খুলনায় ‘চুরি করে ভাত খাওয়া’র দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

খুলনা প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০৩
আজমুল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আজমুল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে আজমুল হোসেন (২১) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল ভবনের ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন।

মেসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এ নিয়ে ভাত চুরির অভিযোগ তুলে মেহেদী, মেসের কয়েকজন ছাত্র ও কয়েকজন বহিরাগত তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে মেসের অন্য ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁর দুই পা ভাঙা ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান। মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, এর আগে আজমুলের বিরুদ্ধে টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগও উঠেছিল। শুক্রবারের ঘটনার সময় তিনি মারধর না করতে নিষেধ করলেও কেউ তাঁর কথা শোনেনি।

আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, পড়াশোনার জন্য প্রায় এক বছর আগে ছেলে খুলনায় আসেন। ২০২৫ সালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলেও মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌঁছান তিনি। রাত ৯টার দিকে ফোনে শেষবার কথা হলে আজমুল তাঁকে বলেন, ‘আমি ভালো আছি। তোমরা আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।’

কুতুব উদ্দিনের দাবি, রাত ১২টার পর আজমুলের ফোন থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে কল করে বলেন, তাঁর ছেলে ‘ঝামেলা’ করেছে এবং তাকে পেতে হলে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে। টাকা না দিলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও ওই ব্যক্তি জানান। কুতুব উদ্দিন বলেন, তিনি গরিব মানুষ ও কৃষিকাজ করেন জানালে তাঁকে দ্রুত খুলনায় আসতে বলা হয়। পরে সকালে এসে তিনি ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।’

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার বলেন, আজমুল ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তাঁর সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু জানে না। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনগতভাবে যা যা করা যায়, আমরা তাই করব।’ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
খুলনায় ‘চুরি করে ভাত খাওয়া’র দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’