ঢামেক হাসপাতালের টয়লেট থেকে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি টয়লেট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি ৪ নম্বর টয়লেট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পাওয়া যায়। দুটি স্থানের মধ্যে হাঁটাপথে দূরত্ব প্রায় পাঁচ মিনিট। ঘটনাটি ঘিরে সন্দেহ তৈরি হলেও ছুরিটির সঙ্গে নারীর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বলেন, সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নিচতলার টয়লেট পরিষ্কার করতে যান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী কক্ষগুলোর দরজায় নক করে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বের হতে বলেন। ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় নক করার পর দীর্ঘ সময়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়।

পরে সহকর্মী রাসেল ও কামালের সহযোগিতায় দরজা খুলে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান মাহমুদ। তিনি বলেন, ঘটনাটি তারা আনসার সদস্য ও সর্দারকে জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় খবর দেয়।

এদিকে সোমবার ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী পেল্লী সন্তোষ বলেন, সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে তিনি ছুরিটি দেখতে পান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই স্থানের মেঝে পরিষ্কার করেন এবং ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রাখেন।

সন্তোষ বলেন, ঘটনার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশে টয়লেটে একজনকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান বলেন, সকালে এসে তিনি বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত থাকার কথা শোনেন। কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে ও নিচে রক্তের দাগ এবং ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন ছিল। সকালে আনসার ডিউটি পরিবর্তনের সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্য ক্লিনারকে দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করান।

ডা. শায়লা বলেন, ‘প্রথমে মনে হয়েছিল কোনো রোগীর শরীর থেকে রক্ত পড়েছে। হাসপাতালে এমন হয়। পরে বাথরুমের ঘটনা জানার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা আছে, ফুটেজ দেখলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

ঘটনাস্থলে শাহবাগ থানা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা মেডিকেলে এসেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। মরদেহ উদ্ধার, আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement