মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে দম্পতি ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ১৬
মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে দম্পতি ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহীরচর জান্নাকান্দি এলাকায় একই ঘর থেকে সৌদি আরবপ্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার প্রিয়াঙ্কা (২৫) ও দেড় বছরের মেয়ে আলিজা নূরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একরামের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান একরাম। শনিবার বেলা বাড়লেও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে টিনের বেড়ার একটি অংশ ফাঁক করে একরামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে প্রিয়াঙ্কার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, মেয়ের সঙ্গে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। তাঁর অভিযোগ, একরামের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিনও দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভগ্নিপতি, বোন ও ভাগনিকে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

প্রিয়াঙ্কার মা আফরোজা ও বোন মিশু আক্তার অভিযোগ করেন, একরামের অত্যাচারের কারণে তাঁর আগের স্ত্রী চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, একরামের পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে প্রিয়াঙ্কাকে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে একরামের ভাই ওয়াসিম বলেন, চার ভাইয়ের মধ্যে তিনজনই বিদেশে থাকেন। প্রায় দুই মাস আগে দেশে ফেরার পর একরাম অধিকাংশ সময় ঘরেই থাকতেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো সমস্যা ছিল বলে তিনি জানেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, একরাম সৌদি আরবে থাকতেন এবং প্রায় দুই মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তাঁকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। তবে তাঁদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল এবং কোনো অর্থনৈতিক সংকট ছিল না বলে জানান তিনি। একরামের ভাই ওয়াসিম জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর ঘরে খাবার দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকালে তিনি বাহারিচর বাজারে ফার্মেসিতে যান। পরে দুপুরে বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর পান।

মরদেহ উদ্ধারের পর প্রিয়াঙ্কার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার সময় তাঁর বাবা মহসিন খান ও চাচা মোশারফ হোসেন বাধা দেন। তাঁদের দাবি, একরামের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত লাশ নিতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা জানান। পরে পুলিশ তাঁদের শান্ত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement