ভাত চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে ‘হত্যা’: সাবেক খুবি শিক্ষার্থী আটক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পাশে একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরি’র অভিযোগে আজমুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’র ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
আটক মোঃ হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০) খুবির এফএমআরটি বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে।
গতকাল সোমবার রাতে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজমুলকে মারধরের সময় রিফাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান।’
নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। নগরের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ‘খাজা খানজাহান আলী’ আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি ছাত্রাবাসের গলি থেকে আজমুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। ভবনটির চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ নম্বর কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর জন্য রাখা ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।
পরে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে নিচে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। এরপর তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন শনিবার আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি রিফাত কৃষি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। আজমুলদের মেসে থেকেই তিনি ব্যাংকে যাতায়াত করতেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’

















