
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

তিন শতকেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য বহন করে আসা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার এক বছর পূর্ণ করেছে। এই স্বীকৃতিকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও শিল্পটির উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় হতাশ সংশ্লিষ্টরা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার কারবালা হাটি গ্রামের পনির কারিগর নিশান জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরেই এ অঞ্চলে পনির তৈরির ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। পারিবারিকভাবে তিনি শুনে বড় হয়েছেন, তার দাদা নূর আলী মুঘল সম্রাটদের জন্যও পনির তৈরি করতেন। দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও তার তৈরি পনিরের স্বাদ গ্রহণ করেছেন।

নিশান বলেন, 'একসময় অষ্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পনির তৈরি হতো। এখন সেই সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন কারিগরে নেমে এসেছে। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও এই শিল্পের উন্নয়নে কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।'
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পনির সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এতে উৎপাদকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তাদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্পকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
পনির উৎপাদনকারীরা জানান, অষ্টগ্রামের পনির তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। প্রায় ১০ লিটার দুধ থেকে মাত্র এক কেজি পনির উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পনির ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজার সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ডিং ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প তার সম্ভাবনা অনুযায়ী এগোতে পারছে না।
পনির কারিগর ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অষ্টগ্রামের পনির বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। আগে এর চাহিদা সীমিত থাকলেও এখন ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা না বাড়ায় সেই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, 'অষ্টগ্রামের পনির সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে একটি কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।'
মুঘল আমল থেকে শুরু হয়ে শতাব্দী পেরিয়ে আজও টিকে আছে অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনির। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি না হলে জিআই স্বীকৃতির গৌরব থাকলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
জিআই স্বীকৃতি অষ্টগ্রামের পনিরকে নতুন পরিচিতি এনে দিলেও এর প্রকৃত সুফল পেতে এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
উল্লেখ্য, গত বছর ৩০ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান ও অষ্টগ্রামের পনিরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি পণ্যকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে। পণ্য হলো— নরসিংদীর লটকন (৩২), মধুপুরের আনারস (৩৩), ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই (৩৪), মাগুরার হাজরাপুরী লিচু (৩৫), সিরাজগঞ্জের গামছা (৩৬), সিলেটের মণিপুরি শাড়ি (৩৭), মিরপুরের কাতান শাড়ি (৩৮), ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা (৩৯), কুমিল্লার খাদি (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি (৪১), গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গয়না (৪২), সুন্দরবনের মধু (৪৩), শেরপুরের ছানার পায়েস (৪৪), সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি (৪৫), গাজীপুরের কাঁঠাল (৪৬), কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান (৪৭), অষ্টগ্রামের পনির (৪৮), বরিশালের আমড়া (৪৯), কুমারখালীর বেডশিট (৫০), দিনাজপুরের বেদানা লিচু (৫১), মুন্সিগঞ্জের পাতক্ষীর (৫২), নওগাঁর নাকফজলি আম (৫৩), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কির সন্দেশ (৫৪) এবং ঢাকাই ফুটিকার্পাস তুলার বীজ ও গাছ (৫৫)।

তিন শতকেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য বহন করে আসা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার এক বছর পূর্ণ করেছে। এই স্বীকৃতিকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও শিল্পটির উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় হতাশ সংশ্লিষ্টরা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার কারবালা হাটি গ্রামের পনির কারিগর নিশান জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরেই এ অঞ্চলে পনির তৈরির ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। পারিবারিকভাবে তিনি শুনে বড় হয়েছেন, তার দাদা নূর আলী মুঘল সম্রাটদের জন্যও পনির তৈরি করতেন। দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও তার তৈরি পনিরের স্বাদ গ্রহণ করেছেন।

নিশান বলেন, 'একসময় অষ্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পনির তৈরি হতো। এখন সেই সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন কারিগরে নেমে এসেছে। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও এই শিল্পের উন্নয়নে কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।'
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পনির সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এতে উৎপাদকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তাদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্পকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
পনির উৎপাদনকারীরা জানান, অষ্টগ্রামের পনির তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। প্রায় ১০ লিটার দুধ থেকে মাত্র এক কেজি পনির উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পনির ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজার সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ডিং ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প তার সম্ভাবনা অনুযায়ী এগোতে পারছে না।
পনির কারিগর ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অষ্টগ্রামের পনির বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। আগে এর চাহিদা সীমিত থাকলেও এখন ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা না বাড়ায় সেই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, 'অষ্টগ্রামের পনির সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে একটি কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।'
মুঘল আমল থেকে শুরু হয়ে শতাব্দী পেরিয়ে আজও টিকে আছে অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনির। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি না হলে জিআই স্বীকৃতির গৌরব থাকলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
জিআই স্বীকৃতি অষ্টগ্রামের পনিরকে নতুন পরিচিতি এনে দিলেও এর প্রকৃত সুফল পেতে এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
উল্লেখ্য, গত বছর ৩০ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান ও অষ্টগ্রামের পনিরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি পণ্যকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে। পণ্য হলো— নরসিংদীর লটকন (৩২), মধুপুরের আনারস (৩৩), ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই (৩৪), মাগুরার হাজরাপুরী লিচু (৩৫), সিরাজগঞ্জের গামছা (৩৬), সিলেটের মণিপুরি শাড়ি (৩৭), মিরপুরের কাতান শাড়ি (৩৮), ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা (৩৯), কুমিল্লার খাদি (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি (৪১), গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গয়না (৪২), সুন্দরবনের মধু (৪৩), শেরপুরের ছানার পায়েস (৪৪), সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি (৪৫), গাজীপুরের কাঁঠাল (৪৬), কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান (৪৭), অষ্টগ্রামের পনির (৪৮), বরিশালের আমড়া (৪৯), কুমারখালীর বেডশিট (৫০), দিনাজপুরের বেদানা লিচু (৫১), মুন্সিগঞ্জের পাতক্ষীর (৫২), নওগাঁর নাকফজলি আম (৫৩), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কির সন্দেশ (৫৪) এবং ঢাকাই ফুটিকার্পাস তুলার বীজ ও গাছ (৫৫)।

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
১ দিন আগে
রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর
১ দিন আগে
ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের
১ দিন আগে
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শহরের একাধিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
২ দিন আগে