বেনাপোলে স্বজনরা, আসছে কলকাতায় অগ্নিদগ্ধ ৫ বাংলাদেশির মরদেহ

যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩১
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার এই ভবনেই অগ্নিদগ্ধ শিখা ইনসহ একাধিক হোটেলের অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির ৫ জনের মরদেহ আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে। দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহ গ্রহণ করতে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ আজ বেনাপোল দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। তারা হলেন— কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, আফসানার বাবা আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, কলকাতা থেকে রওনা দেওয়ার পর দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ ৫টি বেনাপোলে পৌঁছাতে পারে। তবে ঠিক কখন মরদেহগুলো সীমান্তে পৌঁছাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মরদেহ দেশে আনার কাগজপত্রের কাজ এখনো শেষ হয়নি জানিয়ে ওসি বলেন, মরদেহ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

এ ছাড়া কলকাতায় আগুনে নিহত সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নিহত অপর বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতেই সৎকার করা হবে।

রেবতী সরকারের সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন তার দুই সন্তান তৃষা সরকার ও অনীক সরকার। হরিদ্বার বেড়াতে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের রাতে তারা হোটেলে ছিলেন না। খবর পেয়ে হরিদ্বার থেকে ফিরে তারা মায়ের মরদেহ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

কলকাতাতেই মায়ের শেষকৃত্য করার কথা জানিয়েছেন অনীক। তিনি বলেছেন, আত্মীয়-স্বজনরা কলকাতাতেই দাহ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেটিই করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্ট ও ভিসার নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। তারা মায়ের দাহ কলকাতায় করার অনুমতিও পেয়েছেন।

এর আগে বুধবার রাত ২টার দিকে ‘শিখা ইন’ নামের ওই হোটেলে আগুন লাগে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৯ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি।

ডয়েচে ভেলে বাংলা, আনন্দবাজার ও বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম আলীর পরিচয় সবার আগে শনাক্ত করা হয়। পরে আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর পরিচয়ও শনাক্ত হয়। সবশেষে জানা যায়, সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান ও একই এলাকার রেবতী সরকারের নাম-পরিচয়।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন আগে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান। তিনি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তার মরদেহ নিতে ভাই মোহাম্মাদ আলী গতকাল শুক্রবার বিকেলে বেনাপোলে যান। তিনি বলেন, আজ ভোরে মরদেহ আসার কথা থাকলেও কখন তা পৌঁছাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না।

এদিকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের ৪ জনের মরদেহ আনতে তার শ্যালক ফিরোজ হাসান কলকাতায় রয়েছেন। তাদের স্বজনরা মরদেহ গ্রহণের জন্য বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণাশীষের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। আফসানা শারমীন ও আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। ৯ বছর আগে আফসানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন দেবাশীষ। ধর্মীয় ভিন্নতা তাদের দাম্পত্য জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই দম্পতির ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে বেঁচে আছে।

এর আগে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছিল, যত দ্রুত সম্ভব তারা মরদেহগুলো বাংলাদেশে স্বজনদের হাতে তুলে দিতে চান। উপদূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা হয়েছিল। তবে কলকাতা পুলিশের কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি ছিল। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছিল।

বন্ধ ১১ হোটেল, ১৭টিকে শোকজ

কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ফরেনসিক দল পুলিশকে জানিয়েছে, শিখা ইন হোটেলে একটি প্লাগ পয়েন্ট থেকে একাধিক রেফ্রিজারেটর চালানো হচ্ছিল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমনপথও।

এমনকি ওই হোটেলে ফায়ার সার্ভিসের কোনো অডিটও হয়নি। একই ভবনে আরও কয়েকটি হোটেল ছিল। শুধু ওই ভবন নয়, নিউমার্কেট এলাকাতেও একই ধরনের ভবনে একাধিক আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থারও কোনো বালাই নেই।

অগ্নিকাণ্ডের পর শুক্রবার ওই হোটেলটি যেখানে অবস্থিত, সেই নিউমার্কেট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে কলকাতা পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস। অভিযানে ১১টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে সহায়তা করতে পুলিশও সঙ্গে ছিল। অভিযানে ২৩ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের সাতটি ও ২৫ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের তিনটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস আরও ১৭টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, যার জবাব দিতে সময় দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টা। জবাব সন্তোষজনক না হলে এসব হোটেলও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলন নেতা হত্যা, মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

১ দিন আগে

গ্রিসযাত্রায় ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির সলিল সমাধি, নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৬ তরুণ

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা করে। জানা গেছে, নৌকায় থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি।

২ দিন আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের অনুষ্ঠানে মাদরাসাশিক্ষার্থীদের বাধা, সংঘর্ষে আহত ৩০

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

৩ দিন আগে

নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ১৫

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রায়পুরা সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, উপজেলা যুবদল সদস্য রাসেল ভূইয়া, ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন।

৩ দিন আগে