
নড়াইল প্রতিনিধি

অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে নড়াইলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফসল ঘরে উঠতে না উঠতেই ধানের বাজারদরে চরম হতাশা নেমে এসেছে স্থানীয় চাষিদের মনে। গত সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মণপ্রতি ধানের দাম কমেছে ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।
কৃষকদের অভিযোগ— ডিজেল, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের চড়া মূল্যের কারণে এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের সঠিক মূল্য মিলছে না। ফলে ধারদেনা ও ঋণ শোধ করে লাভের মুখ দেখা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন জেলার হাজার হাজার প্রান্তিক কৃষক।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। যেখানে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সোমবার নড়াইল জেলার অন্যতম বৃহৎ ধানের পাইকারি মোকাম সদর উপজেলার তুলারামপুর ও মাইজপাড়া হাটে সরেজমিন দেখা যায়, চাষিরা ভ্যান, ট্রলি ও গরুর গাড়িতে করে তাদের উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে আসছেন। বাজারে ধানের প্রচুর আমদানি থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ।
বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক ও ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে মোটা জাতের বোরো ধানের মধ্যে হাইব্রিড হীরা, ব্রি-ধান-৭৪, রড মিনিকেট; মাঝারি জাতের মধ্যে সুবর্ণালতা, ছক্কা, এসএল ৮ এইচ এবং সরু জাতের মধ্যে ব্রি-ধান-৫০, ৮৯ ও তেজগোল্ড প্রচুর পরিমাণে উঠেছে। বর্তমানে বাজারে মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং চিকন বা সরু ধান ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই এসব ধান প্রতি মণে আরও প্রায় ১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছিল।
বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সদর উপজেলার মূলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের কৃষক গণেশ বিশ্বাস বলেন, ‘এবার বোরো আবাদ করতে গিয়ে আমাদের জ্বালানি তেল, সার, শ্রমিক ও কীটনাশকসহ সবকিছুর পেছনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে। খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি, উল্টো কমে গেছে।’
একই গ্রামের কৃষক পাগল বিশ্বাস ও রসময় বিশ্বাস আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধারদেনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম। ফলন ভালো হওয়ায় ভেবেছিলাম ঋণ শোধ করে কিছু টাকা ঘরে তুলতে পারব। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম, তাতে লোকসান ঠেকানোই দায় হয়ে পড়েছে।’
কৃষকদের সংকটের পেছনে সাম্প্রতিক আবহাওয়া ও শ্রমিকের বাড়তি খরচকেও দায়ী করছেন অনেকে। লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক দাউদ মোল্যা জানান, পাকা ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আকস্মিক বর্ষায় ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমির ধান কাদা-পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ট্রলি বা গাড়িতে করে ধান আনা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে বাড়তি মজুরিতে অতিরিক্ত শ্রমিক (জোন) নিতে হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে গেছে।
একই সংকটের কথা জানান কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের নিম্নবিত্ত চাষি ফুল মিয়া শেখ। তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। মাঠের সব ধান এখনো কাটাও শেষ হয়নি, এর মধ্যেই শুনছি হাটে ধানের দাম কম। আমাদের মতো কৃষকদের এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে তুলারামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। চাষিদের উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে দেশের এই মূল চালিকাশক্তির ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের বোরো চাষের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’ কৃষকদের এই লোকসান ও উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে এবং কৃষকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে নড়াইলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফসল ঘরে উঠতে না উঠতেই ধানের বাজারদরে চরম হতাশা নেমে এসেছে স্থানীয় চাষিদের মনে। গত সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মণপ্রতি ধানের দাম কমেছে ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।
কৃষকদের অভিযোগ— ডিজেল, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের চড়া মূল্যের কারণে এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের সঠিক মূল্য মিলছে না। ফলে ধারদেনা ও ঋণ শোধ করে লাভের মুখ দেখা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন জেলার হাজার হাজার প্রান্তিক কৃষক।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। যেখানে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সোমবার নড়াইল জেলার অন্যতম বৃহৎ ধানের পাইকারি মোকাম সদর উপজেলার তুলারামপুর ও মাইজপাড়া হাটে সরেজমিন দেখা যায়, চাষিরা ভ্যান, ট্রলি ও গরুর গাড়িতে করে তাদের উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে আসছেন। বাজারে ধানের প্রচুর আমদানি থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ।
বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক ও ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে মোটা জাতের বোরো ধানের মধ্যে হাইব্রিড হীরা, ব্রি-ধান-৭৪, রড মিনিকেট; মাঝারি জাতের মধ্যে সুবর্ণালতা, ছক্কা, এসএল ৮ এইচ এবং সরু জাতের মধ্যে ব্রি-ধান-৫০, ৮৯ ও তেজগোল্ড প্রচুর পরিমাণে উঠেছে। বর্তমানে বাজারে মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং চিকন বা সরু ধান ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই এসব ধান প্রতি মণে আরও প্রায় ১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছিল।
বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সদর উপজেলার মূলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের কৃষক গণেশ বিশ্বাস বলেন, ‘এবার বোরো আবাদ করতে গিয়ে আমাদের জ্বালানি তেল, সার, শ্রমিক ও কীটনাশকসহ সবকিছুর পেছনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে। খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি, উল্টো কমে গেছে।’
একই গ্রামের কৃষক পাগল বিশ্বাস ও রসময় বিশ্বাস আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধারদেনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম। ফলন ভালো হওয়ায় ভেবেছিলাম ঋণ শোধ করে কিছু টাকা ঘরে তুলতে পারব। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম, তাতে লোকসান ঠেকানোই দায় হয়ে পড়েছে।’
কৃষকদের সংকটের পেছনে সাম্প্রতিক আবহাওয়া ও শ্রমিকের বাড়তি খরচকেও দায়ী করছেন অনেকে। লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক দাউদ মোল্যা জানান, পাকা ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আকস্মিক বর্ষায় ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমির ধান কাদা-পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ট্রলি বা গাড়িতে করে ধান আনা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে বাড়তি মজুরিতে অতিরিক্ত শ্রমিক (জোন) নিতে হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে গেছে।
একই সংকটের কথা জানান কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের নিম্নবিত্ত চাষি ফুল মিয়া শেখ। তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। মাঠের সব ধান এখনো কাটাও শেষ হয়নি, এর মধ্যেই শুনছি হাটে ধানের দাম কম। আমাদের মতো কৃষকদের এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে তুলারামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। চাষিদের উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে দেশের এই মূল চালিকাশক্তির ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের বোরো চাষের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’ কৃষকদের এই লোকসান ও উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে এবং কৃষকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছে।

ধাক্কায় শুভঙ্কর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় বাসটির পেছনের একটি চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান এসআই অনিরুদ্ধ।
৫ ঘণ্টা আগে
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় আজিজুল হককে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ জানান, রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। তিনি বলেন, “আন্দোলকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। এখন যান চলাচল শুরু হয়েছে। যানজট কমাতে আমরা কাজ করছি।”
২১ ঘণ্টা আগে
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে নোংরা জারে পানি সরবরাহ করছিল। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের মান সনদ ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের পানি বাজারজাত করা হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিযানে ৬ শতাধিক পানির জার ধ্বংস করা হয়।
১ দিন আগে