
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের উৎপাদন ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। একদিকে ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের বিস্তার, অন্যদিকে ধান কাটার মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি সংকট— দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন কৃষকরা। এতে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
হাওর জুড়ে এখন বোরো ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের মতে, আর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াই। তবে এরই মধ্যে অনেক কৃষক মাঠে গিয়ে ধানের শীষে রোগের লক্ষণ দেখে হতাশ হয়ে ফিরছেন। সবুজ ধানের মাঝে শুকিয়ে যাওয়া শীষ ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার ফলে শীষ চিটা হয়ে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার জোয়ান শাহী বড় হাওর, ধোপাবিল, মান্দা, কাইছনা, পাতাইরবন্ধ, চিনাকান্দি ও ভাতশালা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় রোগটির বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পর থেকেই ধানখেতে এ রোগ ছড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৭৫ জাতের ধানে বেশি আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
জোয়ান শাহী বড় হাওরের কৃষক খোকন মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৬৫ একর জমিতে ধান আবাদ করেছেন। কিন্তু ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ফলনের বড় অংশ হুমকির মুখে পড়েছে। একই এলাকার কৃষক রিপন মিয়া বলেন, তার ৮ একর জমির অধিকাংশই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
মান্দা এলাকার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, “ধান ভালো হলে দেনা শোধ করতে পারতাম। এখন অর্ধেক ফলনও পাবো কি না সন্দেহ।” তিনি জানান, ভালো ফলন হলে প্রায় আড়াই শ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।
কৃষক সজিদ মিয়া জানান, তার আড়াই একর জমির ব্রি-২৯ ধান ‘নেক ব্লাস্ট’-এ আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ শীষ সাদা হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, রোগ দমনে মাঠপর্যায়ে এখনো কার্যকর পরামর্শ ও সহায়তা তারা পর্যাপ্তভাবে পাচ্ছেন না।
এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে জ্বালানি সংকট। ধান কাটার মৌসুমে হারভেস্টার ও থ্রেশারসহ কৃষিযন্ত্র চালাতে প্রয়োজন হয় ডিজেল। কিন্তু হাওরাঞ্চলে বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, সময়মতো ডিজেল না পেলে মেশিন চালানো সম্ভব হবে না। এতে ধান কাটতে দেরি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অষ্টগ্রামে ২৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৭০ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকলেও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করা হচ্ছিল। তবে ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের বিস্তার এবং জ্বালানি সংকট সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, বোরো ধান কর্তন ও মাড়াই কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনজন ডিলার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানি থেকে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ডিজেল সংগ্রহ করছেন। খুব শিগগিরই এ ডিজেল অষ্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শফিকুর রহমান জানান, হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তবে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই ‘নেক ব্লাস্ট’ দমন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের উৎপাদন ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। একদিকে ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের বিস্তার, অন্যদিকে ধান কাটার মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি সংকট— দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন কৃষকরা। এতে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
হাওর জুড়ে এখন বোরো ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের মতে, আর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াই। তবে এরই মধ্যে অনেক কৃষক মাঠে গিয়ে ধানের শীষে রোগের লক্ষণ দেখে হতাশ হয়ে ফিরছেন। সবুজ ধানের মাঝে শুকিয়ে যাওয়া শীষ ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার ফলে শীষ চিটা হয়ে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার জোয়ান শাহী বড় হাওর, ধোপাবিল, মান্দা, কাইছনা, পাতাইরবন্ধ, চিনাকান্দি ও ভাতশালা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় রোগটির বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পর থেকেই ধানখেতে এ রোগ ছড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৭৫ জাতের ধানে বেশি আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
জোয়ান শাহী বড় হাওরের কৃষক খোকন মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৬৫ একর জমিতে ধান আবাদ করেছেন। কিন্তু ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ফলনের বড় অংশ হুমকির মুখে পড়েছে। একই এলাকার কৃষক রিপন মিয়া বলেন, তার ৮ একর জমির অধিকাংশই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
মান্দা এলাকার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, “ধান ভালো হলে দেনা শোধ করতে পারতাম। এখন অর্ধেক ফলনও পাবো কি না সন্দেহ।” তিনি জানান, ভালো ফলন হলে প্রায় আড়াই শ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।
কৃষক সজিদ মিয়া জানান, তার আড়াই একর জমির ব্রি-২৯ ধান ‘নেক ব্লাস্ট’-এ আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ শীষ সাদা হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, রোগ দমনে মাঠপর্যায়ে এখনো কার্যকর পরামর্শ ও সহায়তা তারা পর্যাপ্তভাবে পাচ্ছেন না।
এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে জ্বালানি সংকট। ধান কাটার মৌসুমে হারভেস্টার ও থ্রেশারসহ কৃষিযন্ত্র চালাতে প্রয়োজন হয় ডিজেল। কিন্তু হাওরাঞ্চলে বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, সময়মতো ডিজেল না পেলে মেশিন চালানো সম্ভব হবে না। এতে ধান কাটতে দেরি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অষ্টগ্রামে ২৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৭০ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকলেও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করা হচ্ছিল। তবে ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের বিস্তার এবং জ্বালানি সংকট সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, বোরো ধান কর্তন ও মাড়াই কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনজন ডিলার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানি থেকে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ডিজেল সংগ্রহ করছেন। খুব শিগগিরই এ ডিজেল অষ্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শফিকুর রহমান জানান, হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তবে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই ‘নেক ব্লাস্ট’ দমন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিয়ের আগে থেকেই নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়টি নাজমার স্বামী আলমগীর জানতে পারলে হৃদয়ের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধের পরিণতিতেই নাজমা ও আল
২ দিন আগে
বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সিরাজগঞ্জের বাসায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
২ দিন আগে
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, রোববার গভীর রাতে বায়েকের পাইওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
২ দিন আগে
গত এপ্রিলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জরুরি পাইপলাইন স্থানান্তরকাজের জন্য আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে পুরোনো বিতরণ ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপনের জন্য হাতিরপুল ও ধানমন্ডির কয়েকটি এলাকায় আট ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।
২ দিন আগে