃত্ব প্রমাণিত হওয়ায় সে হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী সে পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য অধিকারও পাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দিয়েছেন।

পিপি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একদিকে ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে একটি শিশু তার পিতৃপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধিকার ফিরে পেয়েছে। এ রায় ভবিষ্যতের এমন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হবিগঞ্জেও এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ, সড়কে বসে প্রতিবাদ

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কেন আমাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছে? আমরা হবিগঞ্জে যেতে চাই। সেখানে গিয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’

১ দিন আগে

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা বালুভর্তি ২ ট্রলার ছিনতাই

জব্দ করা দুটি ট্রলার রাজীবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াদুদ জামান মানিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন এবং উচাখিলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাদীউল বাশার সুমনের জিম্মায় দিয়েছিল প্রশাসন। ট্রলারে ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য, কনস্টেবল বিমল চন্দ্র পাল এবং গ্রাম পুলিশ উজ্জ্বল ও

১ দিন আগে

শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধা পেরিয়ে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জের পথে

একপর্যায়ে হাসনাত বলেন, তিনি নিজেসহ আরও দুই সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ও মাহমুদা মিতু (সংরক্ষিত আসনে) এবং এনসিপির দুজন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য কেবল মামলা করতে যাবেন। প্রয়োজনে তারা গাড়ির চালককেও নেবেন না। পুলিশ চালক দিলে তাকে নিয়েই যাবেন তারা। তবে পুলিশ সে প্রস্তাবও মানেনি। পরে এনসিপি নেতারা ব্যারিক

১ দিন আগে

ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিধবা নারীর মামলা

বুধবার (২২ জুলাই) পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদী হিসেবে মামলাটি দায়ের করেন ওই বিধবা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার রেকর্ড করে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

১ দিন আগে