নড়াইলে ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা

নড়াইল প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ২০: ৫৫
মো. এনামুল কবির। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নড়াইলের কালিয়া উপজেলা শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. এনামুল কবিরকে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। জালিয়াতির পুরো বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ার পর কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল বাদী হয়ে কালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনামুল কবির চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কালিয়া কৃষি ব্যাংক শাখায় সহকারী ব্যবস্থাপকের (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তার জিম্মায় নন-এমআইসিআর (Non-MICR) পে-অর্ডারসহ ব্যাংকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত নিরাপত্তা দস্তাবেজ (সিকিউরিটি ডকুমেন্ট) সংরক্ষিত ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ অফিস শুরুর বেশ আগে ব্যাংকে প্রবেশ করেন এনামুল কবির। এরপর তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে সুরক্ষিত ভল্ট বা আলমারি থেকে একটি নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের পাতা (নম্বর-০৭২৬৯৯৯) সরিয়ে ফেলেন। পরে ওই পে-অর্ডারটি শাখার বাইরে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চক্রটি পে-অর্ডারটিতে কৃষি ব্যাংকের ঢাকা শ্যামলী শাখার নাম, কর্মকর্তাদের ভুয়া স্বাক্ষর ও সিল জাল করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) সিকিউরিটি ডিপোজিট (নিরাপত্তা জামানত) হিসেবে জমা দেয়।

পরবর্তীতে ওই জাল পে-অর্ডারটি নগদায়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঢাকার স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ে পাঠানো হলে কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে প্রধান কার্যালয় থেকে কালিয়া শাখায় চিঠি পাঠানো হলে জালিয়াতির পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, শুরুতে এনামুল কবির সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রদর্শনের পর তিনি নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি সুর বদলেছেন।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো. এনামুল কবির তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজটি আমার জিম্মায় ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি কোনোভাবে হারিয়ে গেছে। আমি নিজে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নই।’

জানা গেছে, অভিযুক্ত এনামুল কবিরের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের বন্দবিলা গ্রামে। তবে চাকরি সূত্রে তিনি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বুন্দশী গ্রামের মালোপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ছাড়া এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলমান রয়েছে। দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হবিগঞ্জেও এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ, সড়কে বসে প্রতিবাদ

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কেন আমাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছে? আমরা হবিগঞ্জে যেতে চাই। সেখানে গিয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’

১ দিন আগে

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা বালুভর্তি ২ ট্রলার ছিনতাই

জব্দ করা দুটি ট্রলার রাজীবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াদুদ জামান মানিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন এবং উচাখিলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাদীউল বাশার সুমনের জিম্মায় দিয়েছিল প্রশাসন। ট্রলারে ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য, কনস্টেবল বিমল চন্দ্র পাল এবং গ্রাম পুলিশ উজ্জ্বল ও

১ দিন আগে

শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধা পেরিয়ে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জের পথে

একপর্যায়ে হাসনাত বলেন, তিনি নিজেসহ আরও দুই সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ও মাহমুদা মিতু (সংরক্ষিত আসনে) এবং এনসিপির দুজন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য কেবল মামলা করতে যাবেন। প্রয়োজনে তারা গাড়ির চালককেও নেবেন না। পুলিশ চালক দিলে তাকে নিয়েই যাবেন তারা। তবে পুলিশ সে প্রস্তাবও মানেনি। পরে এনসিপি নেতারা ব্যারিক

১ দিন আগে

ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিধবা নারীর মামলা

বুধবার (২২ জুলাই) পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদী হিসেবে মামলাটি দায়ের করেন ওই বিধবা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার রেকর্ড করে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

১ দিন আগে